Journalist Attack West Bengal: সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, এই হামলার সঙ্গে নিট আন্দোলনের মূল আন্দোলনকারীদের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনের আড়ালে কিছু “বহিরাগত ও মৌলবাদী” শক্তি ঢুকে পড়ে অশান্তি সৃষ্টি করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাঁরা নিজেদের ‘কক্রোচ পার্টি’ বলে পরিচয় দিচ্ছেন, প্রথমে তাঁদেরই মিছিল ছিল। পরে বামপন্থী সংগঠনগুলি সেই কর্মসূচিতে যোগ দেয়। তবে পশ্চিমবঙ্গে যাঁরা প্রকৃত নিট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরা এই হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই জড়িত নন। আন্দোলনের সংগঠকরাও সামাজিক মাধ্যমে এই হামলার নিন্দা করেছেন এবং দায়িত্ব অস্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সাংবাদিকদের উপর হামলায় সাতটি মামলা
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ মামলাই আক্রান্ত সাংবাদিকরা নিজেরাই করেছেন। পুলিশও কয়েকটি মামলা করেছে।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আন্দোলন ও নির্বাচনের সময় সাংবাদিকরা আক্রান্ত হয়েছেন। পঞ্চায়েত নির্বাচন, ভাঙড়, সন্দেশখালি কিংবা আরজি কর আন্দোলনের সময়ও বহু সাংবাদিক মারধরের শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু অতীতে সেই ঘটনাগুলিতে তেমন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁর দাবি।
তাঁর কথায়, এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। তিনি নিজে হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেছেন। এর ফলে সাংবাদিকরা সাহস পেয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন, চিকিৎসা করিয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়ায় এগিয়ে এসেছেন।
ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার ১৪ জন
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে যাঁদের হামলায় জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে, তাঁদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তাঁর অভিযোগ, ধৃতদের কেউই ছাত্র নন এবং তাঁদের নিট আন্দোলনের সঙ্গেও কোনও সম্পর্ক নেই। বরং এরা “মৌলবাদী ও সমাজবিরোধী শক্তি”, যাদের উদ্দেশ্য দেশে অশান্তি সৃষ্টি করা এবং ভারতকে দুর্বল করা।
সাম্প্রতিক সরকারি পদক্ষেপেই ক্ষোভ?
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গত কয়েক সপ্তাহে রাজ্য সরকার যে একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে, সেই কারণেই কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন—
খারিজি মাদ্রাসার নথি ও নিবন্ধন নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
অবৈধ ওবিসি শংসাপত্র বাতিলের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে।
পশুহত্যা সংক্রান্ত আইন প্রয়োগে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে।
এই সব সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট কিছু গোষ্ঠীই অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বলে তাঁর অভিযোগ।
প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করার অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, বিক্ষোভ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর ছবিতে লাথি মারা হয়েছে এবং অত্যন্ত আপত্তিকর ভঙ্গিতে সেই ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
তাঁর প্রশ্ন, “এটি কি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ভাষা হতে পারে?” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, কিছু বিক্ষোভকারী জাতীয় পতাকাও সঠিকভাবে ধরতে জানতেন না এবং জাতীয় প্রতীকগুলির প্রতিও অসম্মান দেখিয়েছেন।
‘গুন্ডাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনেই ব্যবস্থা’
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যারা সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে গুন্ডা দমন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশ বা গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার সকলের রয়েছে এবং সরকার সেই অধিকারকে সম্মান করে।
কার্গিল বিজয় দিবসে শ্রদ্ধা
সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতেই কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে শহিদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কার্গিল যুদ্ধে যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি শহিদ বেদিতে মাল্যদান ও স্যালুট করেছেন। একই সঙ্গে অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে কার্গিল যুদ্ধে ভারতের ঐতিহাসিক বিজয়ের কথাও স্মরণ করেন।
বাস দুর্ঘটনা রোধে আসছে নতুন আইন
বাস দুর্ঘটনা ও সড়ক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় সরকার একটি নতুন বিল আনছে। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ধরনের ঘটনায় ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিতে বিশ্বাস করেন এবং আইনটি কার্যকর হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিলটি সংসদে পেশ হওয়ার আগে এর বিস্তারিত নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না বলেও জানান তিনি।
সবশেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে, কিন্তু হিংসা, ভাঙচুর এবং সাংবাদিকদের উপর হামলার মতো অপরাধ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা এই ধরনের অপরাধে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

