লিখেছেন শীর্ষেন্দু চক্রবর্তী
Abhishek Banerjee 21 July Speech: দৃশ্যপট ১: ২০২২ সালের ২১ জুলাই। প্রবল বৃষ্টি। মঞ্চে বক্তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সভাস্থলে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানালেন, “আমি ছাতা সরাচ্ছি। আপনারাও সরাবেন তো? কারণ, বৃষ্টি ২১ জুলাইয়ের পক্ষে শুভ। সমার্থকও বটে।”
সেই ঘোষণার পরবর্তী দৃশ্যটি ভোলার নয়। অভিষেকের মাথার উপর থেকে ছাতা সরেছিল। কিন্তু বিশ্বাস করুন, সভাস্থলে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের একজনও সে দিন ছাতা সরাননি। সে দিনই বোধহয় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, দলের সাধারণ কর্মীরা অভিষেকের আহ্বানে সাড়া দিতে চাননি।
প্রশ্ন এখানেই—সে দিন কি ভবিষ্যৎ দেখতে পেরেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? দেখার ইচ্ছে ছিল? নাকি সেই দূরদর্শিতা আদৌ তাঁর মধ্যে ছিল না?
দৃশ্যপট ২: ২০২৫ সালের ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পোস্টারে প্রথমে ছাপা হয়েছিল অভিষেকের ছবি। কিন্তু অভিষেক নিজেই সেই ছবি সরাতে বলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, “১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই আমি ছিলাম না। ফলে আমার ছবি পোস্টারে দেওয়া ঠিক নয়।”
কিন্তু তা হলে ২০২৬ সালে কী হলো? যখন অভিষেকের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে দলের নেতা-নেত্রীরা তৃণমূল ছাড়ছেন, তখন কেন মমতার সঙ্গে আবারও ছাপা হলো অভিষেকের ছবি? দলের এই করুণ দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কতটা দিকভ্রান্ত, তা কি আবারও প্রমাণিত হলো? নাকি যে অভিযোগ বারবার শোনা যাচ্ছে, সেটিই সত্যি—দলের রাশ এখন মমতার হাত থেকে সম্পূর্ণভাবে চলে গিয়েছে অভিষেকের হাতে? নাকি আগামী দিনে মানুষ কী চাইছেন, সেটাই আর বুঝতে পারছেন না তিনি?
এমন একাধিক প্রশ্ন ঘুরেফিরে সামনে আসছে। এটাও ঠিক, তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান অবস্থা দেখেই এই প্রশ্নগুলি উঠছে। দলটি কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে; সেই কারণেই বারবার আলোচনায় আসছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস কেউ অস্বীকার করতে পারেন না। স্বয়ং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে বাম নেতা শতরূপ ঘোষের মুখেও একাধিকবার শোনা গিয়েছে তাঁর সংগ্রামের কথা। কিন্তু মমতা কি সত্যিই দক্ষ সংগঠক?
ব্যক্তি মমতার আকর্ষণ, সাহস ও লড়াই নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও ২০২৬ সালের ৪ মে-র পর অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট—মমতা মানুষ চিনতে পারেননি। দল পরিচালনার দক্ষতা নিয়েও তাই প্রশ্ন উঠেছে। তিনি কতটা দূরদর্শী নেত্রী, কতটা বাস্তববাদী, প্রশাসক বা সংগঠক হিসেবে কতটা সফল—সবকিছুই এখন নতুন করে মূল্যায়নের মুখে।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে—কেন বলা হচ্ছে এই কথাগুলি? হয়তো তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি না হলে এই প্রশ্নগুলি উঠত না, আলোচনাও হতো না।
আসলে আজ দিনের আলোর মতো স্পষ্ট, তৃণমূল কংগ্রেস দাঁড়িয়ে ছিল সুবিধা ও ক্ষমতার উপর। নীতি, আদর্শ কিংবা ভালোবাসার উপর নয়। অনেকে বলে থাকেন, তৃণমূলের আদর্শ বলতে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এই কথাটিও এখন জোর দিয়ে বলার আগে দু’বার ভাবতে হয়।
যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দলের একমাত্র আদর্শ হতেন, তা হলে এভাবে এত নেতা তাঁকে ছেড়ে যেতে পারতেন না। যদি তাঁকে ভালোবেসে বা শ্রদ্ধা করে তাঁরা দল করতেন, তা হলে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হতো না। বাস্তবতা হলো, দলের অধিকাংশ নেতা মমতাকে সম্মান করার চেয়ে তাঁর কাছ থেকে সুবিধা নেওয়াতেই বেশি আগ্রহী ছিলেন। অথবা যাঁদের নিয়ে মমতা দল গড়েছিলেন, তাঁদের চিনতেই পারেননি তিনি।
সেখান থেকেই আবারও প্রশ্ন ওঠে তাঁর দূরদর্শিতা নিয়ে।
আর একটি কথা। আগে বহুবার শোনা গিয়েছিল, তৃণমূল কংগ্রেসের পরবর্তী দুটি প্রজন্ম নাকি তৈরি রয়েছে। এখন প্রশ্ন—কোথায় সেই প্রজন্ম? কারা তৈরি আছেন?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই দলটি টুকরো টুকরো হয়ে গেল। তিনি না থাকলে কী হবে, তা সহজেই অনুমেয়।
#AbhishekBanerjee #21July #MartyrsDay #TrinamoolCongress #WestBengalPolitics #PoliticalSpeech #Kolkata #BengalNews #TMC

