লিখেছেন শীর্ষেন্দু চক্রবর্তী
Sheikh Hasina Return to Bangladesh: রাজনৈতিক অস্তিত্ব বাঁচাতে শেষ চেষ্টা চালাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খুন, গুম, চুরি ও গণহত্যা-সহ একাধিক অভিযোগের দায়ে দেশ থেকে পলাতক শেখ মুজিব-কন্যা এবার বাংলাদেশে ফেরার কথা বলছেন। এমনকি, দাবি করেছেন চলতি বছরের ডিসেম্বরেই তিনি দেশে ফিরবেন।
তাঁর কথায়, “আমি দেশে ফিরলেই ওরা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে। আমাকে মেরেও ফেলতে পারে। কিন্তু তবু আমাকে যেতে হবে। আমার দলের নেতা-নেত্রী ও কর্মীরা প্রচণ্ড চাপে আছেন। শেষ পর্যন্ত যদি মৃত্যুই আসে, তা হলে চাইব, নিজের দেশের মাটিতেই যেন মৃত্যু হয়। যেখানে আমার বাবা-মাকে কবর দেওয়া হয়েছে, যে মাটিতে তাঁদের রক্ত মিশে আছে।”
হাসিনার সংযোজন, “আমাদের দলের মোটামুটি সব নেতা-নেত্রী ও কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। তাই আমি তাঁদের বলেছি, এবার আমি দেশে ফিরব। একদিন আপনাদেরও ফিরতে হবে। আমরা সকলে মিলে আদালতে আত্মসমর্পণ করব।”
যদিও বাংলাদেশের প্রশাসনের তরফে এর পরেই স্পষ্ট করা হয়েছে, আত্মসমর্পণের কোনও সুযোগ হাসিনা পাবেন না। তাঁকে গ্রেপ্তারই করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তথা মুখ্য সরকারি আইনজীবী মহম্মদ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, “শেখ হাসিনা ভারত সরকারের আশ্রয়ে নির্বাসনে আছেন। ব্যক্তিগতভাবে দেশে ফিরে স্বাধীনভাবে তাঁর আত্মসমর্পণের কোনও আইনি সুযোগ নেই। নির্বাসন থেকে তাঁকে দণ্ডিত ব্যক্তি হিসেবেই গ্রেপ্তার হয়ে আসতে হবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীকে তুলে দিতে হবে ভারত সরকারকে। হয় প্রত্যর্পণ চুক্তি মেনে ফেরাতে হবে, নয়তো পুশব্যাক করতে হবে। আর এখানে পা রাখামাত্র তিনি আর কোনও সুযোগ পাবেন না। সোজা জেলযাত্রা হবে তাঁর।”
হাসিনার প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত এই খবরটি আপাতভাবে সাধারণ মনে হলেও বাস্তবে তা নয়। প্রায় আড়াই বছর পরে কেন দেশে ফেরার কথা বললেন তিনি? যখন বাংলাদেশের মাটিতে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ তিনি নিজেই বারবার তুলেছিলেন, তখন কেন দেশে ফেরার চেষ্টা করেননি? প্রশ্নটা সেখানেই—এত দিন পরে কেন?
যাঁরা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে কাজ করেন, হাসিনার এই ‘বোধোদয়’-এর পিছনে অন্য সমীকরণও দেখছেন তাঁরা। তাঁদের যুক্তি, ক্রমেই প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছেন শেখ মুজিব-কন্যা। বাংলাদেশের মানুষ তাঁকে আর গ্রহণ করতে চাইছেন না। এমনকি, নিজ দল আওয়ামী লীগের সর্বস্তরেও তাঁর আগের মতো প্রভাব নেই।
অন্যদিকে, নয়াদিল্লিও ধীরে ধীরে তার অবস্থান বদলেছে। ব্যক্তি-নির্ভরতার বদলে দেশকেন্দ্রিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী ভারত। সেই কারণেই বাংলাদেশের বর্তমান তারেক রহমান সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় করতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে নরেন্দ্র মোদি প্রশাসন।
এই প্রেক্ষাপটে হাসিনা যদি ভারতে অবস্থান করেন, তা হলে কোথাও গিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক ও সহজ হওয়া কঠিন হতে পারে। ফলে ভারত ছাড়ার জন্য হাসিনার উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চাপ তৈরি হতে পারে, কিংবা ইতিমধ্যেই হয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে।
সেই কারণেই বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন হাসিনা—এমন ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন অনেকে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বাংলাদেশে ফিরে জেলে গেলেও অন্তত নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার সুযোগ পাবেন তিনি। ভারতে থেকে গেলে সেই সুযোগ ক্রমশই ক্ষীণ হয়ে যেতে পারে।
#SheikhHasina #Bangladesh #BangladeshPolitics #AwamiLeague #SouthAsia #PoliticalNews #SheikhMujiburRahman #BangladeshNews

