লিখেছেন শুভ্র চক্রবর্তী
Baishakhi Banerjee Interview: শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতো একনিষ্ঠ ও সৎ নেতাদের দূরে সরিয়ে দেওয়ার ফলই আজ ভুগছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—প্রথম কলকাতার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনই দাবি করলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপিকার অভিযোগ, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মমতাকে ঘিরে থাকা একাংশ নেতা তাঁকে বাস্তব পরিস্থিতি থেকে দূরে রেখেছেন। তাঁর ভাষায়, অরূপ বিশ্বাস ও ফিরহাদ হাকিমের মতো নেতারাই তৃণমূল নেত্রীকে ভুল পথে চালিত করেছেন।
বৈশাখীর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁদের সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করতেন, ক্ষতিটাও হয়েছে তাঁদের হাত ধরেই। তাঁর দাবি, “শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতো নেতাকে সরিয়ে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের রাজনৈতিক ক্ষতিই করেছেন। যাঁরা তাঁকে সত্যি ভালবাসতেন, তাঁদের কথা না শুনে তিনি চারপাশের সুবিধাভোগীদের কথায় বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।”
ফিরহাদ হাকিমকে নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বৈশাখী। তাঁর দাবি, ফিরহাদের নেতৃত্বে থাকা একাংশ ব্যক্তি তাঁকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিলেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, তৃণমূলের কয়েকজন নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ককে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছেন। তাঁর অভিযোগ, “আমাদের শুধু সম্মানহানি করা হয়নি, ব্যক্তি হিসেবে আমাদের অস্তিত্বটাই মুছে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল।”
তবে শোভনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে কোনও দ্বিধা রাখেননি বৈশাখী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “আমার এবং শোভনের সম্পর্ক কেউ ভাঙতে পারবে না। কোনওদিন যদি এই সম্পর্ক নষ্ট হয়, তা হবে শুধু আমাদের নিজেদের সিদ্ধান্তে। বাইরে থেকে কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না।”
একসময় তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরে বৈশাখী বিজেপিতে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে বিজেপির সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হয়। বারবার রাজনৈতিক অবস্থান বদলের অভিযোগ প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসে থাকার সময় তাঁর পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনকে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা হয়েছিল। মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো, শারীরিক হেনস্থা এবং চোখে লঙ্কার গুঁড়ো ছিটিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনার অভিযোগও করেছেন তিনি। বৈশাখীর কথায়, সেই পরিস্থিতিই তাঁকে অধ্যক্ষের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করেছিল।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে যে প্রশ্ন উঠছে, তা নিয়েও অন্য অবস্থান নিয়েছেন বৈশাখী। তাঁর বক্তব্য, “একটা সময় অভিষেকের নেতৃত্বেই দল চলেছে। তখন অনেকেই তাঁর কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন। এখন ফল খারাপ হওয়ার পরে সব দায় তাঁর উপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।” বৈশাখী জানিয়েছেন, অভিষেকের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগ খুব সীমিত হলেও কখনও অপমানজনক আচরণের মুখোমুখি হননি।
তবে তৃণমূলের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের দায় শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের উপরেই চাপিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সত্যিকারের অনুগতদের দূরে সরিয়ে সুবিধাভোগীদের গুরুত্ব দেওয়ার রাজনৈতিক মূল্য এখন দিতে হচ্ছে তৃণমূল নেত্রীকে।
বৈশাখীর কথায়, “যাঁরা তাঁকে সত্যি ভালবাসতেন, তাঁদেরই তিনি দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। সেই অপমানের ফলই এখন ভোগ করছেন।” তাঁর পর্যবেক্ষণ, তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থান যেমন নাটকীয় ছিল, পতনও তেমনই আলোচিত হয়ে থাকবে।
ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে তৃণমূলের উত্থান, পনেরো বছরের শাসন এবং পতনের কারণ নিয়ে গবেষণা করতে চান বলেও জানিয়েছেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়।
একান্ত সাক্ষাৎকারে তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, শোভন–বৈশাখী পর্বকে তিনি শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিতর্ক হিসেবে দেখছেন না। তাঁর ব্যাখ্যায় এটি তৃণমূলের অন্দররাজনীতি, নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতারও একটি অধ্যায়।
#BaishakhiBanerjee #MamataBanerjee #ShovonChatterjee #TrinamoolCongress #WestBengalPolitics #PoliticalNews #KolkataNews #BengalPolitics

