Jagannath Rath Yatra: নিজস্ব প্রতিবেদন: মন্দিরের গর্ভগৃহ ছেড়ে দেবতা যখন ভক্তের কাছে আসেন, তখনই রথযাত্রা। জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার এই যাত্রা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; ভক্তি, সাম্য ও মিলনের উৎসব। পুরীর শ্রীমন্দির থেকে গুণ্ডিচা মন্দির পর্যন্ত তিন রথের যাত্রা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারতীয় আধ্যাত্মিকতার অন্যতম বৃহৎ জনউৎসব। জগন্নাথের নন্দীঘোষ, বলভদ্রের তালধ্বজ এবং সুভদ্রার দর্পদলন টানতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত পুরীতে সমবেত হন।
পশ্চিমবঙ্গেও রথযাত্রার ইতিহাস বহু পুরনো। হুগলির মাহেশের রথ ভারতের প্রাচীনতম রথযাত্রাগুলির অন্যতম। কলকাতার ইসকন, মহিষাদল, গুপ্তিপাড়া এবং বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্যবাহী রথ ঘিরেও প্রতি বছর বিপুল জনসমাগম হয়। এবার ১৬ জুলাইয়ের রথযাত্রাকে সামনে রেখে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
১৩ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, রাজ্যের নির্বাচিত ৬০টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়া হবে। ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং উৎসবকে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যেই এই আর্থিক সহায়তা বলে জানিয়েছে সরকার। পাশাপাশি জেলায় জেলায় পুণ্যার্থীদের জন্য সেবাশিবির খোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেখানে পানীয় জল, ওআরএস, প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা থাকবে।
এবার বিশেষ নজরে রয়েছে দীঘার জগন্নাথ মন্দির। ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্দিরটির উদ্বোধন করেন। সেই বছর প্রথম রথযাত্রায় তিনি উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের সূচনা করেছিলেন। প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা ধরে নিরাপত্তা, যান নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসাব্যবস্থা সাজানো হয়েছিল। নিরাপত্তার কারণে সাধারণ ভক্তদের রথ টানতে দেওয়া হয়নি; প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকেরাই রথ পরিচালনা করেছিলেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সময়ে দীঘার জগন্নাথধামকে ধর্মীয় পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। মন্দিরের প্রসাদ রাজ্যের এক কোটির বেশি পরিবারে পৌঁছে দেওয়ার কর্মসূচিও নেওয়া হয়। সেই উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও দীঘায় ভক্ত ও পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছিল।
বর্তমান বিজেপি সরকার দীঘার রথযাত্রার আয়োজন চালু রেখেছে। তবে এবারের ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণ ভক্তদেরও রথের রশি স্পর্শ ও টানার সুযোগ দেওয়া হবে। অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে ড্রোন নজরদারি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী, মহিলা পুলিশের বিশেষ দল, দমকল এবং সমুদ্রসৈকতে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন দীঘা ও মহিষাদলের রথযাত্রাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
এবার পশ্চিমবঙ্গের রথযাত্রায় দুটি ধারাই পাশাপাশি থাকছে—তৃণমূল সরকারের তৈরি দীঘার জগন্নাথধামকে ঘিরে উৎসবের ধারাবাহিকতা এবং বিজেপি সরকারের রাজ্যজুড়ে নির্বাচিত রথ কমিটিকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা। পুরী থেকে মাহেশ, কলকাতা থেকে দীঘা—১৬ জুলাই রথযাত্রাকে ঘিরে ধর্মীয় আচার, জনসমাগম, পর্যটন এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির বড় পরীক্ষা হবে।
#JagannathRathYatra #LordJagannath #PuriRathYatra #GundichaTemple #Nandighosha #Taladhwaja #Darpadalana #HinduFestival #Odisha #SpiritualIndia

