লিখেছেন রিমিতা রায়
Baruipur Protest: কালীঘাটের গলি। সামনে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যারিকেড। তার মধ্যেই হাতে মোমবাতি নিয়ে পথে নামলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারুইপুরের কিশোরীর বিচার চেয়ে ৬ জুলাইয়ের সেই মিছিল যেন বাংলার রাজনীতিতে বহুদিনের পরিচিত একটি ছবি ফিরিয়ে আনল—প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা আন্দোলনকারী মমতার ছবি।
কিন্তু সময় বদলেছে। একসময় সরকারবিরোধী আন্দোলন মমতাকে ক্ষমতায় পৌঁছে দিয়েছিল। এখন তিনি নিজেই পনেরো বছরের শাসনের দায় নিয়ে বিরোধী আসনে। ২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয় এবং মমতার নিজের কেন্দ্র হারানো রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে। এর মধ্যেই সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক-সহ কয়েকজন পরিচিত নেতা দল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে বারুইপুর মমতার কাছে শুধু নারী ও শিশু নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়; নিজের পুরনো রাজনৈতিক ভাষা ফিরে পাওয়ারও সুযোগ। তৃণমূলের দাবি, বিপদের সময়ে মানুষের পাশে থাকাই তাঁর রাজনীতির পরিচয়। বিরোধীদের পাল্টা প্রশ্ন—আরজি করের ঘটনার সময় তৎকালীন সরকার ও কলকাতা পুলিশের প্রাথমিক পদক্ষেপ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, সেই দায় কি মোমবাতির মিছিল মুছে দিতে পারে? আরজি করের তদন্ত নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ তখনকার প্রশাসনকে কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছিল।
তৃণমূল অভিযোগ করেছে, মমতাকে বারুইপুরের পরিবারের কাছে যেতে বাধা দিতেই কালীঘাটে বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। পুলিশ এ নিয়ে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দেয়নি। পরে মমতা পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
বারুইপুর তাই দুটি সমান্তরাল কাহিনি তৈরি করেছে। একটি, সন্তানহারা পরিবারের বিচার পাওয়ার লড়াই। অন্যটি, ক্ষমতা হারানো এক নেত্রীর রাজনৈতিক পুনরাগমনের চেষ্টা।
মোমবাতির আলো মানুষের আবেগ স্পর্শ করতে পারে। কিন্তু হারানো বিশ্বাস ফেরাতে শুধু পথের প্রতিবাদ নয়—অতীতের দায় স্বীকার, সংগঠনের পুনর্গঠন এবং বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প রাজনীতিও প্রয়োজন। বারুইপুরে মমতা পথে ফিরেছেন। মানুষ তাঁর সঙ্গে ফিরবেন কি না, সেটিই আগামী দিনের প্রশ্ন।
#BaruipurProtest #MamataBanerjee #TrinamoolCongress #WestBengalPolitics #CandlelightMarch #BengalNews #PoliticalNews #Justice #Baruipur

