9/11 Terrorist Attack: নাইন ইলেভেন হামলার ২৫ বছর পূর্তির আগে সিআইএর প্রকাশিত ৭১টি গোয়েন্দা নথিতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর দাবি। ১৯৯৮ সালেই ওসামা বিন লাদেনের আল-কায়দা নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য নিশানার তালিকায় ভারত ও পাকিস্তানের নাম ছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
২০২৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পূর্ণ হল আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আল-কায়দার ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ২৫ বছর। নাইন ইলেভেন নামে পরিচিত সেই হামলার নেপথ্যে থাকা কুখ্যাত ওসামা বিন লাদেনকে বিশ্বের অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে হামলার ২৫ বছর পূর্তির আগে প্রকাশ্যে আসা মার্কিন গোয়েন্দা নথিতে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় হামলার বহু আগে থেকেই লাদেনের আল-কায়দা নেটওয়ার্ক একাধিক দেশকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। সেই তালিকায় ছিল ভারত ও পাকিস্তানও। ১৯৯৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের জন্য তৈরি করা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এই পরিকল্পনার উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
১৯৯৮ সালের নথিতে লাদেনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত
নাইন ইলেভেন সংক্রান্ত ৭১টি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিআইএ। এই নথিগুলির মধ্যেই একটি প্রতিবেদনে লাদেনের জঙ্গি নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ১৯৯৮ সালের ২৮ আগস্ট প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘বিন লাদেন টেররিস্ট নেটওয়ার্ক স্টিল আ থ্রেট’। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লাদেনের নেতৃত্বাধীন আল-কায়দা একাধিক দেশে হামলার পরিকল্পনা করেছিল।
নথিতে সম্ভাব্য নিশানা হিসেবে মিশর, কুয়েত, সৌদি আরব, ইয়েমেন, ভারত, পাকিস্তান, উগান্ডা এবং নাইজেরিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকার মাটিতে ভয়াবহ হামলার কয়েক বছর আগেই লাদেনের নেটওয়ার্ককে নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা মহলে বড় ধরনের সতর্কতা তৈরি হয়েছিল।
মার্কিন আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, আল-কায়দা আলবেনিয়ার তিরানা এবং আজারবাইজানের বাকুতেও সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল। লাদেনের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে গ্রেফতার করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে মার্কিন প্রশাসন সহায়তা করেছিল বলেও ওই তথ্যের মধ্যে উল্লেখ রয়েছে।
দূতাবাসে হামলার পর নজরে আসে আল-কায়দা
১৯৯৮ সালের ৭ আগস্ট নাইরোবি এবং দারেস সালামে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলিতে বোমা হামলার কয়েক দিন পরেই লাদেনের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে সতর্কবার্তা পাওয়া গিয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ওই হামলায় অন্তত ২৪ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
এর পরেই আল-কায়দা এবং ওসামা বিন লাদেনকে ঘিরে সারা বিশ্বের নজর আরও বাড়তে থাকে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি লাদেনের কার্যকলাপ এবং তালিবানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ওপর নজরদারি চালিয়ে যেতে থাকে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়েও সতর্কতা বাড়ানো হয়।
সিআইএর প্রকাশিত নথির দাবি অনুযায়ী, লাদেনের জঙ্গি নেটওয়ার্ক শুধু একটি দেশকে নয়, একাধিক দেশকে সম্ভাব্য নিশানা হিসেবে দেখেছিল। সেই তালিকায় ভারতের নাম থাকার বিষয়টিই নাইন ইলেভেনের ২৫ বছর পূর্তির আগে প্রকাশিত নথিগুলির অন্যতম উল্লেখযোগ্য তথ্য হিসেবে সামনে এসেছে।
ভারতের সংসদ ভবনেও জঙ্গি হামলা
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় হামলার পর ভারতও বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়। ২০০১ সালের ডিসেম্বরে লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মহম্মদ গোষ্ঠীর জঙ্গিরা নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ভারতের সংসদ ভবন চত্বরে হামলা চালায়।
ওই হামলায় নয় জন নিহত হন। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে হামলাকারী পাঁচ জঙ্গিই নিহত হয়েছিল বলে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়। লাদেনের আল-কায়দা নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য হামলার তালিকায় ভারত ও পাকিস্তানের নাম আগে থেকেই ছিল বলে সিআইএর নথিতে যে দাবি করা হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের সংসদ ভবনে হামলার ঘটনাটিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সংসদ ভবনে হামলা চালানো জঙ্গিরা লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মহম্মদ গোষ্ঠীর সদস্য ছিল। লাদেনের আল-কায়দা নেটওয়ার্কের পরিকল্পনার সঙ্গে ওই হামলার সরাসরি যোগসূত্রের দাবি এখানে করা হয়নি।
লাদেনের খোঁজে পাকিস্তানেই পৌঁছেছিল আমেরিকা
ওসামা বিন লাদেন এবং তাঁর আল-কায়দা নেটওয়ার্কের সন্ধানে আমেরিকার অভিযানের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল পাকিস্তান। সিআইএর নথি অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা লাদেনের কার্যকলাপ এবং তালিবানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ওপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছিল।
লাদেন তাঁর জীবনের শেষ সময় পাকিস্তানেই গা ঢাকা দিয়ে কাটিয়েছিলেন বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়। ২০১০ সালে একটি গোয়েন্দা সংস্থা তাঁর এক বার্তাবাহারীর গতিবিধি অনুসরণ করতে শুরু করে। সেই সূত্র ধরেই ইসলামাবাদের অদূরে একটি বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়। ওই বাড়িতেই লাদেনের অবস্থান সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দারা নিশ্চিত হতে সক্ষম হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।
এর পর ২০১১ সালের ২ মে মার্কিন বাহিনী একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে। দীর্ঘদিন ধরে চলা লাদেনের সন্ধান এবং তাঁকে ঘিরে মার্কিন গোয়েন্দা তৎপরতার পর সেই অভিযান ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি।
নাইন ইলেভেনের ২৫ বছর পূর্তিতে নতুন করে সামনে নথি
২০২৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নাইন ইলেভেন হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। সেই সময়েই সিআইএর প্রকাশ করা ৭১টি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মধ্যে ১৯৯৮ সালের নথিতে লাদেনের জঙ্গি নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানকে সম্ভাব্য নিশানা হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি এই নথির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের বহু আগে থেকেই লাদেনের নেটওয়ার্ক নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সতর্কতা ছিল বলে নথিগুলি থেকে দাবি করা হয়েছে।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার মধ্য দিয়ে আল-কায়দার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যে মাত্রায় বিশ্বের সামনে এসেছিল, তার আগে থেকেই বিভিন্ন দেশে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে গোয়েন্দা নজরদারি চলছিল। নাইরোবি ও দারেস সালামে মার্কিন দূতাবাসে হামলা, লাদেনের নেটওয়ার্ক নিয়ে সতর্কবার্তা, বিভিন্ন দেশে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা এবং পরে পাকিস্তানে লাদেনের অবস্থান শনাক্ত করা—এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলিই নাইন ইলেভেনের পটভূমিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে প্রকাশিত নথিতে উঠে এসেছে।
২৫ বছর পর সেই পুরনো গোয়েন্দা নথি প্রকাশ্যে আসায় লাদেনের পরিকল্পনা এবং আল-কায়দার বিস্তৃত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আগের সতর্কতাগুলিও নতুন করে সামনে এসেছে।
#911TerroristAttack #September11Attacks #OsamaBinLaden #AlQaeda #CIADocuments #TerroristThreat #IndiaTerrorThreat













