ডোডেনড্রনে চারপাশ লাল। তার মাঝখান দিয়ে সূর্যের রক্তিম আভা যেন চারপাশ আরও লাল করে রেখেছে। উত্তরবঙ্গের আরেক অফবিট জায়গার খোঁজে প্রথম কলকাতা।
যেখানে সবুজে মোড়া পাহাড় যেন নরম গালিচা। ভেসে রয়েছে হিমালয় পাহাড়ের কোলে। মুহুর্মুহু রং বদলাচ্ছে, এই কমলা, তো এই উজ্জ্বল হলুদ, এই আবার গোলাপি-বেগুনির মিশেল! তুষারে ঢাকা হিমালয়কে দেখলে মনে হবে জীবনে আর কিচ্ছু চাই না। আজকে আমাদের গন্তব্য রিকিসুম।
এই গেরামের ঠিক পিছনেই রয়েছে নেওড়া ভ্যালি জঙ্গল । আর তার কারণেই এখানে জীববৈচিত্র্যও অসামান্য। হরেক রকম পাখি এবং বন্য জন্তুর দেখা মেলে রিকিসুমে। অবস্থানগত কারণেই ব্রিটিশ শাসকদের এতটাই পছন্দ ছিল পাহাড়ি এই গ্রাম, যে রিকিসুমে পাহাড়ের চূড়ায় একটি বাংলো তৈরি করেছিলেন তাঁরা। সেই বাংলো এখন আর অক্ষত নেই বটে, তবে ইতিহাসের সেই ধ্বংসাবশেষ রয়ে গেছে এখনও।পরবর্তী সময় এই বাংলোর একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে সেই বাংলোর ধ্বংসস্তুপ দেখতে পাবেন। অন্যরকম অনুভূতি হবে।
রিকিসুম থেকে মাত্র আধঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে চলে যাওয়া যায় রিশপ। দুটো দিন এখানে নিরিবিলিতে কাটিয়ে চাইলে রিশপেও থাকতে পারেন একটা দিন। এছাড়া লাভা, পেডং, সিলেরি গাঁও থেকেও ঘুরে আসা যায়। পূর্ব সিকিমের বিস্তীর্ণ অঞ্চল, তিব্বতের কিছু অংশও দেখা যায় রিকিসুম থেকে।
সত্যিই এই রিকিসুম ফুলে ফুলে ভরা। মার্চ থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে যদি আসেন তবে দেখতে পাবেন রোডোডেনড্রন আর ম্যাগনালিয়া ফুল থোকায় থোকায় ফুটে রয়েছে। অপূর্ব সেই রূপ। আসলে পাহাড়ের রূপ প্রতিটি ঋতুতেই এক এক রকম। রিমঝিম বর্ষাতেও রিকিসুম খারাপ নয়। তবে সেই সময় কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন হবে কিনা সেটা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না। তবে মেঘের খেলা দেখতে পাবেন পাহাড় জুড়ে।
পেডং থেকে ৮ কিলোমিটার আর কালিম্পং থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে এই রিকিসুম। একেবারে নিরিবিলি পাহাড়ি গ্রাম। একাধিক হোমস্টে গজিয়ে উঠেছে। আগে থেকে বুক করে সেখানে চলে আসতে পারেন।পাহাড়ে প্রায় ৬ হাজার ফুট উচ্চতায় এই রিকিসুম। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার ৩৬০ ডিগ্রি রূপ আপনি দেখতে পাবেন। ভিউ পয়েন্ট থেকেই আপনি সূর্যোদয় দেখতে পারেন। সারা জীবন মনে থাকবে।পরবর্তী সময় এই বাংলোর একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে সেই বাংলোর ধ্বংসস্তুপ দেখতে পাবেন। অন্যরকম অনুভূতি হবে।
শিলিগুড়ি থেকে সড়ক পথে রিকিসুমের দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার। এনজেপি স্টেশনে নেমে ভাড়ার গাড়িতে চেপে পৌঁছে যাওয়া যায় এই গ্রামে। এই গ্রামের সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর হল বাগডোগরা। এবার সেখান থেকে সোজা গাড়ি। চাইল যেতে যেতে রাস্তাতে সাইটসিয়িং করে নিতে পারেন।














