West Bengal Mid-Day Meal: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুলগুলিতে মধ্যাহ্নভোজ ব্যবস্থাকে ঘিরে বড় পরিবর্তন সামনে এল। চার জেলায় ইসকনের সঙ্গে যুক্ত অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনকে সরকারি স্কুলে মধ্যাহ্নভোজ সরবরাহের জন্য দেওয়া আগের অনুমোদন প্রত্যাহার করেছে রাজ্য সরকার। এই সিদ্ধান্তের আওতায় রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, পুরুলিয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুর। ফলে যে ব্যবস্থায় স্কুলের বাইরে থেকে রান্না করা খাবার এনে পড়ুয়াদের পরিবেশনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেই সম্প্রসারণ আপাতত আর হচ্ছে না। পরিবর্তে ওই চার জেলার সরকারি স্কুলগুলিতে আগের ব্যবস্থাই ফিরে আসবে বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ, স্কুলের নিজস্ব পরিসরেই রান্না করে পড়ুয়াদের মধ্যাহ্নভোজ পরিবেশনের ব্যবস্থা চালু থাকবে। অন্যদিকে, কলকাতা পুরসভা এলাকার সরকারি স্কুলগুলিতে অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে যে মধ্যাহ্নভোজ পরিষেবা চলছে, তা এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়ছে না। ফলে কলকাতার ব্যবস্থাটি আগের মতোই চলবে।
চার জেলায় প্রত্যাহার অক্ষয় পাত্রের অনুমোদন
রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, পুরুলিয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুরে সরকারি স্কুলগুলিতে মধ্যাহ্নভোজ সরবরাহের জন্য অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনকে দেওয়া আগের অনুমোদন প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে ওই চার জেলায় সংস্থাটির মাধ্যমে মধ্যাহ্নভোজ সরবরাহের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তা আর কার্যকর হচ্ছে না।
জানা গিয়েছে, অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন চার জেলায় কাজ শুরু করার আগেই এই অনুমোদন প্রত্যাহার করা হয়েছে। অর্থাৎ, পরিকল্পিত সম্প্রসারণ বাস্তবে শুরু হওয়ার আগেই তার পরিবর্তন ঘটল। নবান্নের developments সম্পর্কে অবহিত এক সরকারি আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, চার জেলার স্কুলগুলিতে আগের ব্যবস্থাই ফিরিয়ে আনা হবে।
এই আগের ব্যবস্থায় সরকারি স্কুলগুলিই নিজেদের চত্বরে মধ্যাহ্নভোজ রান্না এবং পরিবেশনের দায়িত্ব পালন করে। নতুন ব্যবস্থায় বাইরে থেকে রান্না করা খাবার সরবরাহের পরিবর্তে স্কুলের পরিসরেই খাবার তৈরির পদ্ধতি বজায় থাকবে।
তবে কেন অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনকে দেওয়া অনুমোদন প্রত্যাহার করা হল, সে বিষয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে দেওয়া হয়নি। ফলে আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার নির্দিষ্ট কারণ এই তথ্যের ভিত্তিতে স্পষ্ট নয়।
কলকাতায় অন্নামৃতের পরিষেবা থাকছে চালু
চার জেলায় অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনের অনুমোদন প্রত্যাহার হলেও কলকাতা পুরসভা এলাকার সরকারি স্কুলগুলিতে চলতে থাকা মধ্যাহ্নভোজ ব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। সেখানে অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মধ্যাহ্নভোজ রান্না এবং পরিবেশনের কাজ চালু থাকবে।
ইসকনের সঙ্গে যুক্ত অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের এই কর্মসূচি প্রথমে কলকাতা পুরসভা এলাকার সরকারি স্কুলগুলিতেই চালু হয়েছিল। কলকাতায় এই মডেল চালু হওয়ার পর সেটি যদি সন্তোষজনকভাবে কাজ করে, তা হলে পশ্চিমবঙ্গের অন্য এলাকাতেও এই ধরনের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হতে পারে বলে রাজ্য সরকারের তরফে আগে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।
সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পরবর্তী পর্যায়ে চারটি জেলা বেছে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সিদ্ধান্তে সেই সম্প্রসারণ আর হচ্ছে না। ফলে কলকাতার ক্ষেত্রে যে ব্যবস্থা চলছে, সেটি এবং চার জেলার জন্য পরিকল্পিত ব্যবস্থার মধ্যে এখন স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি হল।
অর্থাৎ, কলকাতা পুরসভা এলাকার সরকারি স্কুলগুলিতে অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মধ্যাহ্নভোজ সরবরাহ অব্যাহত থাকছে। অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, পুরুলিয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুরে স্কুল চত্বরেই রান্না ও পরিবেশনের পুরনো ব্যবস্থা ফিরছে।
সম্প্রসারণের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল চার জেলা
ইসকনের সঙ্গে যুক্ত সংস্থার মাধ্যমে কলকাতার বাইরে মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, পুরুলিয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুরকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। এই চার জেলাতেই অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সরকারি স্কুলগুলিতে মধ্যাহ্নভোজ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি স্কুলগুলিতে আগের মতো স্কুল চত্বরে খাবার রান্না করার বদলে নির্দিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে মধ্যাহ্নভোজ সরবরাহ করা হত। কিন্তু সেই ব্যবস্থা শুরু হওয়ার আগেই রাজ্য সরকার অনুমোদন প্রত্যাহার করেছে।
ফলে চারটি জেলার সরকারি স্কুলগুলিতে এখন আগের ব্যবস্থাই পুনরায় কার্যকর হওয়ার কথা। স্কুলের নিজস্ব পরিসরে খাবার প্রস্তুত করা এবং পড়ুয়াদের মধ্যে তা পরিবেশন করার দায়িত্ব থাকবে স্কুলের ব্যবস্থার উপর।
এই পরিবর্তনের ফলে কলকাতার বাইরে ইসকন-ঘনিষ্ঠ মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচি সম্প্রসারণের যে পরিকল্পনা সামনে এসেছিল, তা আপাতত থেমে গেল। তবে কলকাতা পুরসভা এলাকার অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের পরিষেবা এই সিদ্ধান্তের ফলে বন্ধ হচ্ছে না।
চার জেলার মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিজ জেলা হওয়ায় এই জেলার নামও সিদ্ধান্তের পরিসরে রয়েছে। তবে অনুমোদন প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে কোনও নির্দিষ্ট জেলা বা ব্যক্তিকে ঘিরে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
নিরামিষ খাবার নিয়ে আগের বিতর্ক, পরে যোগ হয়েছিল ডিম
ইসকনের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাকে সরকারি স্কুলের মধ্যাহ্নভোজ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে খাবারের ধরন নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের একাংশের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।
মূল আপত্তির একটি বিষয় ছিল নিরামিষ খাবার। অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেওয়া খাবারের তালিকায় নিরামিষ পদ থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পাশাপাশি স্কুলপড়ুয়াদের খাবারে ডিমের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য থাকবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
শিশুদের খাদ্যতালিকায় ডিমকে গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়—এই যুক্তিতেই ডিম না থাকার সম্ভাবনা নিয়ে আপত্তি সামনে এসেছিল। এই বিতর্কের পর মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, নিরামিষ খাবারের পাশাপাশি আলাদাভাবে ডিমও দেওয়া হবে।
এরপর মধ্যাহ্নভোজ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থও বাড়ানো হয়েছিল। অর্থাৎ, খাবারের ধরন নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে ডিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত সামনে আসে এবং প্রকল্পের আর্থিক বরাদ্দেও পরিবর্তন করা হয়।
এখন চার জেলায় অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনের অনুমোদন প্রত্যাহারের ফলে সেই সম্প্রসারণ পরিকল্পনার একটি বড় পরিবর্তন ঘটল। তবে কলকাতা পুরসভা এলাকার অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে চলা মধ্যাহ্নভোজ পরিষেবা এই সিদ্ধান্তের বাইরে থাকছে। ফলে কলকাতায় বর্তমান ব্যবস্থা বজায় থাকলেও চার জেলায় স্কুলভিত্তিক পুরনো রান্না ও পরিবেশন ব্যবস্থা ফের চালু হওয়ার কথা।
#WestBengalMidDayMeal #MidDayMeal #AkshayaPatra #ISKCON #AnnamritaFoundation #SchoolMeals #WestBengalNews #GovernmentSchools #SchoolMealScheme #MidDayMealScheme #WestBengal













