Taslima Nasrin on Sheikh Hasina Return: প্রায় দুই দশক পর কলকাতায় ফিরে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ফের সরব হলেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। রবিবার কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সমালোচনাও করেন তিনি।
তসলিমা নাসরিনের বক্তব্য, শেখ হাসিনাকে যেভাবে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে, তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাঁর দাবি, একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে যেভাবে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে, তা ভুল ছিল। এটি ছিল অগণতান্ত্রিক। দলটিকে নিষিদ্ধ করাও পুরোপুরি অগণতান্ত্রিক। আমি চাই শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসুন এবং নির্বাচনে অংশ নিন।”
তসলিমা নাসরিনের বক্তব্যে উঠে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তিনি শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে এসে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করলেও, নিজের দেশে ফেরার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী নন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের মুক্তচিন্তার মানুষদের জন্য এখনও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, শুধু তিনিই নন, তাঁর মতো বহু প্রগতিশীল, যুক্তিবাদী ও মুক্তমনা মানুষ নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশ ছেড়ে বিদেশে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরে স্বাভাবিকভাবে বসবাসের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ বা নিশ্চয়তা দেখা যায়নি। তসলিমার মতে, “শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথ হয়তো একদিন খুলে যেতে পারে। কিন্তু আমার নিজের দেশে ফেরার নিশ্চয়তা আজও নেই। আমার দেশে ফেরা এখনও অনিশ্চিত।” যখন মুক্তচিন্তার মানুষ ভয় ছাড়াই দেশে ফিরতে পারবেন এবং স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারবেন, তখনই বলা যাবে যে পরিস্থিতির প্রকৃত পরিবর্তন হয়েছে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তসলিমা নাসরিন মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মাদ্রাসা থেকে উগ্রপন্থার প্রসার ঘটছে। তাঁর মতে, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে আধুনিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “আমার মনে হয় কোনো মাদ্রাসার প্রয়োজন নেই। এগুলো শুধু জিহাদি তৈরি করে। সব মাদ্রাসাকে ধর্মনিরপেক্ষ বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা উচিত।”
প্রায় উনিশ বছর পর কলকাতায় ফিরে আসার সুযোগ পাওয়ায়ও প্রতিক্রিয়া জানান তসলিমা নাসরিন। তিনি বলেন, এই আমন্ত্রণের মধ্যে তিনি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখছেন না। কলকাতায় অবস্থানকালে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
তাঁর কথায়, “উনিশ বছর পর আমাকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে আমি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখি না। এখানে থাকার সময় নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
বাংলাদেশে প্রাক্তন ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তসলিমা নাসরিন। তাঁর অভিযোগ, সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ানোর কারণেই তাঁকে মূল্য দিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, “বিপদে পড়া হিন্দুদের সাহায্য করার জন্য চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মূল্য দিতে হয়েছে। আমরা অনেকেই তাঁর মুক্তির দাবিতে কথা বলছি। বাংলাদেশে মুক্তচিন্তার মানুষদের ক্রমাগত লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। সেই কারণেই অনেককে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে।”
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন তসলিমা নাসরিন। তাঁর মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
#TaslimaNasrin #SheikhHasina #Bangladesh #AwamiLeague #BangladeshPolitics #FreedomOfExpression #SouthAsia #ChinmoyKrishnaDas #Kolkata #News
