Tag: Voting Rights

  • ভোটাধিকার রক্ষার দায়িত্ব যাদের, তাদের সিদ্ধান্তেই কি প্রশ্নের মুখে পড়ছে নাগরিকের ভোটের অধিকার?

    ভোটাধিকার রক্ষার দায়িত্ব যাদের, তাদের সিদ্ধান্তেই কি প্রশ্নের মুখে পড়ছে নাগরিকের ভোটের অধিকার?

    SIR Electoral Roll Controversy: নির্বাচন কমিশনের হাতে ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও সংশোধনের যে সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে, সেই ক্ষমতা প্রয়োগের সীমা কোথায়? আর সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে গিয়ে কোনও যোগ্য নাগরিকের ভোটার হিসেবে থাকার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সাংবিধানিক ও আইনি প্রতিকার কী? এই প্রশ্নটি নতুন নয়। ২০১৯ সালে সুনীল কুমার অরোরার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনে নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসার ভিন্নমত প্রকাশের ঘটনা থেকে শুরু করে রাজীব কুমারের আমলে ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী তথ্য নিয়ে বিতর্ক, এবং ২০২৫-২৬ সালে জ্ঞানেশ কুমারের আমলে এসআইআর ঘিরে বিতর্ক—সবকটিকে একই ধারাবাহিকতার মধ্যে দেখলে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা, তার অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভোটার অধিকারের প্রশ্নটি পরিষ্কার হয়।

    সুনীল কুমার অরোরা ২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিশনে ছিলেন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা এবং সুশীল চন্দ্র।

    সেই সময়ের সবচেয়ে বড় বিতর্ক ছিল আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তৎকালীন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকে দেওয়া একাধিক ‘ক্লিন চিট’ নিয়ে লাভাসার ভিন্নমত। বিভিন্ন অভিযোগে কমিশনের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের সঙ্গে লাভাসা একমত হননি। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মোদী ও শাহের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে লাভাসা সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন।

    সুনীল কুমার অরোরা ২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিশনে ছিলেন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা এবং সুশীল চন্দ্র।

    সেই সময়ের সবচেয়ে বড় বিতর্ক ছিল আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তৎকালীন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকে দেওয়া একাধিক ‘ক্লিন চিট’ নিয়ে লাভাসার ভিন্নমত। বিভিন্ন অভিযোগে কমিশনের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের সঙ্গে লাভাসা একমত হননি। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মোদী ও শাহের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে লাভাসা সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন।

    নির্বাচন কমিশনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজীব কুমার ২০২২ সালের ১৫ মে থেকে ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন। তাঁর পরে ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি জ্ঞানেশ কুমার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব নেন।

    বিহারে যে এসআইআরকে কেন্দ্র করে পরবর্তী জাতীয় বিতর্ক শুরু হয়, সেটি নির্বাচন কমিশন ২০২৫ সালের ২৪ জুন জারি করা আদেশের মাধ্যমে শুরু করে—অর্থাৎ জ্ঞানেশ কুমার প্রধান নির্বাচন কমিশনার হওয়ার পর। সুপ্রিম কোর্টের ২০২৬ সালের রায়ে এই তারিখ ও আইনি ভিত্তি স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত রয়েছে।

    তবে রাজীব কুমারের আমলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অন্য ধরনের প্রশ্ন উঠেছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোটদানের হার প্রকাশে বিলম্ব, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা, ইভিএম এবং নির্বাচনী তথ্য নিয়ে বিরোধী দলগুলি প্রশ্ন তোলে। রাজীব কুমার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে কমিশনের নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার পক্ষে বক্তব্য দেন।

    ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া ও নতুন নাম যোগ করা নিয়ে রাজনৈতিক অভিযোগ ওঠে। রাজীব কুমার প্রকাশ্যে বলেন, কাউকে ইচ্ছেমতো ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায় না এবং নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদেরও ভোটার তালিকা যাচাইয়ের সুযোগ থাকে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রক্রিয়ার মধ্যে যুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে।

    জ্ঞানেশ কুমার ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব নেন। ২০২৫ সালের ২৪ জুন নির্বাচন কমিশন বিহারের সব বিধানসভা কেন্দ্রে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর-এর নির্দেশ দেয়। এর আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয় সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ২১(৩) ধারা।

    জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ২১(৩) ধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন যে কোনও সময় কারণ লিপিবদ্ধ করে কোনও নির্বাচনী কেন্দ্র বা তার অংশের ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের নির্দেশ দিতে পারে এবং কীভাবে সেই বিশেষ সংশোধন হবে, সে বিষয়ে কমিশন নির্দেশ দিতে পারে।

    এই জায়গাটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসআইআর-এর জন্য আইনে কোনও আলাদা নামে একটি স্বতন্ত্র আইন নেই—কিন্তু বিশেষ সংশোধন করার ক্ষমতা ২১(৩) ধারায় রয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে সুপ্রিম কোর্টও ঠিক এই ব্যাখ্যাই গ্রহণ করেছে।

    অর্থাৎ, ‘এসআইআর-এর কোনও আইনগত ভিত্তি নেই’—এই বক্তব্য এখন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আদালত বলেছে, বিহারের এসআইআর জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ও সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের সঙ্গে যুক্ত এবং আইনসঙ্গত ক্ষমতার মধ্যেই পরিচালিত হয়েছিল।

    সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ নির্বাচন কমিশনের হাতে নির্বাচনের তত্ত্বাবধান, নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ এবং ভোটার তালিকা প্রস্তুতির ক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক কাঠামোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা হল ৩২৬ অনুচ্ছেদ, যেখানে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে হবে বলা হয়েছে। ৩২৫ অনুচ্ছেদও গুরুত্বপূর্ণ—কোনও ব্যক্তিকে ধর্ম, জাতি, বর্ণ বা লিঙ্গের ভিত্তিতে সাধারণ ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।

    নির্বাচন কমিশন কি যোগ্য ভোটার বাদ না দিয়ে তালিকা শুদ্ধ করার কাজটি করতে পারছে? এবং কাউকে বাদ দেওয়ার আগে কি তাকে যথেষ্ট নোটিস, শুনানি, প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ ও আপিলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে?

    ২০২৬ সালের সুপ্রিম কোর্টের বিহার রায়ে আদালত বলেছে, এসআইআর-এর কাঠামোয় এই সুরক্ষাগুলি রাখা হয়েছিল। খসড়া তালিকায় নাম না থাকা চূড়ান্ত বাদ দেওয়া নয়; দাবি-আপত্তির পর্যায়, নোটিস, শুনানি, কারণ-সহ সিদ্ধান্ত এবং আপিলের ব্যবস্থা ছিল।

    যোশির ১৬ মে-র নোটের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ফর্ম-৬ যেহেতু ১৯৬০ সালের বিধির অধীনে নির্ধারিত বিধিবদ্ধ ফর্ম, তাই সেটি বদলাতে হলে সংশ্লিষ্ট বিধিতে পরিবর্তন আনতে হবে। তাঁর মতে, শুধুমাত্র এসআইআর-এর নির্দেশ বা নির্দেশিকা দিয়ে বিধিবদ্ধ ফর্ম পরিবর্তন করা যায় না। ১৯ মে সান্ধুও সেই অবস্থানের সঙ্গে একমত হন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

    এখানে ২০২৩ সালের আইনের ১৮ নম্বর ধারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    আইনের ১৮(১) ধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন তার কাজের পদ্ধতি এবং কমিশনারদের মধ্যে কাজের বণ্টন সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে পারে।

    আর ১৮(২) ধারায় বলা হয়েছে, কমিশনের সমস্ত কাজ যতদূর সম্ভব সর্বসম্মতভাবে সম্পন্ন হবে। কিন্তু মতভেদ হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতই সিদ্ধান্ত হবে।

    অর্থাৎ, তিন সদস্যের কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একার মতই স্বয়ংক্রিয়ভাবে চূড়ান্ত নয়।

    গোয়ায় ৯৭ জন ভোটারের ক্ষেত্রে স্থানীয় নির্বাচনী আধিকারিক তাদের প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করে যোগ্য বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু সফটওয়্যারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সক্রিয় না থাকায় তাদের নাম ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

    পশ্চিমবঙ্গের এস আই আর পরবর্তী প্রক্রিয়ায় প্রায় সাতাশ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল। পরবর্তীতে তার মধ্যে ২২ লক্ষেরও বেশি ভোটার নিজেদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আপিল করেন। বাদ পড়া ভোটারদের প্রায় ৮২ শতাংশ আপিল করেছেন। উল্লেখ্য ২০২৬ নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্ট কে জানিয়েছে ৩৮ লক্ষ আপিলের মধ্যে মাত্র ১ লক্ষ ২২৩১টি নিষ্পত্তি হয়েছে। ৩৭. ১৮ লক্ষ আপিল বাকি।

    ৩২৪ অনুচ্ছেদ কমিশনকে ভোটার তালিকা প্রস্তুতি ও নির্বাচন পরিচালনার ওপর তত্ত্বাবধান, নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দিয়েছে। ৩২৫ অনুচ্ছেদ বৈষম্যহীন সাধারণ ভোটার তালিকার নীতি স্থাপন করেছে। ৩২৬ অনুচ্ছেদ প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের সাংবিধানিক ভিত্তি দিয়েছে।

    যোগ্য নাগরিকের নাম যদি ভুলভাবে বাদ পড়ে, যদি তাকে যথেষ্ট শুনানির সুযোগ না দেওয়া হয়, যোগ্য নাগরিকের নাম যদি ভুলভাবে বাদ পড়ে, যদি তাকে যথেষ্ট শুনানির সুযোগ না দেওয়া হয়, যদি আইনি ফর্মকে প্রয়োজনীয় বিধি সংশোধন ছাড়া কার্যত পরিবর্তন করা হয়, অথবা কমিশনের আইনসিদ্ধ সম্মিলিত সিদ্ধান্তের বদলে কোনও একক কর্তৃত্ব কার্যকর হয়—তাহলে সেই নির্দিষ্ট পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে গুরুতর আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে।যদি আইনি ফর্মকে প্রয়োজনীয় বিধি সংশোধন ছাড়া কার্যত পরিবর্তন করা হয়, অথবা কমিশনের আইনসিদ্ধ সম্মিলিত সিদ্ধান্তের বদলে কোনও একক কর্তৃত্ব কার্যকর হয়—তাহলে সেই নির্দিষ্ট পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে গুরুতর আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে।

Exit mobile version