Tag: Joe Biden

  • Israel-Hamas War: হামাসের হয়ে কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্র? বেঁকে দাঁড়াল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে

    Israel-Hamas War: হামাসের হয়ে কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্র? বেঁকে দাঁড়াল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Israel-Hamas War: নেতানিয়াহুর হুমকি, ইসরায়েল প্রয়োজনে একা দাঁড়াবে। লড়াই করবে সামর্থ্যের শেষটুকু দিয়ে । দরকার নেই যুক্তরাষ্ট্রকে। আর এভাবেই একা হয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের সুর কিন্তু খারাপ। গাজায় হামাসের কাছে হেরে যেতে পারে ইসরায়েল। ওয়াশিংটন হঠাৎ হামাসের হয়ে কথা বলছে কেন ? যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ব্যবহার করে হচ্ছে গাজায়, আর তাতেই ভয় পাচ্ছেন জো বাইডেন। ইসরায়েলের সাথে বন্ধুত্বে মস্ত বড় ফাটল। একে একে পাল্লা হালকা হচ্ছে তেল আবিবের।

     

    * নেতানিয়াহুর হুঙ্কার, গাজায় একাই লড়তে প্রস্তুত

    একা হয়ে গেলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। পাশে থাকলেন না জো বাইডেন। ইসরায়েল এখন একা লড়তেই প্রস্তুত হামাসের বিরুদ্ধে। এটা অভিমান নাকি রাগ? যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি পেতেই কি তাহলে দমে গেল ইসরায়েল? ভয় পাচ্ছে না তো? ওদিকে সমস্ত সাপোর্ট পাচ্ছে গাজা। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ভাবছে গাজার মানুষের কথা। এমনকি জাতিসংঘ পর্যন্ত রুখে দাঁড়িয়েছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। এমত পরিস্থিতিতে নেতানিইয়াহু কী করবেন? পিছলেই আত্মসম্মানে লাগবে বড় ধাক্কা। কাঁটার মতো বিঁধছে পরাশক্তি গুলোর সমালোচনা। এরই মাঝে গাজায় পুরো দমে চালাচ্ছে হামলা। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে কথা দিয়েছিল, অস্ত্র দেবে। কিন্তু সম্প্রতি ইসরায়েলের চালান বন্ধের বিষয়ে রীতিমত হুমকি দিয়ে জো বাইডেন বলে দিয়েছেন, রাফায় এভাবে ইসরায়েলের হামলা দেখে অস্ত্রের চালান তিনি স্থগিত করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই, এত দিনের বন্ধুতে এখন দেখা দিয়েছে এক গুচ্ছ প্রশ্ন। মোটামুটি যুক্তরাষ্ট্র গাজার রাফায় ইসরায়েলের পূর্ণমাত্রায় অভিযানের বিরুদ্ধে। তবে বাইডেনের হুমকিকে জাস্ট তোয়াক্কা করলেন না নেতানিয়াহু, বরং তার জবাব দিয়ে বললেন, প্রয়োজন হলে ইসরায়েল একা দাঁড়াবে। ইসরায়েল তাদের নখ দিয়ে লড়াই করবে।

     

    এ থেকেই বোঝা যায়, ইসরায়েল অত সহজে দমবে না অর্থাৎ প্রথম থেকে হামাসের প্রতি যে নীতি নিয়ে রেখেছে তেল আবিব, সেই নীতি পালন করতেই বদ্ধপরিকর। শুধু তাই নয়, নেতানিয়াহু মনে করান ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের কথা। স্মৃতিচারণা করেন প্রায় ৭৬ বছর আগের ঘটনা। সে সময় কিন্তু ইসরায়েলের কাছে এত অস্ত্র ছিল না। অথচ ইসরায়েলের উপর ছিল অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা। নেতানিয়াহুর মতে, সেই যুদ্ধের সময় ইসরায়েল অনেকের বিরুদ্ধে সংখ্যায় অল্প থাকলেও, তাদের মধ্যে ছিল চেতনা, বীরত্ব আর ঐক্য। সেই শক্তিতে জয়লাভ করেছিল তারা। সেই মন্ত্রে এবারও তিনি জয়ী হবেন। এতটাই আত্মবিশ্বাসী নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্রের চালান বন্ধ করলেও তা নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নয় তেল আবিব। বরং তারা তাদের বিশ্বাসের উপর ভর করে হামলা চালাচ্ছে গাজার উপর। এ তো গেল নেতানিয়াহুর কথা, অপরদিকে তাঁর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বলেন, ইসরায়েলের শুধু শত্রু নয় নয় বরং বন্ধুদেরও বোঝা উচিত, ইসরাযয়েলকে কোন দেশ কাবু করতে পারবে না। ইসরায়েল ঠিক তাদের লক্ষ্য অর্জন করবে এবং তারা শক্ত হয়ে দাঁড়াবে। অর্থাৎ যদি হামাসকে পরাজিত করতে প্রয়োজন হয়, তাহলে একাই লড়তে রাজি নেতানিয়াহু। স্বাভাবিকভাবেই, কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, নেতানিয়াহুর এমন বক্তব্যে ইসরায়েল আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও গভীর হল সম্পর্কের টানাপোড়েন। দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, সেখানে সত্যি সত্যি হয়ত দেখা দিল বড়সড় ফাটল।

     

    •রাফায় হামাসের জয়, যুক্তরাষ্ট্রের বড় কথা

    ওদিকে হোয়াইট হাউস বলছে, রাফায় বড় হামলা চালানো মানেই কিন্তু হামাসকে পরাজিত করা নয়। জো বাইডেনের কথায়, রাফাতে হামলা চালালেই যে ইসরায়েলের উদ্দেশ্য পূরণ হবে, এমনটা নাও হতে পারে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের মধ্যে রাফা নিয়ে এখনো কথা চলছে। যেখানে বাইডেন সহ অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তারা বারংবার রাফায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যে ইসরায়েল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, তার বড় প্রমাণ সাম্প্রতিক কিছু কথাবার্তা। যুক্তরাষ্ট্র বলে দিয়েছে ইsরায়েল রাফায় অভিযান চালালেও, কৌশলগত বিজয় হতে পারে হামাসের। হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা মুখপাত্র জন কারবির মতে, এই মুহূর্তে রাফায় যে কোনো বড় ধরনের অভিযান আসলে সমঝোতার আলোচনা টেবিলে হামাসের হাতকে শক্তিশালী করবে। ইসরায়েলের হাতকে নয়।

     

    * গাজা যুদ্ধে মার্কিনি অস্ত্রের ব্যবহার! ভয় পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    এই জায়গায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাজ করছে একটা বড় ভয়। যুক্তরাষ্ট্র নিজেই বলছে, গাজা যুদ্ধের সময় কিছু কিছু ঘটনায় ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল। সেক্ষেত্রে ইসরায়েল ব্যবহার করে থাকতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্র। দেশটার পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্রগুলো ইসরায়েল অসঙ্গত কারণে ব্যবহার করেছে কিনা সেই নিয়ে একটা মূল্যায়ন করা দরকার। বুঝতে পারছেন? এটাই স্পষ্ট, আপাতত ইসরায়েলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা বলছে, শুধুমাত্র গাজাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েল অন্তত আরও ছটা দেশের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে।। হোয়াইট হাউস তার একটা প্রতিবেদনে গাজায় পরিচালিত ইসরায়েলি অভিযানের সরাসরি সমালোচনা করেছে, যা ঘিরে ব্যাপক আলোচনা চলছে কূটনৈতিক মহলে। যুক্তরাষ্ট্র অনেকটা নিজের পিঠ বাঁচাতে যুক্তি দিয়েছে, মার্কিন অস্ত্রের আইনি ব্যবহার মেনে ইসরায়েল ব্যবহার করবে এমন আশ্বাস পেয়েছিল বলেই যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র সরবরাহ চালু রেখেছিল। কিন্তু এখন সেখানে তৈরি হয়েছে একটা বড় সন্দেহের জায়গা। যদিও পাশাপাশি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসামরিক ক্ষতি কমানোর ক্ষেত্রে ইসরায়েলের জ্ঞান , অভিজ্ঞতা কিংবা সরঞ্জাম সবটাই রয়েছে। কিন্তু ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী গাজা স্থল অভিযানের ক্ষেত্রে কি সেই সক্ষমতা ঠিকমত ব্যবহার করছে? সেই নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। যদিও গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া গাড়িগুলোকে ইসরায়েল নাকি এই মুহূর্তে আটক কিংবা বাধা দিচ্ছে না। এমনটাই দাবি মার্কিন প্রতিবেদনের।

     

    * দুর্ভিক্ষের মুখে গাজাবাসী

    সোজা কথায় ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান সহ মধ্যপ্রাচ্যের যে কূটনৈতিক ঘোটালা শুরু হয়েছে, তার মাঝে বেজায় বিপাকে গাজার সাধারণ মানুষ। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তথ্য বলছে, ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলা এখানে নিহত হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার জন মানুষ। যার মধ্যে ৭০ শতাংশই শুধু ফিলিস্তিনি শিশু আর নারী। ইতিমধ্যেই ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার দক্ষিণাঞ্চল শহর অর্থাৎ রাফাতে ইজরায়েলি বাহিনী আরো জোরদার করেছে হামলা, যার ভয়ে শহরটি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন প্রায় ৮০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। এমনিতে কি, গাজায় হামলা শুরুর পর এই সীমান্ত শহরে আশ্রয় নিয়েছিলেন প্রায় দশ লক্ষের বেশি বাসিন্দা। প্রায় দুর্ভিক্ষের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে গাজা বাসী। তবে চুপ করে বসে নেই ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী গুলো। হামাসেরভাষ্যমতে, পূর্ব দিকে তারাও ইসরাইলি সেনাদের উপর জোরদার হামলা চালিয়েছে। জাতিসংঘ আবারও সতর্ক করে বলে দিয়েছে, গাজায় যে পরিমাণে খাদ্য আর জ্বালানি রয়েছে তা প্রায় তলানিতে। কারণ এই ভূখণ্ডটির কাছাকাছি ক্রসিং দিয়ে কোন সাহায্যই পাচ্ছেনা। কায়রোতে হামাস ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র মিশর এবং কাতারের প্রতিনিধি দল বৈঠক করেছে। তবে সেই আলোচনার কোন অগ্রগতি হয়নি অর্থাৎ শেষমেষ কোন চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। গত সাত মাস ধরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যে যুদ্ধ চলছিল, তার মাত্রা আরো তীব্র থেকে তীব্রতর করেছে ইসরায়েল। গত বছরের ৭ই অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রবেশ করে নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে ১২০০ ইসরায়েলিকে হত্যার পাশাপাশি প্রায় ২৫০ জন ইসরায়েলি আর বিদেশী নাগরিককে বন্দী করে নিয়ে আসে হামাস। মাঝে ১১০জন ইসরায়েলি বন্দিকে হামাস মুক্তি দিলেও, এখনো তাদের হাতে বন্দি রয়েছে শতাধিক ইসরাইলি নাগরিক।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Iran-China-Us: ইরান-চীনের তেল ব্যবসায় দারুণ ফন্দি, বোকা বনে গেল যুক্তরাষ্ট্র!

    Iran-China-Us: ইরান-চীনের তেল ব্যবসায় দারুণ ফন্দি, বোকা বনে গেল যুক্তরাষ্ট্র!

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Iran-China-Us: মধ্যপ্রাচ্যকে কব্জা করতে চাইছে চীন। প্রথম টার্গেট তাই ইরান। ইরান-চীনের বন্ধুত্ব দেখেও কিচ্ছু করতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান আর বেজিংয়ের মাঝে ম্যাজিক ফিগার হয়ে দাঁড়িয়েছে তেল অর্থনীতি। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, এমন স্ট্যাটিজিতে দুই দেশ বাণিজ্য করছে, জানলে হতবাক হবেন। বোকা বনে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন-ইরানের ফন্দি ধরেও যেন ধরতে পারছে না। মধ্যপ্রাচ্যে তাহলে কি যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে যাবে চীন? ইরানের পাশে চীন আছে বলেই, স্বস্তির নিশ্বাস নিচ্ছে তেহরান।

     

    গোটা মধ্যপ্রাচ্য যখন উত্তপ্ত, ইরানের সাথে বাণিজ্যের যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন তেল কিনছে ইরান থেকে। ইরানের তেলের উপর হাজারো নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, তার কোন এফেক্টই পড়েনি তেহরানের উপর। অথচ এই তেলের উপর নির্ভর করে আছে দেশটার অর্থনীতি। কোন সিক্রেটে তেহরান নিষেধাজ্ঞাগুলো এড়িয়ে যাচ্ছে? কূটনৈতিক মহল বলছে, এর অন্যতম কারণ চীন। শি জিনপিং যদি শক্ত হাতে ইরানের পাশে না থাকতেন, তাহলে ইরান কোনভাবেই নিষেধাজ্ঞা পাহাড় মোকাবিলা করতে পারত না। যুক্তরাষ্ট্রকে জব্দ করতে আর মধ্যপ্রাচ্যে নিজের জায়গা পাকা করতে, চীনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে ইরান। ওদিকে ইরানও নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থে নিজের মাটিতে বেইজিং এর জন্য বেশি সুযোগ-সুবিধা করে দিয়েছে।

     

    এইতো, গত এপ্রিল মাসে, ইরান যখন ইসরাইয়েলকে লক্ষ্য করে প্রায় ৩০০ এর বেশি মিসাইল আর ড্রোন হামলা চালায়, তখন কিন্তু দেশটার তেল রপ্তানির উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আলোচনায় আসে। এর আগেও একাধিক নিষেধাজ্ঞার মুখে ছিল তেহরান। কিন্তু ইরানের তেল রপ্তানির পরিমাণ শুনলে একটু অবাক হতে হয়। ২০২৪ সালে ৪ মাসে তেহরান তেল রপ্তানি করেছে ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মাত্রায়। যার পরিমাণ নয় নয় করে প্রায় ৩৫.৮ বিলিয়ন ইউএস ডলার। তাহলে বুঝতে পারছেন, ইরানে তেল রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞার কোন এফেক্ট পড়েনি। বরং সুচারুভাবে এড়িয়ে চলছে যুক্তরাষ্ট্রের মোড়লগিরি। মনে করা হচ্ছে, চীন যদি ইরানের পাশে না থাকত তাহলে এই কাজ এতটা সহজসাধ্য হত না। মুখ থুবড়ে পড়ত ইরানের তেল ভিত্তিক অর্থনীতি। যার পুরো সিক্রেটটাই লুকিয়ে রয়েছে চীনের বাণিজ্যিক কৌশলের উপর। ইরান বিশ্বে যত পরিমান তেল রপ্তানি করে তার ৮০ শতাংশই শুধু যায় চীনে। প্রতিদিন ইরান প্রায় দেড় মিলিয়ন ব্যারেল তেল চীনে রপ্তানি করে থাকে। এখানে বেজিংয়েরও স্বার্থ কম নেই । ভূ রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজির কথায় পড়ে আসছি।

     

    যেহেতু ইরানের তেল মানে ভালো ,আর দামের সস্তা। তাই ইরানের তেলের চাহিদাও বেশি। ওদিকে বেইজিং আর তেহরানের সম্পর্ক অত্যন্ত গাঢ়। তাই চীনের কাছে তেল কেনার ক্ষেত্রে ফার্স্ট অপশন এখন ইরান। ইরানের সাথে বাণিজ্যের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সেসব দিকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেন না শি জিনপিং। তার উপর আন্তর্জাতিক সংঘর্ষের কারণে যখন গোটা বিশ্বে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, ঠিক সেই সময় ইরান তার তেল বিক্রি করতে মরিয়া। বরং অন্যদের তুলনায় একটু কম দামেই তেল বিক্রি করে। হিসাব করলে, ২০২৩ সালের প্রথম ৯ মাসে ইরান, রাশিয়া আর ভেনেজুয়েলা থেকে থেকে তেল কিনে চীন অন্তত লাভ করেছে প্রায় ১০ বিলিয়ন ইউএস ডলার। সাধারণত বৈশ্বিক মানদণ্ডে, অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলারের নিচে থাকে। কিন্তু ইরান তাদের তেল ব্যারেল প্রতি বিক্রি করে তার থেকে অন্তত পাঁচ ডলার কমে। শুধু তাই নয়, গত বছর এই দাম সর্বোচ্চ কমিয়েছিল। আসলে পুরোটাই ভূরাজনৈতিক স্বার্থ। তাই তো আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, চীন আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তলে তলে যে বিরোধের খেলা চলছে তারই একটা অংশ হয়ে উঠেছে ইরান।

     

    একদিকে বেজিং তেহরানের অর্থনীতিতে সাহায্য করছে, অপরদিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাকা করছেন নিজের জায়গা। আর এর মাধ্যমেই ভূরাজনৈতিক এবং সামরিক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে ওয়াশিংটনের দিকে। ইসরায়েল আর ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মাঝে, এমন পদক্ষেপ কিন্তু ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। বহু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছে, বিগত কয়েক বছর ধরেই চীন আর ইরান এই নিষিদ্ধ তেল আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে একটা সূক্ষ্ম পদ্ধতি অনুসরণ করছে। যেখানে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় ছোট স্বাধীন রিফাইনারিজ, চীনের আঞ্চলিক ব্যাংক আর ডার্ক ফ্লিট ট্যাঙ্কারস। মূলত আন্তর্জাতিক ভাবেই যাদের পরিচিতি অত্যন্ত নগণ্য। এই সমস্ত জায়গার মাধ্যমে লেনদেন করলে কিংবা ইরানের তেল পরিশোধন করা হলে নানান সুবিধা থাকে। ঝুঁকিও বেশ কম।

     

    আরে একটু আগে যে বললাম, ডার্ক ফ্লিটের কথা, এটা মূলত একটা অস্পষ্ট মালিকানা ধরনের ট্যাঙ্কারস নেটওয়ার্ক। বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তেলের ট্যাঙ্কার গুলো সমুদ্রে ট্র্যাক করা হয়ে থাকে। তার জন্য ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন সফটওয়্যার। ট্র্যাকিং এড়ানোর জন্যই ইরান আর চীন ব্যবহার করে এই ধরনের অস্পষ্ট মালিকানার নেটওয়ার্ক। যার ফলে তারা খুব সহজেই এড়িয়ে যায় সিপিং চার্জ। ধুলো দিতে পারে পশ্চিমাদের চোখে। নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তেই হয় না। অপরদিকে পশ্চিমাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক লেনদেন পদ্ধতির ক্ষেত্রে চীন আর ইরান ব্যবহার করে ক্ষুদ্র চাইনিজ কিছু ব্যাংক। কারণ যেহেতু ইরানের তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেখানে যদি চীন তেল কেনে তাহলে তো ঝুঁকি থাকবেই। বড় বড় গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকে লেনদেন করলে ফেঁসে যেতে পারে বেজিং। তাই যেসব এমন সব ব্যাংক ব্যবহার করে, যাদের আন্তর্জাতিক কোন পরিচিতি নেই। শুধু তাই নয়, ইরানের তেলের জন্য চীন ডলারই নয়, অর্থ পরিশোধ করে চাইনিজ মুদ্রায়।

     

    বর্তমানে পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলো সংগঠন ওপেকে ইরান তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ। প্রতিদিন প্রায় তিন মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপন্ন করে। যা সারা পৃথিবীর তেলের প্রায় ৩ শতাংশ। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছে, ইরানের তেল উৎপাদন কিংবা পরিবহনে যদি কোন রকম বড়সড় ধাক্কা লাগে, তাহলে কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে তেলের দাম বেড়ে যাওয়াটা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। হয়ত বা জো বাইডেনও জানেন, ইরানের তেল রপ্তানি হঠাৎ করে কমে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাবে। স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে তেলের দাম। আর তার এফেক্ট পড়বে যুক্তরাষ্ট্রেও। তাই হয়তো চীন আর ইরান কোন পথে তেলের লেনদেন করছে বা ব্যবসায়িক পদ্ধতি জারি রেখেছে, সেই দিকে ইচ্ছাকৃত কড়া নজর রাখছে না ওয়াশিংটন। এমনটাই ধারণা কূটনৈতিক মহলের।

     

    আর তাই হয়তো, এত সহজেই ওয়াশিংটনকে ফাঁকি দিতে পারে বেজিং। গত বছরের রিপোর্ট বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও কিন্তু তেলের উৎপাদন বাড়ছে ইরানে। পাশাপাশি বাড়ছে তেল বিক্রির পরিমাণ। গত বছর চীনের জ্বালানি তেল কেনার পরিমান পৌঁছেছে রেকর্ড পর্যায়ে। ইরানের তেল ব্যবসায় লাগাম টানতে, বিশ্বের যেসব বন্দর এবং পরিশোধনাগারে ইরানের তেল প্রক্রিয়াজাত করে তাদের ব্যবস্থা বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নতুন আইন প্রণয়নেরও চিন্তা করতে থাকে ওয়াশিংটন। আর এইসবের মাঝে ২০২৩ এর জানুয়ারি থেকে অক্টোবর, পর্যন্ত চীন ইরানের থেকে দৈনিক গড়ে তেল আমদানি করেছে প্রায় ১০ লক্ষ ৫ হাজার ব্যারেল।

     

    এখন চীন হল ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় গ্রাহক। ২০১৭ সালে ইরানের উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আসার আগের সময়ের থেকে চীন এখন আমদানি করে প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসের পর চীন ইরানের থেকে তেল কেনেনি বলে কাগজপত্র দেখায়। আসলে কি বলুন তো, ইরানের যত তেল চীনে আসে তার সবটাই মালয়েশিয়া কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আসে বলে দাবি করে বেজিং। যার মূলে রয়েছে, সেই নাম গোত্রহীন ডার্ক ফ্লিট। ২০২১ সালের পর ইরানের পেট্রোলিয়ামের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় ১৮০ টি প্রতিষ্ঠান আর ৪০টি জাহাজের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তেহরান আর বেজিংয়ের মধ্যে তেল রপ্তানি কিংবা আমদানিতে বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়েনি।

     

    আসলে তেহরানের সাথে সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে, বেজিংয়ের মূল নজর গোটা মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। বছর তিনেক আগে, চীন আর ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে একটি চুক্তি। যে চুক্তির মাধ্যমে আগামী ২৫ বছর দু দেশের মধ্যে বজায় থাকবে কৌশলগত অংশীদারিত্ব। মূলত এটি চীনের সুবিস্তৃত বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিসিয়েটিভ কর্মসূচিতে সর্বশেষ সংযোজন। বিশ্বশক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া চীন। আর সেখানে একটা শক্ত খুঁটি হিসেবে কাজ করছে ইরান। ইরান কিন্তু চীনের থেকে চীনের তুলনায় ছোট একটা দেশ। কিন্তু বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। এছাড়াও দেশটার এছাড়াও ইরানের প্রতিবাদী বৈদেশিক নীতির কারণে আলাদা একটা স্বকীয়তা রয়েছে। যা বেজিংয়ের পছন্দের অন্যতম কারণ। চীন নিজেকে একবিংশ শতাব্দী আর পরবর্তী বিশ্বের একটা উদীয়মান শক্তি হিসেবে মনে করে। বিশ্বাস করে, হয়ত একদিন দীর্ঘমেয়াদি যুক্তরাষ্ট্রের পতন হবে। আর সেই জায়গায় রাজ করবে চীন।

     

    এমত পরিস্থিতিতে, যে শক্তিধর রাষ্ট্র আসুক না কেন, সেই রাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যকে বাদ দিয়ে এগিয়ে যেতে পারেনা। আর এই সহজ ইকুয়েশনটাই বুঝে গিয়েছে বেজিং। ইরানের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা নিতে চাইছে দেশটা। এছাড়াও দুই দেশের মধ্যে ফিলিস্তিন- ইসরায়েল সম্পর্ক, ইরানের পরমাণু চুক্তি এবং এই এলাকায় সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইতিমধ্যেই চীন পিপলস লিবারেশন আর্মির মাধ্যমে লোহিত সাগরের প্রথম বৈদেশিক সামরিক ঘাঁটি গড়েও তুলেছে, যেটি পড়েছে জিবুতিতে। উপসাগরীয় অঞ্চলকে নিজের হ্রদ বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। বেইজিং সেখানেই যেন আঁকতে চায় নিজের নৌবাহিনীর পদচিহ্ন। যার সঙ্গ দিচ্ছে ইরান।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • যুক্তরাষ্ট্রের কব্জায় কুক-নিউই দ্বীপ! চীনের জীবন্ত ফাঁদ, সাগরে শুরু ভয়ানক খেলা

    যুক্তরাষ্ট্রের কব্জায় কুক-নিউই দ্বীপ! চীনের জীবন্ত ফাঁদ, সাগরে শুরু ভয়ানক খেলা

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    কুক আইল্যান্ডস আর নিউই দ্বীপে কোন গুপ্তধনের সন্ধান পেলেন বাইডেন? ইন্দো-প্যাসিফিকের খেলায় নতুন ট্যুইস্ট। চীন পুরো দিশেহারা, কালঘাম ছুটছে। দু-দুটো দ্বীপকে কী সাধে কবজা করলো যুক্তরাষ্ট্র? অশনি সংকেত, চীনের জন্য জীবন্ত ফাঁদ দুই রহস্যময় দ্বীপ। তলে তলে বড় ইক্যুয়েশন ইন্দো প্যাসিফিক’ অঞ্চলকে মুক্ত ও অবাধ করতে কিনা করছে যুক্তরাষ্ট্র? আর এবার তো সরাসরি দুটো দ্বীপকে দখল করে নিল বাইডেনের দেশ।

    প্রশান্ত মহাসাগরের দ্য কুক আইল্যান্ড আর নিউই দ্বীপকে নিয়ে বেনিফিট এর লম্বা লিস্ট বাইডেনের হাতে। এই দুটো দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্রের আয়ত্তে থাকলে ‘ইন্দো প্যাসিফিক’ অঞ্চল মুক্ত ও অবাধ হবে, ধারণা বাইডেনের। এই পদক্ষেপ ওই অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের যে এফেক্ট তার সঙ্গে মোকাবিলা করতেও সাহায্য করবে। এই পদক্ষেপ ওই অঞ্চলে বেআইনি ভাবে মাছ ধরা আটকাতেও সাহায্য করবে। এতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে হাঁটবে ওই অঞ্চল। আর ঠিক এই কারণেই প্রশান্ত মহাসাগরের নিউই‌ দ্বীপ ও কুক আইল্যান্ডস কে অবশেষে স্বাধীন করা হল। এই দুটো দ্বীপকে ‘স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে’র মর্যাদা দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনকে এই অঞ্চলে চাপে রাখতেই এই ডিসিশন।

    স্বীকৃতি দেওয়ার পরপরই এই দুই দ্বীপ রাষ্ট্রের সঙ্গে তড়িঘড়ি কূটনৈতিক সম্পর্কের শুরুয়াত করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমেই কুক ও নিউই দ্বীপে ঢালাও ইনভেস্ট করছে বাইডেন প্রশাসন। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে, গণস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন খাতে ২০০ মিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট এর প্ল্যান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চীনের কিন্তু প্যালপিটিশন বাড়ছে। হঠাৎ কেন কুক আর নিউইয়ে নজর পড়ে গেল বাইডেনের? স্বশাসিত হলেও নিউ জিল্যান্ডের উপর পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতির জন্য নির্ভরশীল ছিল এই দ্বীপ দুটো আর  বিশ্ব রাজনীতিতে বেশ কয়েক বছর গুরুত্বহীন হয়ে ছিল প্রশান্ত মহাসাগরের এই অঞ্চল। কিন্তু সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ক্ষমতার লড়াইয়ে বেশ অর্থবহ হয়ে উঠেছে প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণাঞ্চল। যে অঞ্চলকে ঘিরে লক্ষ্যণীয় মাত্রায় বাড়ছে চীনের অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক আগ্রহ। দু’টি দ্বীপের মোট জনসংখ্যা ২০ হাজারের কাছাকাছি হলেও প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক এলাকায় তাদের দখল কিন্তু খুব কম নয় আর তাই যুক্তরাষ্ট্র এই দুটো দ্বীপকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করলো যুক্তরাষ্ট্র। সবটাই কি দিখাবা? আদতে কী যুক্তরাষ্ট্রের বড় এফেক্ট কাজ করবে কুক আর নিউই দ্বীপে? চীন কি পুরোটা চুপচাপ বসে দেখবে? বাইডেন বড় রিস্ক নিয়েছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা এমন একটি সময়ে এলো, যখন দোরগোড়ায় ১৮টি সদস্যদের নিয়ে প্যাসিফিক আইল্যান্ডস ফোরাম। এই ফোরাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় প্রভাব বিস্তারের বড় হাতিয়ার! এই ফোরামে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় রাষ্ট্রসহ বিভিন্ন ছোট দ্বীপপুঞ্জ কিন্তু এই ফোরামে নেই সলোমন দ্বীপের প্রধানমন্ত্রী মানাসেহ সোগাভারে, কারণ তার দেশ চীন ঘনিষ্ঠ। অতএব সেদিক থেকেও চীন ধাক্কা খাচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিশেষ সুবিধা করে উঠতে পারছে না শি এর দেশ। সেখানে কৌশলে ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলকে নিরাপদ, মুক্ত, অবাধ ও উন্নয়নমুখী করতে অ্যামেরিকা বদ্ধপরিকর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা দিতে কোন পথে হাঁটে চীন? এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • POK নিয়ে আমেরিকাকে দিল্লির ওয়ার্নিং! কোন কলকাঠি নাড়ছিল যুক্তরাষ্ট্র ? ঘরে ঘরে তালা

    POK নিয়ে আমেরিকাকে দিল্লির ওয়ার্নিং! কোন কলকাঠি নাড়ছিল যুক্তরাষ্ট্র ? ঘরে ঘরে তালা

    ।। প্রথম কলকাতা‌ ।।

    পিওকে নিয়ে ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে রীতিমত ওয়ার্নিং দিল। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে প্রতিনিধি পাঠিয়ে কোন কলকাঠি নাড়ে আমেরিকা? পিওকের ঘরে ঘরে তালা হচ্ছেটা কি? পাকিস্তানের নির্বাচনের আগেই হেস্তনেস্ত হবে। পাকিস্তানি আর্মিকে ওপেন চ্যালেঞ্জ পিওকের জনতা সেখানকার অলিগলি এলাকার পর এলাকার নাম নিয়ে ঘোষণা করে দিচ্ছে এই এলাকা তাদের, পাকিস্তান বা পাকিস্তানের সেনার নয়।

    ২২ অক্টোবর এমন কি হতে পারে পাকিস্তানে? ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে রীতিমত দিয়ে দিল ওয়ার্নিং। আমেরিকা হয়ত ভেবেছিল তাদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উন্নতির জেরে দিল্লি হয়ত যুক্তরাষ্ট্রের পিওকে নিয়ে নাক গলানোয় চুপ থাকবে। না সেটা একেবারেই হল না। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পিওকে সফর নিয়ে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। জম্মু কাশ্মীর ভারতের অংশ। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মান করার আহ্বান জানাতে চাই।

    কবে পিওকে-তে প্রতিনিধি পাঠিয়েছিল আমেরিকা? পাকিস্তানের মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডোনাল্ড ব্লুম পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট বাল্টিস্তানে সফর করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরিভাবে চেয়েছিল এই ইনফরমেশন যাতে গোপন থাকে, কিন্তু তা পাকিস্তানই প্রকাশ্যে এনে দেয়। পাক দৈনিক ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী ছয় দিনের Pok সফর করেন পাকিস্তানের মার্কিন রাষ্ট্রদূত। ব্লুম গিলগিট-বাল্টিস্তানের একাধিক এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে দেখাও করেন।

    এর আগেও ব্লুম পিওকেতে গেছিলেন আর তাতে ভারত রীতিমত আপত্তিও জানিয়েছিল। এবার সেজন্যই এই তথ্য গোপনেই রাখতে চেয়েছিল আমেরিকা। আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আগের থেকে যতই মজবুত হোক না কেন যতই মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হোক না কেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট পিওকে নিয়ে ভারত কোনও আপস করবে না। সবথেকে বড় কথা এই বিষয় নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনও সাহায্য চায় না ভারত, সেটা আরও একবার প্রমাণ করে দিল দিল্লি।

    এদিকে জানা যাচ্ছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে কার্যত শাটডাউন হয়ে যাচ্ছে। বহু এলাকায় দোকানপাট বন্ধ করে প্রতিবাদ করছে মানুষ মুজাফফরাবাদ, কোটলি, মীরপুর, রাওলাকোটে বাড়িতে বাড়িতে ঢুকে পাকিস্তান পুলিশ অত্যাচার করেছিল মহিলাদের ওপর এমনটাই খবর। এরপরই কার্যত রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের ঝড় তোলে পিওকের জনতা। চিতকার করে বলছে তারা পাকিস্তান আর্মি শেষ দেখেই ছাড়বে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • ভারতের হাতে আমেরিকা! জয়শঙ্করই লিঙ্কম্যান, প্যানিক মোডে কানাডা

    ভারতের হাতে আমেরিকা! জয়শঙ্করই লিঙ্কম্যান, প্যানিক মোডে কানাডা

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডার এফেক্ট ফেড হচ্ছে। জয়শঙ্করের চালে ঘুরে গেল প্লট। আমেরিকা কুপোকাত, ট্রুডোকে এবার ভাবতে হবে। ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের লিঙ্কম্যান, জয়শঙ্করের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ওয়াশিংটন। আরও একবার প্রমাণিত, খেলা ঘোরাতে জানে ভারত। আমেরিকার মাটিতে ঝোড়ো ব্যাটিং ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শংকরের। প্রথম চালে রাশিয়াকে কাছে টেনে যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝালেন কত ধানে কত চাল। আর দ্বিতীয় চালে, আমেরিকার ক্ষততে মলম লাগিয়ে বোঝালেন ভারতের দম কত। কানাডা নিয়ে গদগদ হওয়া বাইডেনের নতুন করে চেনা বাকি ভারতকে। আর এই খেলাটা গুছিয়ে খেলেছেন শুভ্রমোনিয়াম জয়শঙ্কর।

    জয় শংকর একবার বলেছিলেন সংকটের সময় তিনি শান্ত থাকতে পারেন। এবার হাতেনাতে সেই প্রমাণ দিলেন বিদেশমন্ত্রী। আর, এতেই জয়শঙ্করে মুগ্ধ যুক্তরাষ্ট্র। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ভূয়সী প্রশংসা করেছে আমেরিকা। বাইডেন প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য জয়শঙ্করকে দু’দেশের মধ্যে আধুনিক সম্পর্ক গড়ার কাণ্ডারি হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। জয়শঙ্কর ভারতীয় দূতাবাসে আয়োজিত সেলিব্রেটিং কালার অফ ফ্রেন্ডশিপ প্রোগ্রামে ভারত-ও আমেরিকার সম্পর্ক নিয়ে বলেছিলেন, দুদেশের সম্পর্ক সর্বকালের সেরা পর্যায়ে রয়েছে। এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চাঁদ ও তার বাইরেও পৌঁছে যাবে। ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে চন্দ্রযানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। বলেছেন, আমেরিকার সমর্থন ছাড়া G-20 এর সফল আয়োজন সম্ভব ছিল না।

    আর, এই ডোজেই কাজ হলো। ভারতের দম আর দাম দুটোই বুঝলো যুক্তরাষ্ট্র। কারণ জয়শঙ্কর বলেছেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রবাসী ভারতীয়দের অবদান অসাধারণ। তুলে ধরেছেন নতুন ভারতের কথাও। ‘নতুন ভারত হল চন্দ্রযান, 5G-র ভারত, এই ভারতই G-20 আয়োজন করতে পেরেছিল। “এটা সেই ভারত যার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়”। এক সেন্টেন্সেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও ভারতকে কতটা চায়। ৮ দিনের মার্কিন সফরে গিয়েছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। রবিবার, সফরের শেষদিনে বিদেশমন্ত্রীর জন্য একটা বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন আমেরিকায় ভারতের রাষ্ট্রদূত তরণজিৎ সিং সান্ধু। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাইডেন প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ কর্তারা। সকলেই জয়শঙ্করের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

    শতাব্দীর অন্যতম সফল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এটা। এই নিয়ে দ্বিমত থাকতে পারে না। দুই দেশের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জয়শঙ্করকে চিনেন। আধুনিক ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের স্থপতি জয়শঙ্কর। যদি জয়শঙ্করের অসাধারণ নেতৃত্ব না থাকত বিদেশমন্ত্রী হিসাবে, তবে দুই দেশের সম্পর্ক হয়তো আজকের মতো এত মজবুত হত না। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের প্রশংসা করে বলেছেন, ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেটস রিচার্ড ভর্মা। ফর্মে ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র? ভুলে গেলে তো চলবে না চীনকে শায়েস্তা করতে ভারতকে সঙ্গে দরকার বাইডেনের। তাহলে কী কানাডা এফেক্ট কাটছে? ভারতের বিদেশমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ বাইডেন প্রশাসন! ট্রুডোর টেনশন বাড়তেই হবে। দিনে দিনে আরও গাঢ় হচ্ছে ভারত-আমেরিকার বন্ধুত্ব। কানাডা আরও একা হচ্ছে। ভারতের হাতে আসছে পুরো খেলা। বাকিটা শুধু সময়ের অপেক্ষা।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • India Bangladesh: ভারতেই অগাধ ভরসা বাংলাদেশের! এবার বোঝার পালা যুক্তরাষ্ট্রের, কার পালে হাওয়া?

    India Bangladesh: ভারতেই অগাধ ভরসা বাংলাদেশের! এবার বোঝার পালা যুক্তরাষ্ট্রের, কার পালে হাওয়া?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    India Bangladesh: বাইডেন মোদি বৈঠকের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে বাংলাদেশ। বড় প্রশ্ন, বাংলাদেশকে দেওয়া কথা রাখবে কি ভারত? বন্ধু বাংলাদেশকে নিয়ে বড় চিন্তা ভারতের। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকে ঠিক কি বোঝাতে চাইবে ভারত? ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ইস্যু, কি কি উঠে আসবে আলোচনায়? মোদির ওয়াশিংটন সফরের উপর কতটা নির্ভর করছে বাংলাদেশের নির্বাচনী গতিপ্রকৃতি? অনধিকার চর্চা নয়, প্রতিবেশীদেরকে অধিক গুরুত্ব দেয় ভারত। এবারেও দেবে প্রমাণ। মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফর বাংলাদেশের জন্য যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে তা নিশ্চয়ই নতুন করে বুঝিয়ে দেওয়ার দরকার পড়বে না। দিল্লি ও ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, অধীর আগ্রহে এই সফরের দিকে তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ।

    ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দৃঢ়, গভীর, বন্ধুত্বপূর্ণ। তাই ঢাকা চাইছে বাংলাদেশ এর নির্বাচন ‘সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ’ করে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র যে নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে, যা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি এই মুহূর্তে সরগরম, সেই বিষয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জানিয়ে রাখি, যুক্তরাষ্ট্রের এই নয়া ফরমান নিয়ে ভারত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহল পরস্পরের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছে। বাংলাদেশকে এই বিষয়ে আশ্বস্তও করা হয়েছে যে আসন্ন সফরে এই নিয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদি অবশ্যই মত বিনিময় করবেন। যুক্তরাষ্ট্র সফর চলাকালে প্রধানমন্ত্রী মোদি সর্বোচ্চ স্তরে অবশ্যই বিষয়টি উত্থাপন করবেন। আর, কথা দিলে কথা রাখে ভারত। তাছাড়া, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে প্রতিটি বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রতিবেশীদের নিয়ে আলোচনা করেন। প্রতিবেশীদের নিয়ে দুই নেতারই আগ্রহ যথেষ্ট। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইস্যু যে এবার অবশ্যই বেশি গুরুত্ব পাবে সেটা কিন্তু বলতেই হচ্ছে তাই, মোদির এই সফরের দিকে বাংলাদেশের দৃষ্টি এতো স্থির।

    না, দুই স্বাধীন সার্বভৌম দেশের পারস্পরিক মতবিনিময়ে তৃতীয় দেশ হিসেবে ভারতের কোনো ভূমিকা নেই। সেই নিরিখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের যা কিছু হচ্ছে, তা ওই দুই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেই মনে করে ভারত। তাই, নতুন ভিসা নীতি বা নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রসঙ্গে ভারত কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্যও করছে না‌। ভারত বারবার বলেছে, বাংলাদেশের মানুষ কাকে ভোট দেবে, কোন দলকে সমর্থন করবে, তা তাঁদের বিষয়। এ বিষয়ে ভারত অনধিকার চর্চা করে না, করবেও না। কিন্তু, চাইলেও সব ঘটনা থেকে চোখ ফিরিয়ে থাকা যায় না। বুঝতে হবে, আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারত স্বাভাবিক কারণেই আগ্রহী।তা ছাড়া ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সুস্থিতির প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র যতটা উদ্বিগ্ন, ভারতও ততটাই এবং সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্ব যে অসীম তা বুঝিয়ে দিতে চায় ভারত।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সংগত কারণেই প্রধানমন্ত্রী মোদি যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে চান আঞ্চলিক স্বার্থে শেখ হাসিনার ক্ষমতাসীন থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, কতটা প্রয়োজন এবং এর অর্থ কী। তাছাড়াও বোঝাবেন, এমন কিছু করা উচিত হবে না, যাতে আঞ্চলিক অপশক্তি উৎসাহ পায়। আর, ভারতের দ্বিতীয় চিন্তা চীনকে নিয়ে। যাকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও চিন্তিত। বাংলাদেশের ওপর চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব যথেষ্ট। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে। তাই, যুক্তরাষ্ট্রকে ভারত বোঝাবে, সেই ভারসাম্য কিংবা আঞ্চলিক সুস্থিতি নষ্ট হয় এমন কিছুর জন্য বাংলাদেশকে জোরাজুরি করাটা ঠিক হবে না। চীনের দিকে বাংলাদেশের বেশি মাত্রায় ঝুঁকে পড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত কারও পক্ষে মঙ্গলজনক নয়, সে কথাও বোঝানো হতে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞদের একাংশ। এটা পরিষ্কার, যুক্তরাষ্ট্র কে সমঝে চলতে হবে, যা বুঝিয়ে দিতে চায় ভারত। তাই, আপাতত ভারতেই ভরসা রাখছে বাংলাদেশ। মোদী বাইডেন বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের মন বোঝার উপরেই নির্ভর করছে বাংলাদেশের নির্বাচনী গতিপ্রকৃতি।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • United States: বুধে ভাগ্য নির্ধারণ যুক্তরাষ্ট্রের! নতুন চুক্তিতে কীসের ইঙ্গিত?

    United States: বুধে ভাগ্য নির্ধারণ যুক্তরাষ্ট্রের! নতুন চুক্তিতে কীসের ইঙ্গিত?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    United States: এই যাত্রায় কি বেঁচে গেল সুপার পাওয়ার যুক্তরাষ্ট্র? বাইডেন-ম্যাকার্থির স্পেশাল মিটিং থেকে বেরোলো কোন সমাধান সূত্র? না এখনও সেফ জোনে নেই, বুধের ভোটেই যুক্তরাষ্ট্রের ভাগ্য নির্ধারণ। গুড নিউজের অপেক্ষায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার চরম অচলাবস্থার মধ্যে আটকে আছে। যা শুধু তাদের জন্য নয়, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটা মারাত্মক রিস্ক ফ্যাক্টর। কিন্তু, এরমধ্যেই হাওয়া বদল। ঋণ সীমা বাড়াতে দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে একমত হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও রিপাবলিকান দলের নেতা কেভিন ম্যাকার্থি।

    মার্কিন ফেডারেল সরকারের ঋণ সীমা বাড়াতে একটা অস্থায়ী চুক্তি হয়েছে। কি আছে ওই চুক্তিতে? চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ঋণ সীমা স্থগিত থাকবে। আগামী দুই বছরের বাজেটে ব্যয় কমানো, কোভিড তহবিলে থাকা অব্যবহৃত অর্থ অন্য খাতে ব্যবহার করা, জ্বালানি খাতে ব্যয় বাড়ানো এবং দরিদ্রদের জন্য খাদ্য সাহায্যের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে চুক্তিতে। তাছাড়া, বেসামরিক খাতে ব্যয় ১ শতাংশ হ্রাসের কথাও বলা হয়েছে চুক্তিতে। বিলটিতে কংগ্রেসের সমর্থন পেতে এখনও অনেক কাজ বাকি বলে দাবি ম্যাকার্থির। লিখিত চুক্তির ওপর বুধবার ভোট হতে পারে, তবে অবশ্যই এটা একটা ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ ইতিমধ্যেই জানিছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যা মার্কিন জনগণের জন্যেও সুসংবাদ।

    একটা বিষয় বলতেই হচ্ছে ঋণ বাড়াতে একমতে পৌঁছালেও। কোনো উদযাপন ছাড়াই চুক্তির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এর থেকে একটা জীনিস পরিষ্কার, একমতে পৌঁছাতে দুপক্ষের মধ্যে বেশ তিক্ততা হয়েছে। তবে, এর আগে বলা হয়েছিল জাতীয় ঋণের সীমা বৃদ্ধি করতে না পারলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খেলাপি হয়ে পড়বে। দেশটার অর্থমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছিলেন, সেই দিনটা ৫ জুন। তার আগেই বাইডেন ও ম্যাকার্থির মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ঋণখেলাপি হয়ে পড়া এড়াতে যাচ্ছে এবারের মতো। শেষ সময়ের দিন কয়েক আগেই অবশেষ তাঁরা সমঝোতায় পৌঁছালেন। উল্লেখ্য, বিবিসির রিপোর্টেই অবশ্য এই ইঙ্গিত মিলেছিল। যত বিশেষজ্ঞের সঙ্গে এই নিয়ে কথা হয়েছিল, তাঁরা কেউই মনে করেন নি যে, যুক্তরাষ্ট্র ঋণ-খেলাপি হবে। সেক্ষেত্রে, বলতেই হচ্ছে এ যাত্রায় বেঁচে গেল যুক্তরাষ্ট্র।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • United States: এই দিনের মধ্যেই দেউলিয়া হবে যুক্তরাষ্ট্র? রিস্কে গোটা বিশ্ব

    United States: এই দিনের মধ্যেই দেউলিয়া হবে যুক্তরাষ্ট্র? রিস্কে গোটা বিশ্ব

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    United States: বড় বিপদে সুপার পাওয়ার যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে উদ্বেগ। অর্থ সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্র দেউলিয়া হতে যাচ্ছে। জাতীয় ঋণের সীমা না বাড়াতে পারলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খেলাপি হয়ে পড়বে। প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতে। যুক্তরাষ্ট্র ঋণ-খেলাপি হলে কি ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে? হাতে কিন্তু সময় খুব কম। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এখন এমন চরম অচলাবস্থার মধ্যে আটকে আছে। যা শুধু তাদের জন্য নয়, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটা মারাত্মক রিস্ক ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যদি যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের ঋণের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানো না হয়, তখন?

    যুক্তরাষ্ট্র ঋণ-খেলাপি হলে, তখন পুরো মার্কিন অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দেবে। সরকার আর নতুন করে টাকা ধার করতে পারবে না। সরকারের হাতে টাকা না থাকায় দেনা পরিশোধ করতে পারবে না। জনগণকে যেসব সুযোগ-সুবিধা-সেবা দিতে হয়, সেগুলোও অব্যাহত রাখতে পারবে না। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমবে। এর প্রভাব গিয়ে পড়বে গোটা বিশ্বে। বিশ্ব অর্থনীতিও এফেক্টেড হবে।

    বিবিসির রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্লেষকদের একাংশের মতে যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু সারা বিশ্বজুড়ে সব দেশের সঙ্গেই ব্যবসা-বাণিজ্যের বড় অংশীদার। ফলে গোটা দুনিয়ার সাধারণ মানুষের ওপরই প্রভাব পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র মন্দায় পড়লে তারা বাকী বিশ্ব থেকে জিনিসপত্রও কিনবে অনেক কম। তাছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র ঋণ খেলাপি হওয়ার মানে কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যেই মন্দা নয়। প্রভাব পড়বে যুক্তরাজ্যে বাড়ি কেনার ঋণ থেকে শুরু করে আরও অনেক কিছুর ওপর। সব কিছুর দাম বাড়বে। পেনশন কমে যাবে। শেয়ার বাজারে বাজে প্রতিক্রিয়া হবে। এখন গোটা বিশ্ব জেনে গেছে, জাতীয় ঋণের সীমা বৃদ্ধি করতে না পারলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খেলাপি হয়ে পড়বে। কিন্তু কবে? দেশটার অর্থমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, সেই দিনটা ৫ জুন। ঋণের সীমা বাড়ানোর সময় আছে সেদিন পর্যন্ত। এরপর? বিষয়টার যৌক্তিক সমাধান না হলে, তারপর দেউলিয়া হয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র।

    সম্প্রতি, ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং কংগ্রেসের রিপাবলিকান স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থি ঋণের সীমা বৃদ্ধির বিষয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন, তবে তাঁরা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অবশ্য এখনো চলছে। মূলত, ব্যয়ের বিষয়ে এখনো দুই দল সমঝোতায় আসতে পারেনি।

    জো বাইডেন কি চাইছেন?

    বাইডেন চাইছেন ধনীদের করহার বৃদ্ধি সহ নানাভাবে কর সংগ্রহ বাড়িয়ে ঋণের সীমা বৃদ্ধি করতে। কিন্তু রিপাবলিকানরা কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট হ্রাসের বিষয়ে নাছোড়বান্দা। এমনকি ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধিরও বিপক্ষে তাঁরা। এদিকে, বাস্তবতা হলো সময় ফুরিয়ে আসছে।

    এই পরিস্থিতি তৈরি হলো কি করে?

    বিবিসির রিপোর্ট অনুযায়ী গত বেশ কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা বাড়ানো হচ্ছে, কারণ সরকার আসলে যা আয় করছে, তার চেয়ে বেশি ব্যয় করছে। ঋণ করার সর্বোচ্চ সীমা এখন বেঁধে দেওয়া আছে ৩১ দশমিক চার ট্রিলিয়ন ডলারে। কিন্তু গত জানুয়ারি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ঋণ এই সীমায় পৌঁছে গেছে। সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় অন্যান্য উপায়ে সরকারকে বাড়তি অর্থ জোগান দিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি সরকার আরও অর্থ ধার করতে না পারে, তাহলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে যে, সরকার হয়তো আর তার ধার-দেনা-দায় পরিশোধ করতে পারবে না। রিপোর্ট বলছে বিবিসি যত বিশেষজ্ঞের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছে, তারা কেউই মনে করেন না যে, যুক্তরাষ্ট্র ঋণ-খেলাপি হবে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • ভারত যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও গভীর! মোদির রাষ্ট্রীয় সফর কীসের ইঙ্গিত?

    ভারত যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও গভীর! মোদির রাষ্ট্রীয় সফর কীসের ইঙ্গিত?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    যখন প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান সবদিক থেকে বিঔপদে, রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হচ্ছে, পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে তখন ভারত যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন গতি পাচ্ছে। প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
    সারবেন একান্ত বৈঠক। কিন্তু এই বৈঠকের নেপথ্যে লুকিয়ে কোন কারণ? নরেন্দ্র মোদীর এই সফরে কোন কোন বিষয় গুরুত্ব পাবে? শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, পরপর এতগুলো দেশে মোদির সফর! কীসের ইঙ্গিত? কি মত বিশেষজ্ঞদের? জানা যাচ্ছে, রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর ঠিক এই সময়, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মোদিকে রাষ্ট্রীয় সফরে আমন্ত্রণের বিষয়টাই কূটনৈতিক মহলকে রীতিমতো ভাবাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসন্ন সফর যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব ও বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে। সময় ও পরিস্থিতির বিবেচনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই রাষ্ট্রীয় সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

    বুঝতে হবে, রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে বিরাট বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়েছে ভারত। যে চ্যালেঞ্জে পশ্চিমা বিশ্ব বা রাশিয়া, পক্ষপাতিত্ব করছে না ভারত। নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে। ব্যালেন্সের রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে রাশিয়া থেকে তেল কিনছে। একূল ওকূল দুকূলই বজায় রাখছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্থানে যখন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে নিয়ে টানটান উত্তেজনা চলছে, রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হচ্ছে, তখন ভারত সব দিক থেকে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিচ্ছে। সে দিক থেকে ভাবতে গেলে অবশ্যই সময় এবং‌ পরিস্থিতি দুটোই খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    কিন্তু, কি জানা যাচ্ছে এই সফর সম্পর্কে? কেন এই রাষ্ট্রীয় সফর? দুই দেশেরই কিন্তু বেশ বড় প্ল্যানিং রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করে, করছে। আর এই সফ‌রে পারস্পরিক স্বার্থের ক্ষেত্রে দু পক্ষের সহযোগিতার সুযোগ নিয়েই পর্যালোচনা করবেন দুই নেতা। এই সফর দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত প্রযুক্তি অংশীদারিত্বের লক্ষ্যে যৌথ অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করবে। না এখানেই শেষ নয়। প্রযুক্তি, বাণিজ্য, শিল্প, শিক্ষা, গবেষণা, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, মহাকাশ ও দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করবে এই সফর।

    জি-২০ সহ বহুপক্ষীয় বিভিন্ন ফোরামে ভারত-মার্কিন সহযোগিতা জোরদার করার উপায় নিয়েও হবে আলোচনা। একটা মুক্ত, উন্মুক্ত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার বিষয়ে নিজেদের মত বিনিময় করবেন তাঁরা। কিন্তু এই রাষ্ট্রীয় সফর কি? কি হয় এই শহরে? রাষ্ট্রীয় সফর বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সর্বোচ্চ অভিব্যক্তি, সর্বোচ্চ প্রকাশ। যুক্তরাষ্ট্রে এই সফরগুলো রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় পরিপূর্ণ থাকে। যেমন ‘ফ্লাইট লাইন’ অনুষ্ঠান, যেখানে সফররত রাষ্ট্রপ্রধানকে বিমানবন্দরে অবতরণের পরই অভ্যর্থনা জানানো হয়, হোয়াইট হাউসের তরফে হয় অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান। থাকে নৈশভোজের বন্দোবস্ত, কূটনৈতিক উপহার বিনিময়, ব্লেয়ার হাউসে সময় কাটানোর আমন্ত্রণ ও ‘ফ্লাগ স্ট্রিট লাইনিং’।

    এই ক্ষেত্রে কি কি হবে?

    সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, করবেন একান্ত বৈঠক। তাছাড়া, প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও ফার্স্টলেডি জিল বাইডেনের আমন্ত্রণে ২২ জুন একটি রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেবেন মোদী। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন মোদি। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক হলেও, সেগুলো কিন্তু কোনোটাই রাষ্ট্রীয় সফর ছিল না। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গত ৯ বছরের মধ্যে এটাই যুক্তরাষ্ট্রে মোদির প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। এর আগে ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জো বাইডেন এখনও পর্যন্ত দুজন রাষ্ট্রপ্রধানকে রাষ্ট্রীয় সফরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, একজন গত বছরের শেষ দিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, দ্বিতীয়জন চলতি বছরের এপ্রিলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে।
    এরপর তৃতীয় কোনো নেতা হিসেবে মোদিকে রাষ্ট্রীয় সফরে আমন্ত্রণ জানালেন তিনি। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয় চলতি মাসেই অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও পাপুয়া নিউগিনি সফর করবেন মোদি, এরপর যাবেন যুক্তরাষ্ট্রে। আগামী ১৯ মে থেকে তার এই সফর শুরু হবে, শেষ হবে ২৪ জুন ৩৭ দিনের এই সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির অন্তত চারবার বৈঠক হবে বলে মনে করা হচ্ছে
    কিভাবে? চলতি মাসের ১৯ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত জাপানের হিরোশিমা শহরে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা। এরপর পাপুয়া নিউগিনিতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন, তারপর অস্ট্রেলিয়ায় কোয়াড নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন। এসব সম্মেলনের প্রত্যেকটাতেই মোদির পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন বাইডেনও। পর্যায়ক্রমে তিন দেশের সফর শেষে মোদি যাবেন যুক্তরাষ্ট্রে। ২১ জুন থেকে ২৪ জুন, চারদিনব্যাপী এই সফর অনুষ্ঠিত হবে। তাই আপাতত, পড়শি ও শত্রুদেশগুলোর নজর মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের দিকে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Washington: অপেক্ষার অবসান! মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ভারতে আসছেন লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রাক্তন মেয়র

    Washington: অপেক্ষার অবসান! মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ভারতে আসছেন লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রাক্তন মেয়র

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    Washington: বুধবার লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রাক্তন মেয়র এরিক গারসেটিকে (Eric Garcetti) ভারতে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত করল সেনেট। ৫২ টি মধ্যে ৪২ টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন গারসেটি। বাইডেন দুই বছর আগে যখন দায়িত্ব নেন তার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দিল্লিতে কোনও রাষ্ট্রদূত নেই। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছাড়া নয়াদিল্লির এটিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময়। জানা গিয়েছে গারসেটি রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের (Joe Biden) ঘনিষ্ঠ সহযোগী। গত সপ্তাহে, সেনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটি গারসেটির মনোনয়নের পক্ষে ১৩-৮ ভোট দিয়েছে।

    ২০২১ সালের জুলাইয়ে অর্থাৎ নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাস পরই গারসেটিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। সে সময় সিনেটে তার মনোনয়নের বিষয়টি পাস হয়নি। ২০১৩ সাল থেকে ২০২২-এর ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত টানা প্রায় এক দশক আমেরিকার শহর লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র পদে ছিলেন এরিক। ওই সময় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি একজন সহযোগীর যৌন হয়রানি করেছেন। এই ইস্যুকে হাতিয়ার করেই রিপাবলিকানরা এরিকের নিয়োগের বিপক্ষে মত প্রকাশ করেছিল। এই আবহে ২০২১ সালের জুলাইয়ের পরে চলতি জানুয়ারি মাসে ফের একবার ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় গারসেটিকে।

    রাজনৈতিক আর্দশগতভাবে তিনি বাইডেন ঘনিষ্ঠ হলেও রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে তাঁর সখ্যতা রয়েছে। রিপাবলিকান পার্টির দুই সেনেটও গারসেটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। কেনেথ জাস্টার ছিলেন নয়াদিল্লিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনের শেষ বাসিন্দা। আমেরিকায় বাইডেন সরকার আসার পরে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে পদত্যাগ করেছিলেন তিনি। বর্তমানে ভারত-আমেরিকার ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়েছে। মজবুত হয়েছে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও। যা দেখে ক্ষোভে ফুঁসছে পাকিস্তান ও চীন।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়স

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম