Tag: Hassan Nasrallah

  • Hezbollah-Turkey: বাড়ছে হিজবুল্লাহর শক্তি ! টা’র্গেট এবার পশ্চিমা বিশ্ব, মধ্যপ্রাচ্যে পাকা হচ্ছে তুরস্কের জায়গা

    Hezbollah-Turkey: বাড়ছে হিজবুল্লাহর শক্তি ! টা’র্গেট এবার পশ্চিমা বিশ্ব, মধ্যপ্রাচ্যে পাকা হচ্ছে তুরস্কের জায়গা

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Hezbollah-Turkey: হিজবুল্লাহকে সাহস দিচ্ছে তুরষ্ক! ইসরায়েলের কী পরিণতি ? হিজবুল্লাহকে সাপোর্ট করতে চায় কারা? এবার সরাসরি মাঠে নামল তুরষ্ক, সাহায্য করবে হিজবুল্লাহকে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের লেবাননের প্রতি যেন আলাদাই ভালোবাসা। মধ্যপ্রাচ্যে নিজের জায়গা পাকা করার এটাই তো সময়, সেই সুযোগ কেনই বা হাতছাড়া করবে তুরস্ক? যুক্তরাষ্ট্র জার্মানি তোতলাচ্ছে। ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর সংঘাত এড়াতে পশ্চিমারা কি তাহলে গা বাঁচাতে চাইছে? ইসরায়েলের সাথে শত্রুতা করেই আরব বিশ্বে মাথাচাড়া দিচ্ছে তুরস্ক। মুসলিম বিশ্বকে দিল বড় বার্তা।

     

    * লেবাননে তুরস্কের বড় সুযোগ, কড়া ভাষায় টার্গেট করছে পশ্চিমাদের

    যেন পুরনো শত্রুতা মেটানোর সুযোগ খুঁজছিল তুরস্ক। আর সেই সুযোগ পেয়েও গেল। লেবানন আর ইসরায়েলের উত্তেজনা শুরু হতেই জোর গলায় তুরষ্ক ঘোষণা করল, দাঁড়াবে লেবাননের পাশে। অর্থাৎ পুরোদমে সাপোর্ট করবে হিজবুল্লাহকে। আর এভাবেই তো বাড়ছে হিজবুল্লাহর শক্তি। এই যে বিগত কয়েকদিন ধরে বারংবার বলা হচ্ছে, আপনারাও নিশ্চয়ই শুনেছেন, ইসরায়েলের সাথে হিজবুল্লাহর যুদ্ধের পরিণতি খুব একটা সুখকর হবে না। হয়ত এই আশঙ্কা থেকেই এবার হুমকি দিল তুরস্ক।

     

    কারণ কূটনৈতিক মহলও বলছিল, এই দুই পক্ষের যুদ্ধে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের দল ভাগাভাগিটা শুরু হয়ে যাবে। তখন আর হিজবুল্লাহ একা থাকবে না। আর তার বড় প্রমাণ দিল তুরস্ক। এবার হিজবুল্লাহকে নানান ভাবে অবশ্যই সাহায্য করবে। কেউ কি ভেবেছিল, হিজবুল্লাহ এত সাপোর্ট পাবে? লেবাননকে কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের একটা পিছিয়ে পড়া দেশ বলতে পারেন। অর্থনৈতিক সংকট আর অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জর্জরিত দেশটা। কিন্তু এই দেশটা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে একটা সময় কম টানাপোড়েন ছিল না। এর আগেও তুরস্ক নানান স্বার্থে লেবাননের পাশে দাঁড়িয়েছে। আবার সেই ঘটনার রিপিট দেখতে চলেছেন লেবাননে।

     

    এরদোয়ান শুধু হিজবুল্লাহকে বড় আশ্বাসই দিলেন না, বরং অভিযোগের আঙুল তুলেছেন আবার পশ্চিমা বিশ্বের দিকে। তাঁর কথায়, এই যে এত যুদ্ধ বাঁধছে, মধ্যপ্রাচ্যে এত উত্তেজনা, ইসরায়েল আর লেবানন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে, সবটাই নাকি হচ্ছে পশ্চিমাদের উস্কানিতে। এরদোয়ানের এত বড় দোষারোপ করার পরই, ওদিকে আবার নড়ে চড়ে বসেছে পশ্চিমারা। এই বিষয়টা থেকে দায় ঝেড়ে ফেলতে, ফলাও করে বলে দিয়েছে, তারা এই যুদ্ধ চায় না। আর তারা এই যুদ্ধের সাথে যুক্তও নয়। কোন দেশগুলো বলেছে জানেন? শুনলে একটু অবাক লাগতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র আর জার্মানির মতো দেশ। প্রশ্নটা তো এখানেই। তাহলে কি, পশ্চিমারা এত বড় সংকট থেকে এবার বাঁচতে চাইছে? তারাও ওই যুদ্ধের ঝুট ঝামেলা আর চাইছে না? তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেছেন,, ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতি রুখতে তার দেশ লেবাননের পাশে অবশ্যই দাঁড়াবে। আর সেই কথা তিনি লেবাননের প্রধানমন্ত্রীকে বলেও দিয়েছেন। সোজা কথায়, এরদোয়ানও এই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।

     

    * মধ্যপ্রাচ্যের হুমকি ইসরায়েল, ভয় পাচ্ছে তুরষ্ক!

    দেখুন, লেবানন আর ইসরায়েলের সীমান্তের অবস্থা কিন্তু একদমই ভালো নয়। লক্ষ্য করে দেখবেন, সেই গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই উত্তপ্ত এই জায়গা। দিনের পর দিন উত্তেজনার পারদ আরও বাড়ছে, বই কমছে না। বিশেষ করে, রাত হলেই সীমান্তে বাড়ে ইসরায়েল আর হিজবুল্লাহর পাল্টাপাল্টি হামলা। নেতানিয়াহু তো সরাসরি সর্বাত্মক যুদ্ধের কথা বলেই দিয়েছেন। অপরদিকে ফুঁসছে হিজবুল্লাহ। তারাও ইসরায়েলের হুমকি বিন্দুমাত্র বরদাস্ত করবে না। পুরোদমে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। আশঙ্কাটা তো এখানেই।

     

    দেখুন, যুদ্ধ বেঁধে যাওয়া সম্ভাবনাটাই বেশি। কারণ, কয়েকদিন আগেই নেতানিয়াহু এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, দক্ষিণ গাজার রাফা শহরে শিগগিরই ইসরায়েলি বাহিনী তাদের অভিযান শেষ করবে। তারপর তাদের টার্গেট, হিজবুল্লাহ। হামাসের মিত্র। যুদ্ধের জন্য ইসরায়েলি বাহিনী এগোবে, লেবাননের সীমান্তবর্তী এলাকায়। এর আগেও গাজা সংকটের সময় তুরস্ক ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেছিল। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছিল। শুধু কথা নয়, কাজেও করে দেখিয়েছেন এরদোয়ান। তার কথায়, ইসরায়েল আগ্রাসন চালাচ্ছে আর সেটা দ্রুত বন্ধ করতে হবে। ইসরায়েলের এই সংঘাত বাড়ানোর যে প্রচেষ্টা, তা অত্যন্ত বিপ্পজনক। তুরস্ক ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবশ্যই স্টেপ নেবে। আর নিচ্ছেও। সহজ ভাবে বললে, ইসরায়েলের সাথে আরও একধাপ শত্রুতা বাড়িয়ে ফেলল তুরস্ক।

     

    একথা ঠিক যে, তুরস্ক ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। কিন্তু দেশটা কোথাও গিয়ে একটু ভয়ও পাচ্ছে। কেনই বা পাবে না, কারণও আছে যথেষ্ট। এই যুদ্ধে সরাসরি পশ্চিমাদের জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। মুখে যতই বলুক না কেন, তারা নিরপেক্ষ থাকবে। যুদ্ধে জড়াবে না। কিন্তু একবার যুদ্ধ বেঁধে গেলে, তখন এসব অলিখিত কথার কি কোনও দাম থাকবে? তাই তো তুরস্ক তার বার্তায় বলে দিয়েছে, আঞ্চলিক আর বৈশ্বিক শান্তির জন্য নাকি বড় হুমকি ইসরায়েল। আর সেই ইসরায়েলকে সতর্ক করার ক্ষেত্রে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আর ইসলামী বিশ্বের জন্য এখনই উপযুক্ত সময়।

     

    যুদ্ধ নিয়ে কিন্তু উদ্বেগে নেই যুক্তরাষ্ট্র জার্মানি তুরস্ক। বার্লিন আর ওয়াশিংটন বলেছে, যুদ্ধ যদি আরও প্রসারিত হয় তার ফল কি হবে তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তবে কি বলুন তো, পশ্চিমাদের নিয়ে তুরস্কের মনে সংশয়ের শেষ নেই। পশ্চিমা বিশ্ব যেভাবে ইসরায়েলকে সমর্থন করছে, সেটা দুঃখ জনক বলেও জানিয়েছেন এরদোয়ান। এখানেই ক্ষান্ত থাকেননি, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে আবেদন করেছেন, যাতে প্রত্যেক দেশ লেবাননের পাশে এসে দাঁড়ায়। মোটামুটি সবাই বুঝতে পারছে, ইসরায়েল আর লেবাননের মধ্যে আর একটা যুদ্ধ মানেই তা আঞ্চলিক যুদ্ধের আকার নেবে। আর কূটনৈতিক পথে এই উত্তেজনা কমানোটা বড্ড দরকার। তাই যুক্তরাষ্ট্র জার্মানি সাবধান করছে ঠিকই, কিন্তু যদি যুদ্ধ বাঁধে, হয়ত সত্যি হবে এরদোয়ানের আশঙ্কাটাই।

     

    খেয়াল করে দেখুন, হিজবুল্লাহ আর ইসরায়েলের সংঘাতে কোনও দেশ বা কোনও আন্তর্জাতিক সংগঠন প্রকাশ্যে এসে বলছে না, যে তারা ইসরায়েলের পাশে থাকবে। কিন্তু হিজবুল্লাহর পাশে থাকার জন্য বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী থেকে শুরু করে বেশ কিছু দেশ আশ্বাস দিচ্ছে। খটকাটা তো এখানেই। তাহলে কি ইসরায়েলকে হারাতে অনেকেই মনে মনে শত্রুতা পুষে রেখেছিল? সুযোগ পেতেই, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। যেখানে বড় মাধ্যম হিজবুল্লাহ। আপনার কী মনে হয়? আপনার মতামত কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

     

    * মধ্যপ্রাচ্যে পাকা হচ্ছে তুরস্কের জায়গা, স্বপ্ন পূরণের পথে এরদোয়ান

    আচ্ছা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হয় তুরস্ককে? কেনই বা অন্যান্য দেশগুলোর সংকটের সময় তুরস্ক আগ বাড়িয়ে সাহায্য করতে চায়? এর পিছনেও কারণ তো নিশ্চয়ই রয়েছে। সেখানেও কিন্তু ঘুরে ফিরে সেই পশ্চিমাদের সাথে শত্রুতার সম্পর্কটাই উঠে আসবে। এই এরদোয়ান সম্পর্কে কিছু কথা বলে রাখা ভালো। ইনি কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ইউরোপের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতেও এক পায়ে প্রস্তুত। এর আগেও তাই করেছেন। লেবানন ইস্যুরকে কেন্দ্র করেই ফাটল ধরেছিল ফ্রান্স আর তুরস্কের সম্পর্কে। মধ্যপ্রাচ্যে ফ্রান্সের নীতিকে অস্থিতিশীল বলে সমালোচনা করেছিলেন তিনি। কড়া ভাষায় ফ্রান্সকে বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে লেবাননকে তুরস্কের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে নাকি ফ্রান্স। আর গত বছরই তো এরদোয়ান হুমকি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে তিনি ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন। আসলে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে তুরস্কের তিক্ত সম্পর্ক রয়েছে। তুরস্ক বহুদিন ধরেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার চেষ্টা করছে। হিসাব অনুযায়ী প্রায় ২৪ বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের যোগদানের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ছিল তুরষ্ক। কিন্তু মানবাধিকার লঙ্ঘন আর আইনের শাসনের প্রতি সম্মানের বিষয়ে, ব্লকের উদ্বেগের কারণে সাম্প্রতিক বছর গুলোতে তার যোগদানের আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। যার কারণে এমনি থেকেই ইউরোপের দেশগুলোর উপর বেশ ক্ষেপে আছেন এরদোয়ান। তাই যখনই মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে পশ্চিমাদের ঝামেলা হয়, সংঘাত বাঁধে, তখনই যেন তিনি ফোঁস করে ওঠেন।

     

    আর যদি বলেন, মুসলিম বিশ্বের কাছে কিংবা আরব দুনিয়ায় তুরস্কের বলা কথা গুলোকে এত গুরুত্ব কেন দেয়া হচ্ছে? আসলে, এখন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ রাজনীতি যাচ্ছে একটা বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। বহু দেশ ইসরায়েলকে শত্রু বলে মনে করলেও, আরব বিশ্বের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান, ওমান, মরক্কোর মতো দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বলতে পারেন, এটা এক ধরনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। ইরান ভীতি থেকেই তারা এটা করছে। কিন্তু সমস্যাটা হল, এই আরবদের মধ্যে হঠাৎ তুরস্কের উত্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে বড় মাথা ব্যথার কারণ। তুরস্ক আবার রয়েছে ইরানের পক্ষে। বলে রাখা ভালো, এই তুরস্কই কিন্তু প্রথম মুসলিম দেশ যে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

     

    কিন্তু বর্তমানে দেখুন, ইসরায়েল আর তুরস্কের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এমনকি অর্থনৈতিক সম্পর্কও তলানিতে। বহু আরব রাষ্ট্র তুর্কিদের উত্থান খুব একটা ভালো চোখে দেখেনা। যার কারণে তুরস্ক নিজের জায়গা ধরে রাখতে, আরো বেশি করে সচেষ্ট। নিজের ক্ষমতা তো বাড়াচ্ছেই, উল্টে জড়িয়ে পড়ছে বিশ্ব রাজনীতিতে। ধীরে ধীরে আরব দেশে বাড়ছে তুরস্কের গ্রহণযোগ্যতা । আর এই পুরো কার্যক্রমের পিছনে সব থেকে বড় ভূমিকা রয়েছে এরদোয়ানের।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Israel in Hezbollah’s trap: হিজবুল্লার ফাঁদে ইসরায়েল ! নাজেহাল আমেরিকাও এবার দূরে সরে যাচ্ছে

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Israel in Hezbollah’s trap: মধ্যপ্রাচ্যে বাঁধবে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ, মুখোমুখি ইরান-ইসরায়েল। ইসরায়েল-হামাসের পর আবারো মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা। ভয় পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তড়িঘড়ি সবটা সামলাতে চাইছেন জো বাইডেন। না হলে যে মারাত্মক বিপদ। এবার আর চুপ থাকবে না ইরান। হিজবুল্লাহর ফাঁদে পড়ে গেল না তো ইসরায়েল? ইরান হয়তো এটাই চাইছিল। যুদ্ধে যুদ্ধে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ুক ইসরায়েল। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের কোন নতুন প্ল্যান? মুহূর্তে সুর পাল্টে ফেলছে যুক্তরাষ্ট্র, এবার আর ঘুরপথে নয়। সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে ইরান-ইসরায়েল! লেবানন তো মাধ্যম মাত্র। মধ্যপ্রাচ্যের ভয়ঙ্কর পরিণতির আঁচ পড়বে যুক্তরাষ্ট্রে। রিস্কে জো বাইডেনের গদি।

     

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়, বানচাল বাইডেনের স্বপ্ন!

    গোটা মধ্যপ্রাচ্য যেন বসে আছে উত্তেজনার কড়াইতে। আবারো বড় যুদ্ধের আশঙ্কা। কিন্তু এবারও সেই ঘুরে ফিরে চলে এল ইসরায়েলের নাম। তবে হামাস বা ফিলিস্তিন নয়, লড়াইটা শুরু হতে পারে লেবাননের সঙ্গে। দুই পক্ষই যুদ্ধের জন্য একদম প্রস্তুত। যে কোনো মুহূর্তে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আর একবার যদি ইসরায়েল আর লেবাননের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যায়, তাহলে গোটা মধ্যপ্রাচ্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতের বাইরে চলে যাবে। তাই তড়িঘড়ি জো বাইডেন ইসরায়েল আর লেবাননের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রতিনিধি পাঠালেন ইসরায়েলে। কিন্তু কেনই বা যুক্তরাষ্ট্র এত ভয় পাচ্ছে? আদৌ কি ভয় পাওয়ার কোন কারণ রয়েছে? কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, সামনে ওয়াশিংটনকে ফেস করতে হবে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের জেরে ফেল হয়ে যেতে পারে জো বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতি। যা বাইডেন সম্পর্কে একটা নেতিবাচক ধারণা তৈরি করবে। হয়ত বা যুক্তরাষ্ট্র এই মুহূর্তে কোন বড় রকমের ঝামেলা চাইছে না।

     

    তার উপর যে মধ্যপ্রাচ্যে এতদিন যুক্তরাষ্ট্র মোড়লগিরি ফলাতে চেয়েছিল, সেই মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশই কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্রকে মানে না। উল্টে বিরুদ্ধে চলে গিয়েছে। ইসরায়েল আর লেবাননের যুদ্ধ বাঁধা মানে, আবারো সেই দলাদলি। কিন্তু পক্ষ আর বিপক্ষের অঙ্কের সমীকরণে খুব একটা বদল আসবে না। অর্থাৎ লেবাননের পক্ষে থাকবে ইরান ফিলিস্তিন সহ মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশ। ওদিকে ইসরায়েলের সাপোর্টে থাকবে পশ্চিমারা। অনেকটা ইসরায়েল হামাসের যুদ্ধের মতোই পরিস্থিতি। শুধুমাত্র হামাসের পরিবর্তে এখানে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে লেবাননের হিজবুল্লাহ্। গাজা যুদ্ধের প্রথম থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশে থেকেও গোটা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিশ্বাস অর্জনের জন্য মাঝেমধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছে। অস্ত্র দেবে না বলে হুমকিও দিয়েছে। কিন্তু শেষমেষ অটুট রেখেছে তেল আবিব-ওয়াশিংটনের বন্ধুত্ব। যা মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম প্রধান দেশগুলোর কাছে চক্ষুশূল ব্যাপার। এটা প্রথম থেকেই আঁচ করতে পেরেছেন জো বাইডেন। তাই এবারে আর কোন ভুল পদক্ষেপ নয়। তিনি খুব ভালো করে জানেন, যুদ্ধ বাঁধলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র তার ক্ষমতা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলবে। আর একবার যদি হিজবুল্লাহ্ হামাস সহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো জোট বেঁধে একসাথে ইসরায়েলকে আক্রমণ করে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু দেশের পক্ষে তা ভালো হবে না। বলে রাখা ভাল, ইসরায়েল যথেষ্ট শক্তিধর দেশ। পশ্চিমাদের প্রচুর সাপোর্ট রয়েছে। কিন্তু শত্রু সংখ্যা বেড়ে গেলে, সামাল দেওয়া মুশকিল।

     

    ইসরায়েলকে বোঝাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, নেতানিয়াহু আদৌ শুনবেন তো?

    এই সম্ভাব্য যুদ্ধ যদি না ঠেকানো যায়, তাহলে সত্যি সত্যি এবার মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বলে উঠবে। আর তাই হয়ত যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামাতে তড়িঘড়ি মাঠে নেমে পড়েছে। বোঝানোর চেষ্টা করছে ইসরায়েলকে। কারণ ইসরায়েল লেবাননে হামলার সমস্ত প্রস্তুতি সেরে রেখেছে। ওদিকে হুঙ্কার ছাড়ছে হিজবুল্লাহ। লেবাননের সাথে ইসরায়েলের শত্রুতা কম নেই। গাজায় হামলার শুরুর পর থেকেই নেতানিয়াহুর সরকার লেবাননের দিক থেকে প্রচুর প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। প্রতিনিয়ত চলছে হিজবুল্লাহ আর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর লড়াই। কিন্তু কি বলুন তো, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের কথা যে অক্ষরে অক্ষরে শুনবে, এমনটা কিন্তু কোনও গ্যারান্টি নেই। এর আগেও যখন যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের মধ্যে একটু মনোমালিন্য চলেছিল। তখন স্পষ্ট বোঝা গিয়েছিল, নেতানিয়াহু স্বার্থের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনকে পাত্তা দেন না। নিজের নীতিতেই চলেন। তাই তিনি যদি মনে করেন, লেবাননের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন তো অবশ্যই যুদ্ধ করবেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কথাকে কোন রকম ভাবেই তোয়াক্কা করবেন না। তার বড় উদাহরণ সাম্প্রতিক সময়। গাজায় যুদ্ধ বিরতি চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কম চেষ্টা করেনি। এমনকি ইসরায়েলকে বারংবার বোঝানোর চেষ্টা করেছে, কিন্তু ইসরায়েল তার সিদ্ধান্তেই অনড়।

     

    পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে বাইডেন চুপ করে বসেও থাকতে পারছেন না। তাই বিশেষ দূত আমোস হোচস্টেইন পাঠিয়েছেন নেতানিয়াহু আর ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের সঙ্গে বৈঠক করতে। হোচস্টেইনকে বাইডেন নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে এই ইসরায়েল আর লেবাননের মধ্যে শত্রুতার ব্লু লাইন কোনভাবেই অতিক্রম না হয়। সেই চেষ্টা চালাতে হবে। হোচস্টেইনের সাথে ছিলেন মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি স্টেফানি হ্যালেট। যদিও বৈঠকে বিস্তারিত কী আলোচনা হয়েছে তা এখনও পর্যন্ত ইসরায়েল সরকার জানায়নি। তবে হোচস্টেইন ইয়োভ গ্যালান্টের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান বৈঠক করেছেন। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের মধ্যে জরুরী ভিত্তিতে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন। শুধু তাই নয় , হোচস্টেইন গিয়েছিলেন লেবাননেও। দেশটার রাজধানী বৈরুত সফরে গিয়ে বলেন, ইসরায়েল আর লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এই সংঘাত চলছে। এই ইস্যু কূটনৈতিকভাবে খুব দ্রুত সমাধান করা জরুরী। পাশাপাশি স্পষ্ট বলেছেন, ওয়াশিংটনে এই অঞ্চলে বড় যুদ্ধ এড়াতে চায়।

     

    ইসরায়েলের ত্রাস হিজবুল্লাহ, লড়াই লাগবে ইরানের সাথে

    বিগত আট মাস ধরে ইসরায়েল এবং লেবাননে একের পর এক চলছে পাল্টাপাল্টি হামলা। ইসরায়েলের উপর এই হামলাগুলো মূলত চালাচ্ছে লেবাননের ইরান সমর্থিত ইসলামিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের ত্রাস হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সশস্ত্র গোষ্ঠী। ইরানের সাথে হিজবুল্লাহর সখ্যতা কিন্তু অত্যন্ত গভীর। তাই তো কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, যদি লেবানন আর ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধে, আর সেই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে সেখানে ইরান জড়িয়ে পড়তে পারে। এমনি থেকেই হিজবুল্লাহ্কে সমস্ত রকম সাপোর্ট দিয়ে থাকে ইরান। তেহরানের ক্ষমতাতে এত জোর পায় এই সশস্ত্র গোষ্ঠী। না হলে ইসরায়েলের মত শক্তিধর দেশে একটা সশস্ত্র গোষ্ঠীর পক্ষে বারংবার হামলা চালানো অত সহজ ব্যাপার ছিল না। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা, প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে উচ্চ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গিয়েছে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের। ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে তারা যে জোট বাঁধতে একে অপরের সঙ্গে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তা জোর গলায় ঘোষণাও করেছে। আর তাই হয়ত, ভয় পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ লেবানন ইসরায়েলের যুদ্ধ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে। যুদ্ধটা তখন শুধু এই দুই পক্ষের মধ্যে থাকবে ন, দলাদলি হয়ে দুভাগ হয়ে যাবে গোটা অঞ্চল। যেখানে এক দিকে থাকবে ইরান সমর্থিত দেশ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। অপরদিকে থাকবে ইসরায়েল সমর্থিত দেশগুলো। লড়াই হবে শেয়ানে সেয়ানে। ইসরায়েল যুদ্ধ করা মানেই পশ্চিমারা জড়িয়ে পড়বে। আর এই মুহূর্তে নির্বাচনের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে যুদ্ধের এত বড় ধকল নেয়া সম্ভব নয়।

     

    আসলে মধ্যপ্রাচ্যে লেবানন-ইসরায়েলের উত্তেজনা ধীরগতির। কিন্তু সমস্যা হল তা ক্রমাগত বাড়ছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে সীমান্তে দুই পক্ষের হতাহতের সংখ্যা আর হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরণ। যা ইসরায়েলের জন্য বড় হুমকি তৈরি করেছে। এই দুই পক্ষের যুদ্ধ প্রায় কয়েক দশক ধরে চলছে। ১৯৮২ সালে ইসরায়েল লেবাননে আক্রমণ চালিয়ে রাজধানী বৈরুত পর্যন্ত ট্যাংক পাঠিয়েছিল। এখানেও কিন্তু ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল লেবাননে থাকা ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের প্রসঙ্গ। তার দীর্ঘ ২২ বছর পর দক্ষিণ লেবানন দখল করে নেয় ইসরায়েল। আর সেই সময় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে হিজবুল্লাহ। ওই অঞ্চল থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয় ইসরায়েল। তারপর থেকেই গোটা বিশ্বে একটা ক্ষমতাশীল সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি পেতে থাকে হিজবুল্লাহ্। এই গোষ্ঠীর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী আধা সামরিক বাহিনী রয়েছে। তারা সবসময় ইসরায়েলকে প্রতিহত করার দায়িত্বে নিজেদের নিয়োজিত করেছে। ইসরায়েলকে বিবেচনা করে এসেছে একটা শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে। তাই তো পশ্চিমা বিশ্বে হিজবুল্লাহকে প্রায়ই সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে গণ্য করা হয়। দুপক্ষ বারংবার দিয়েছে কঠোর বক্তব্য। এর আগেও নেতানিয়াহু স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, যদি কেউ মনে করে, তারা ইসরায়েলের ক্ষতি করবে, তখন কিন্তু ইসরায়েল নীরব থাকবে না। যেভাবেই হোক ইসরায়েল উত্তরের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনবে। অপরদিকে হিজবুল্লাহ্ ইসরায়েলকে দমিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর। এমত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ বাঁধার আশঙ্কা প্রবল।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Exit mobile version