Tag: সাহিত্যিক

  • Samaresh Majumdar Demise: না ফেরার দেশে সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার, উত্তরবঙ্গে লুকিয়ে তাঁর জীবনের কোন রহস্য?

    Samaresh Majumdar Demise: না ফেরার দেশে সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার, উত্তরবঙ্গে লুকিয়ে তাঁর জীবনের কোন রহস্য?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    Samaresh Majumdar Demise: বুদ্ধদেব গুহর একটা ছোট্ট রসিকতার জন্যে বাড়ির বাইরে বেরনো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সমরেশ মজুমদারের। তাঁর গল্পে, উপন্যাসে বারবার ঘুরেফিরে এসেছে উত্তরবঙ্গের সৌন্দর্য। বাংলা সাহিত্যে গোয়েন্দা কম নেই ফেলুদা, কাকাবাবু, ব্যোমকেশ সবাই কলকাতায় থাকেন। কিন্তু সমরেশ মজুমদারের সত্যসন্ধানী অর্জুন জলপাইগুড়ির ছেলে। উত্তরবঙ্গের উপর কেন ছিল তাঁর অমোঘ টান? জীবনদ্বীপ নিভল চিরঘুমের দেশে সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার।

    বাংলা সাহিত্যে উত্তরবঙ্গকে অন্য আলোতে তুলে ধরেছিলেন সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারই। এই উত্তরবঙ্গেই গিয়েই বুদ্ধদেব গুহ-র একটা রসিকতার বড় মাশুল গুনতে হয়েছিল সমরেশ মজুমদারকে। বুদ্ধদেব গুহকে ‘লালাদা’ বলে ডাকতেন। একসময় প্রিয় লালাদার মজার কারণেই মুখের উপর কালবেলার স্রষ্টা বলে দিয়েছিলেন, “এইজন্যই তুমি বড় লেখক হতে পারলে না”। আসলে বুদ্ধদেব গুহ মজা করতে অসম্ভব ভালোবাসতেন। একবার দার্জিলিং থেকে ফিরছেন উনি বৃষ্টির মধ্যে ওঁনার জিপটা উল্টে গেল। অল্প চোট পেলেও তেমন ক্ষতি হয়নি। এবার এই ঘটনা নিয়ে একটি কলামে তিনি মজা করে লিখেছিলেন, ‘এটা ষড়যন্ত্র, আর এর পিছনে রয়েছে সমরেশ মজুমদারের হাত।’ তারপর এটা ছাপাও হল কাগজে। সমরেশ মজুমদার তখন এর বিন্দুবিসর্গ জানেন না। এরপর একের পর এক ফোন আসতে থাকে। অজস্র লোক ফোন করে এটা সেটা বলা শুরু করেন। তিনি তো শুনে হাঁ। ওই দিনগুলোতে কোথাও বেরোতে পর্যন্ত পারেননি লজ্জায়। প্রিয় লালাদাকে জিজ্ঞেস করতেই তিনি প্রশ্ন শুনে দুষ্টু হেসে বলেছিলেন ‘আরে একটু মজা করলাম আর কী। সমরেশ মজুমদারের সেদিন রাগ হয়নি। তিনিও মজা করে বলেন “এটা মজা? এইজন্যই তুমি বড় লেখক হতে পারলে না”

    বাংলা সাহিত্যে উত্তরবঙ্গকে অন্য আলোতে তুলে ধরেছিলেন, সমরেশ মজুমদার। তাঁর শৈশব কেটেছে ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে। এই উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সেই কেটেছে সমরেশ মজুমদারের ছাত্রজীবন। তাঁর গল্পে, উপন্যাসে বারবার ঘুরেফিরে এসেছে উত্তরবঙ্গের অনন্য সৌন্দর্য। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে পড়েছেন। তারপর চলে আসেন কলকাতায়। তাঁর গর্ভধারিনী উপন্যাসে হিমালয়ের কোলে সান্দাকফু পেরিয়ে এক বরফঢাকা গ্রামে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর উপন্যাসের তরুণ চরিত্রদের। বাংলা সাহিত্যে গোয়েন্দা কম নেই ফেলুদা, কাকাবাবু, ব্যোমকেশ সকলেই কলকাতায় থাকেন। রহস্য ধরতে হিল্লিদিল্লিও যান। সেখানে সমরেশ মজুমদারের গল্পের গোয়েন্দা অর্জুন জলপাইগুড়ির ছেলে।

    গত কয়েকদিন ধরেই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন তিনি৷ ফুসফুস ও শ্বাসনালীর সংক্রমণের কারণে তাঁকে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল৷ সেখানেই চলছিল তাঁর চিকিৎসা৷ শেষের দিকে, অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে আইসিইউ-তে রাখা হয়৷ কিন্তু, তা-ও হল না শেষরক্ষা হল না। চিরঘুমের দেশে অনিমেষ মাধবীলতার স্রষ্টা।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Samaresh Majumdar Demise: জোর করেই লিখেছিলেন উত্তরাধিকার! কে ছিলেন সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের প্রতিদ্বন্দ্বী?

    Samaresh Majumdar Demise: জোর করেই লিখেছিলেন উত্তরাধিকার! কে ছিলেন সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের প্রতিদ্বন্দ্বী?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    Samaresh Majumdar Demise: কিসের লোভে লেখালেখির কাজ ধরেছিলেন সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার। একপ্রকার জোর করে তিনি লিখেছিলেন‌ উত্তরাধিকার-কালবেলা। কারণ জানলে অবাক হবেন। জানেন কে ছিলেন এই সাহিত্যিক সবথেকে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী? তাঁর প্রেমের উক্তিতেই প্রথম কলকাতা স্মরণ করবে তাঁকে। মৃত্যু কি সহজ, কি নিঃশব্দে আসে অথচ মানুষ চিরকালই জীবন নিয়ে গর্ব করে যায়৷ বিখ্যাত উক্তি তাঁরই৷ আর সেই কালপুরুষই ফিরে গেলেন মহাকাশে৷ স্ত্রী ধীরা মজুমদারকে হারানোর দেড় বছরের মাথায় ধরাধামকে বিদায় জানালেন সাহিত্যিক।

    শুধু এপার বাংলাই নয়৷ দুই বাংলার জনপ্রিয় লেখক সমরেশ মজুমদারের শুরুটা ধারাবাহিক ব্যর্থতা দিয়ে। নিজের মুখেই জানিয়েছিলেন তাঁর বিখ্যাত প্রথম দুই উপন্যাস উত্তরাধিকার-কালবেলা জোর করেই লিখেছিলেন তিনি। মন থেকে লেখেননি। বলা যেতে পারে, বাধ্য হয়েই লিখেছেন। উত্তরাধিকার প্রকাশের পর পাঠকদের আগ্রহের কথা ভেবে প্রকাশক সাগরময় ঘোষের নির্দেশে বাকি দুই পর্ব লেখা হয়। যার লেখা পড়ে বাঙালি চলে যায় এক অন্য জগতে। সেই সমরেশ মজুমদারে কেন লেখালেখি শুরু করেছিলেন জানেন? তিনি জানিয়েছিলেন কলকাতার বিখ্যাত দেশ পত্রিকায় প্রথমবার পাঠানো তাঁর লেখা ছাপা হবে বলে আশ্বাস দিয়েও ছাপা হয়নি। এরপর পাবলিক ফোন থেকে দেশ পত্রিকার তৎকালীন সম্পাদক বিমল করকে কল করে গালিগালাজ করেছিলেন তিনি। অমনি কাজ, ১৫ টাকা সম্মানী পেয়ে সেই টাকায় বন্ধুদের খাইয়েছিলেন। সেই খাওয়ার লোভে বন্ধুরা তাঁকে আবারও লিখতে বলেন। সেই কফি খাওয়া‌ ও খাওয়ানোর লোভ থেকেই সাহিত্যিক হিসেবে পদার্পণ করেন সমরেশ মজুমদার।

    পৃথিবীর অর্ধেক কাজ যুক্তি দিয়ে হয় না। এমন উক্তির বাদশা সমরেশবাবু। প্রথমবার নাটক লিখতে গিয়ে আজব কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। সমরেশ মজুমদারেরা গ্রুপ থিয়েটার করতেন কলকাতায়। বন্ধুরা অনুরোধ করেন নাটক লেখার জন্য। সমরেশ মজুমদার লিখলেন নাটক। পরদিন সেই নাটক শুনে সকলে হাঁ। সবাই বললেন, পড়ে খুব ভালো লাগছে, কিন্তু গল্প হয়েছে নাটক হবে না। আত্মজীবনী লেখা নিয়ে মজার কথা বলেছিলেন তিনি। আত্মজীবনী লিখলে ঘরে এবং বাইরে শত্রু তৈরি হবে। দুপারেরই অত্যন্ত প্রিয় সাহিত্যিক প্রয়ানের খবরে আজ বড্ড মন ভারাক্রান্ত বাংলার, বাঙালির৷ আর যে কেউ লিখবে না। ছাইটা হল স্মৃতি, আগুনটা হল বর্তমান।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম