Sushmita Dev BJP: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর এবার রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে সামনে এলেন প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেব। তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা করার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। তৃণমূলের নেতাদের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে যখন নানা প্রশ্ন উঠছে, ঠিক সেই সময়ই বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। একই সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং নতুন রাজনৈতিক দায়িত্ব নিয়ে নিজের বক্তব্যও জানালেন সুস্মিতা দেব।
দিলীপ ঘোষ বলেন, বিজেপি কোনও রাজনৈতিক দল থেকে আসা ব্যক্তিকে শুধু তাঁর অতীত পরিচয় দেখে বিচার করে না। দলের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল একজন ব্যক্তির যোগ্যতা, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং দেশের প্রতি কাজ করার মানসিকতা। তাঁর কথায়, “ভারতের রাজনীতিতে বিজেপি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে বহু নেতাকে গ্রহণ করেছে। এটা কোনও নতুন বিষয় নয়।”
তিনি আরও বলেন, রাজ্যসভায় বিজেপির শক্তি আরও বাড়ানো জরুরি, যাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রের সরকার আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। সেই কারণেই যোগ্য ব্যক্তিদের দলে স্বাগত জানানো হচ্ছে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বিধায়কদের বৈঠকের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, সেই বৈঠকের পরিবেশ ছিল একটি পরিবারের মতো। নবাগত নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সকলকে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সদ্য বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজ্যসভার প্রার্থী হওয়া সুস্মিতা দেব বলেন, এই দায়িত্ব পাওয়ায় তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিজেপির বিধায়ক, দলীয় নেতৃত্ব এবং তৃণমূল স্তরের কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁর কথায়, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর এত দ্রুত রাজ্যসভার প্রার্থী হওয়া তাঁর কাছে বড় সম্মানের বিষয়।
সুস্মিতা দেব জানান, তাঁর জন্ম আসামের শিলচরে হলেও সংসদে থাকার সময় তিনি যেমন আসামের স্বার্থে কথা বলেছেন, তেমনই পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বার্থেও ধারাবাহিকভাবে সরব ছিলেন। ভবিষ্যতেও পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করার চেষ্টা করবেন বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, রাজ্যসভার ভিতরে সক্রিয়ভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরতে হবে, জনস্বার্থের ইস্যুতে সরব থাকতে হবে এবং রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে হবে। মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়কদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কাজ করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
বিজেপির সাংগঠনিক পরিবেশ সম্পর্কে বলতে গিয়ে সুস্মিতা দেব বলেন, দলের ভিতরে তিনি একেবারে পরিবারের মতো পরিবেশ অনুভব করেছেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেস সম্পর্কে কটাক্ষ করতে চাননি তিনি। তাঁর কথায়, “প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব সাংগঠনিক সংস্কৃতি থাকে। তৃণমূলের কাজের ধরন এক রকম ছিল, বিজেপির কাজের ধরন আলাদা। আমি শুধু বলতে পারি, এখানে এসে আমি একটি বড় পার্থক্য অনুভব করেছি।”
তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে বিজেপির দরজা যে যোগ্য নেতাদের জন্য খোলা, সেই বার্তা স্পষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে সুস্মিতা দেবের “পরিবারের মতো পরিবেশ” মন্তব্য তৃণমূলের অন্দরমহল নিয়েও নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এখন নজর রাজ্যসভার নির্বাচনের দিকে। সুস্মিতা দেবের প্রার্থীপদ এবং তাঁর এই মন্তব্য আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।

