Sonam Wangchuk Hunger Strike: দিল্লিতে ছাত্র-যুব আন্দোলনের আবহে নিজের অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করলেন লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। রবিবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ না আন্দোলনকারী যুব প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, অথবা তাঁকে হাসপাতালে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ তিনি অনশন ভাঙবেন না।
বর্তমানে দিল্লির একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো সামাজিক মাধ্যমে একটি হাতে লেখা চিঠি প্রকাশ করেন, যেখানে ওয়াংচুক নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং আন্দোলনরত ছাত্র-যুবদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।
চিঠিতে সোনম ওয়াংচুক লিখেছেন, “আজ আমার অনশনের ২৩তম দিন। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করা তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে যেভাবে কঠোর আচরণ করা হচ্ছে, তা দেখে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, সংসদ ভবনে তাঁদের সাংসদদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত, অথবা আমাকে হাসপাতালে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়া পর্যন্ত আমি অনশন চালিয়ে যাব।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলেই তিনি আশা করছেন। তাঁর কথায়, আন্দোলনকারীরা লাগাতার উস্কানি সত্ত্বেও শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখেছেন, যা তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
ওয়াংচুক সরকার ও পুলিশের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে বলেন, ছাত্রদের অভিযোগ সংসদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ দিলেই পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনেও আন্দোলনকারীরা একই ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখবেন।
এদিকে, এদিনই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা আন্দোলনকারী সংগঠনের দুই প্রতিনিধি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা-র সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে লিখিত দাবি পেশ করেন। সেই দাবির অন্যতম বিষয় ছিল পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি, যারা শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার, পরীক্ষায় স্বচ্ছতা এবং কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ নাগরিকদের সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দিল্লি উচ্চ আদালতেও শুনানি হয়েছে। তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো একটি আবেদন জানিয়ে ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতাল থেকে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি চেয়েছিলেন।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়া-র ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, শুধু পরীক্ষাগারের রিপোর্ট দেখে কোনও রোগীর শারীরিক অবস্থার মূল্যায়ন করা যায় না; চিকিৎসকদের ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আদালত সফদরজং হাসপাতালকে নির্দেশ দিয়েছে, ওয়াংচুকের সমস্ত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নথি, পরীক্ষার রিপোর্ট এবং স্বাস্থ্য বুলেটিন শপথপত্র আকারে জমা দিতে হবে।
রাজধানীতে চলমান ছাত্র আন্দোলন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা এবং সোনম ওয়াংচুকের অনশন—এই তিনটি ঘটনাকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে, সেদিকেই এখন নজর দেশের রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।
#SonamWangchuk #HungerStrike #CJPProtest #DelhiProtest #StudentMovement #EducationReform #NEET #Parliament #IndiaNews #BreakingNews

