Sheikh Hasina Extradition: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে থেকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের অনুরোধ নিয়ে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলল নয়াদিল্লি। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, ঢাকা সরকারের পাঠানো প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত অনুরোধ বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে। বিষয়টি এখনও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং এ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় উপস্থাপিত পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সংসদে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে ‘ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনায় শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর যে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ এসেছে, তা বিদ্যমান আইন এবং আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। সংসদীয় কমিটি সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিল, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে অনুপস্থিতিতে বিচার ও মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আবেদনের অগ্রগতি কোথায় পৌঁছেছে। এর জবাবেই সরকার জানায়, বিষয়টি এখনও পর্যালোচনাধীন।
কেন প্রত্যর্পণের আবেদন?
২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে ভারত চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নয়াদিল্লির কাছে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরও একই দাবি ভারতের কাছে পুনরায় জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ পাননি, দাবি ভারতের
ভারতীয় সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ মানবিক কারণেই। ভারতের দীর্ঘদিনের নীতি অনুযায়ী, চরম সংকট বা জীবনহানির আশঙ্কায় থাকা ব্যক্তিদের মানবিক ভিত্তিতে আশ্রয় দেওয়া তাদের ঐতিহ্যের অংশ।
যদিও শেখ হাসিনা ভারতে বসে ভার্চ্যুয়ালি দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, বিবৃতি দিয়েছেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সময়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তবুও ভারত সরকারের দাবি, তাঁকে ভারতের মাটি ব্যবহার করে কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হতে দেয় না, যাতে তাদের ভূখণ্ড অন্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়।
সংসদীয় কমিটির সুপারিশ
পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি ভারত সরকারকে সুপারিশ করেছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সংবেদনশীল ইস্যুতে মানবিক ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন, কূটনৈতিক দায়বদ্ধতা এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপর নজর
বিশেষজ্ঞদের মতে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নটি এখন শুধু আইনি বিষয় নয়, বরং ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। দিল্লি কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—বাংলাদেশের অনুরোধ বিবেচনাধীন, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
#SheikhHasina #Extradition #IndiaBangladesh #BangladeshPolitics #IndiaNews #SouthAsia #BreakingNews
