Ram Mandir Donation Scam: অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত আরও বিস্তৃত করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। ইতিমধ্যেই এই মামলায় ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবার মন্দিরের দৈনন্দিন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৫০ জন কর্মী, ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, এমনকি নির্মাণ ও জমি কেনাবেচার আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রায় ৫০ কর্মীর ভূমিকা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাম মন্দিরে ভক্তদের অনুদানের টাকা গণনার কাজে প্রায় ৫০ জন কর্মী নিয়োজিত ছিলেন। তাঁদের অধিকাংশকেই ট্রাস্টের পদাধিকারী বা তাঁদের ঘনিষ্ঠদের সুপারিশে নিয়োগ করা হয়েছিল।
এখন তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন—
তাঁদের নিয়োগের প্রক্রিয়া
আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন সম্পত্তি রয়েছে কি না
ট্রাস্টের কয়েকজন শীর্ষ পদাধিকারী ও সরকারি আধিকারিকদের সম্ভাব্য ভূমিকা
উচ্চপদস্থ সূত্রের দাবি, তদন্ত শুধু অনুদান চুরিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ট্রাস্টের নির্মাণ প্রকল্প ও জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা হবে। সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে অনুদান লুকিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, তদন্তকারী সংস্থার দাবি, গ্রেফতার হওয়া ৮ জনের মধ্যে অন্তত ৬ জনের বিরুদ্ধে সিসিটিভি ফুটেজে সরাসরি প্রমাণ মিলেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অনুদানের টাকা গণনার সময় তারা—
জামার ভিতরে
পকেটে
এমনকি জুতোর ভিতরেও
নোটের বান্ডিল লুকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল।
ঘটনাটি ঘটেছে রাম মন্দিরের Pilgrim Facilitation Centre-এ, যেখানে প্রতিদিন ভক্তদের অনুদান গণনা করা হয়।
কারা গ্রেফতার হয়েছে?
ট্রাস্টের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৫ জুন এফআইআর দায়ের করে পুলিশ।
এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন—
অবিনাশ শুক্লা
লাভকুশ মিশ্র
অনুকল্প মিশ্র
মনীশ কুমার যাদব
করুণেশ পাণ্ডে
রামাশঙ্কর মিশ্র
রাম শঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু যাদব
সুভাষ শ্রীবাস্তব
পুলিশ জানিয়েছে, টিন্নু যাদব একসময় শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়ের চালক ছিলেন। অভিযোগ, তিনি অনুদান বাক্সের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে তাঁর ভাইপো মনীশ যাদব অনুদানের টাকা গণনার কাজে যুক্ত ছিলেন।
নগদ টাকা, গয়না ও নথি উদ্ধার
তদন্তে ইতিমধ্যেই—
টিন্নু যাদবের বাড়ি থেকে ১ লক্ষ টাকা
মনীশ যাদবের বাড়ি থেকে ২ লক্ষ টাকা
উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এছাড়াও পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে উদ্ধার হয়েছে—
নগদ অর্থ
সোনার গয়না
সম্পত্তি সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি
তদন্তকারীদের ধারণা, আত্মসাৎ করা টাকার একটি অংশ দিয়ে সম্পত্তিও কেনা হয়ে থাকতে পারে। সেই অভিযোগ যাচাই করতে অভিযুক্তদের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
জুনে সামনে আসে কেলেঙ্কারি, ইতিমধ্যেই ইস্তফা দুই ট্রাস্ট কর্তার, গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রথম প্রকাশ্যে আসে রাম মন্দিরে অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত—
৮ জন গ্রেফতার হয়েছে।
ট্রাস্টের দুই শীর্ষ পদাধিকারীর ইস্তফা দিয়েছেন।
এদিকে বিরোধী দলগুলি জানিয়েছে, আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে এই বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হবে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই রাম মন্দির ট্রাস্টের আর্থিক স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
#RamMandir #RamMandirDonationScam #Ayodhya #IndiaNews #CrimeNews #TempleDonation #UttarPradesh #BreakingNews #ShriRamJanmabhoomi #Investigation

