Purulia Manbazar JICA Project: সরকারের একশো দিন পূর্ণ হওয়ার দিন পুরুলিয়ার মঞ্চ থেকে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি চাকরি, নতুন জব কার্ড, গ্রামীণ কর্মসংস্থান, আবাসন, ভাতা, খাদ্য, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে ওবিসি এবং কুর্মালি ভাষার স্বীকৃতি—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের আগামী দিনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরলেন তিনি। একই সঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনা ও আয়ুষ্মান যোজনা নিয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা। নতুন করে জব কার্ডের জন্য আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে। পাশাপাশি ১২৫ দিনের কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের নির্দিষ্ট হারে অর্থ দেওয়ার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি আবাসন, বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণাও এসেছে একই মঞ্চ থেকে। অর্থাৎ একশো দিনের সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরতে গিয়ে একাধিক জনমুখী প্রকল্পের কথা সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
নতুন জব কার্ড থেকে ১২৫ দিনের কাজ, কর্মসংস্থানে বড় বার্তা
গ্রামীণ কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে নতুন জব কার্ডের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। যাঁদের নতুন করে কাজের প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের গ্রাম পঞ্চায়েতে যোগাযোগ করে জব কার্ডের জন্য আবেদন করার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে ১২৫ দিনের কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের আর্থিক সুবিধার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যাঁরা ১২৫ দিনের কাজ করবেন, তাঁরা দৈনিক ৩০০ টাকা হিসাবে বছরে মোট ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন।
গ্রামের মানুষের হাতে কাজ এবং সেই কাজের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিকে সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবারগুলির আয় বাড়ানোর পরিকল্পনাও।
এছাড়াও ‘বিকশিত ভারত জি রামজি’ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এই অর্থের নির্দিষ্ট কাঠামো, কারা কীভাবে পাবেন এবং কোন পর্যায়ে তা কার্যকর হবে—সে বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট নয়।
সরকারি চাকরি থেকে ওবিসি, নিয়োগে স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি
সরকারি চাকরির বিষয়টিও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর আগে পুরুলিয়ার মঞ্চ থেকেই তিনি শিক্ষক, পুলিশ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় এক লক্ষের কাছাকাছি নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।
এবারও সেই প্রসঙ্গ সামনে রেখে যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয় পরিষেবা কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন এবং পুলিশ নিয়োগ পর্ষদের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার কথা জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির ক্ষেত্রেও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকৃত ওবিসি সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে তাঁদের প্রাপ্য সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করা হবে। অর্থাৎ তালিকায় প্রকৃত যোগ্যদের সুযোগ দেওয়ার উপর গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
তবে কোন সম্প্রদায়ের নাম কীভাবে সংশোধিত হয়েছে এবং এই সংক্রান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ঠিক কোন পর্যায়ে রয়েছে, সে বিষয়ে আরও সরকারি নথি প্রকাশিত হলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
বাড়ছে সামাজিক ভাতা, সেপ্টেম্বর থেকে নতুন হারে টাকা
সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাস থেকে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা—এই তিন ক্ষেত্রেই মাসিক ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হবে।
এই ঘোষণার ফলে রাজ্যের প্রবীণ নাগরিক, বিধবা মহিলা এবং প্রতিবন্ধী মানুষের একটি বড় অংশ উপকৃত হতে পারেন বলে দাবি করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় থাকা পরিবারগুলির কাছে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
একই সঙ্গে আগের সরকারের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ভাতা-সংক্রান্ত পাওনা প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, জুলাই মাসে কিছুটা বকেয়া মেটানো হয়েছে এবং বাকি পাওনাও সরকার ধাপে ধাপে মিটিয়ে দেবে।
অর্থাৎ সরকারি কর্মী ও সামাজিক সুরক্ষার আওতায় থাকা মানুষের আর্থিক পাওনা—দুই ক্ষেত্রেই সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
আবাসন, বিদ্যুৎ ও রেশনেও একাধিক ঘোষণা
গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য আবাসন প্রকল্পের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অধীনে ৩০ লক্ষ সুবিধাভোগীর বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। প্রকল্পটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং সুবিধাভোগীদের তালিকা কীভাবে তৈরি হবে, তা নিয়ে পরবর্তী সরকারি নির্দেশিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বাড়িতে সৌর প্যানেল বসানোর ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যাঁরা বাড়িতে সৌর প্যানেল বসাবেন, তাঁদের বিদ্যুতের বিল মকুব করার ব্যবস্থা করা হবে।
এই ঘোষণার মূল লক্ষ্য হিসেবে পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ খরচ কমানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এই সুবিধা পাওয়ার শর্ত, সৌর প্যানেলের ক্ষমতা এবং বিল মকুবের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত নিয়ম এখনও স্পষ্ট নয়।
জঙ্গলমহলের মানুষের জন্য খাদ্য সরবরাহ নিয়েও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। লোধা, ওরাঁও-সহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়ি বাড়ি রেশন পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে প্রত্যন্ত ও বনাঞ্চল এলাকার মানুষকে রেশন দোকানে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তা কিছুটা কমানো সম্ভব হবে বলে সরকারের বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে।
হাসপাতালের খাবার ও বিদ্যালয়ের মধ্যাহ্নভোজে বরাদ্দ বৃদ্ধি
স্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়েও একাধিক তথ্য তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগীদের খাবারের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে তিন বেলার খাবারের জন্য রোগীপিছু ৫৬ টাকা ৪০ পয়সা দেওয়া হতো, বর্তমানে তা বাড়িয়ে ১১০ টাকা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যাহ্নভোজের জন্যও অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর কথা জানান তিনি। শিশুদের পুষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে বিদ্যালয়ের খাবারের মান ও পরিমাণ উন্নত করার লক্ষ্যের কথাও এই ঘোষণার সঙ্গে যুক্ত।
স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে আগেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সুবিধার কথা তুলে ধরা হয়েছিল। ফলে একশো দিনের সরকারের কাজের খতিয়ানে স্বাস্থ্য পরিষেবা, হাসপাতালের খাবার এবং সামাজিক সুরক্ষাকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
কুড়মালী ভাষার স্বীকৃতি ও জঙ্গলমহলকে ঘিরে বার্তা
পুরুলিয়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে কুড়মালী ভাষার প্রসঙ্গও বিশেষভাবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কুর্মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং উপযুক্ত সময়ে তা কার্যকর করার ব্যবস্থা করা হবে।
এই ঘোষণা পুরুলিয়া ও সংলগ্ন অঞ্চলের ভাষাভাষী মানুষের কাছে সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হতে পারে। ভাষার স্বীকৃতির বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক নয়, এর সঙ্গে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর পরিচয়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে।
একই সঙ্গে জঙ্গলমহলের আদিবাসী ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য বাড়ি বাড়ি রেশন পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান বাড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। ফলে পুরুলিয়ার মঞ্চ থেকে সরকারের ঘোষণাগুলিতে উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা ও আঞ্চলিক পরিচয়ের বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে।
সরকারের একশো দিন পূর্তিতে পুরুলিয়ার মঞ্চ থেকে একাধিক ক্ষেত্রকে সামনে রেখে আগামী দিনের কর্মসূচির কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। নতুন জব কার্ড ও গ্রামীণ কর্মসংস্থান থেকে সরকারি চাকরি, ওবিসি-র সুযোগ, সামাজিক ভাতা, আবাসন, সৌরবিদ্যুৎ, বাড়ি বাড়ি রেশন, হাসপাতালের খাবার, আয়ুষ্মান ভারত এবং কুর্মালি ভাষার স্বীকৃতি—বিভিন্ন বিষয়েই একাধিক ঘোষণা এসেছে।
#Purulia #Manbazar #JICAProject #WaterSupply #PipedWaterSupply #DrinkingWater #WestBengal #RuralDevelopment #WaterProject #WestBengalNews














