PM Modi Amit Shah Rahul Gandhi: রাজনীতির মঞ্চে যাঁদের একে অপরের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা যায়, সেই নেতারাই যখন একই অনুষ্ঠানে পাশাপাশি উপস্থিত হন, তখন স্বাভাবিকভাবেই নজর কাড়ে সেই মুহূর্ত। দিল্লিতে এমনই এক বিরল রাজনৈতিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল একটি বিয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। একই অনুষ্ঠানে দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক প্রথম সারির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে।
অনুষ্ঠানটি ছিল রাষ্ট্রবাদী কংগ্রেস পার্টির সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের মেয়ে রেবতী সুলের বিয়ের দিল্লির রিসেপশন অনুষ্ঠান। মুম্বইয়ে জুন মাসে রেবতীর সঙ্গে নাগপুরের শিল্পপতি সারং লাখানির বিয়ে হয়েছিল। সেই বিয়েরই জাঁকজমকপূর্ণ দিল্লির রিসেপশন অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় ৬, জনপথে।
একই অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা
সংসদে যে নেতাদের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত, তাঁদেরই একই অনুষ্ঠানে সৌজন্যের আবহে দেখা যায়। অমিত শাহ অনুষ্ঠানে এসে নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানান। এরপর রাহুল গান্ধী, তাঁর মা সোনিয়া গান্ধী এবং বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে মঞ্চে আসেন। সুপ্রিয়া সুলে তাঁদের নবদম্পতির পাশে দাঁড় করিয়ে দেন। ফলে একসঙ্গে দেখা যায় গান্ধী পরিবারের সদস্যদের।
এর কিছু পরেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি শরদ পওয়ার ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন এবং পরে নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানান। রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও ব্যক্তিগত ও সামাজিক অনুষ্ঠানে সৌজন্যের এই ছবি ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
অমিত শাহের সঙ্গে একই ফ্রেমে রাহুল গান্ধী
এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচিত দৃশ্য ছিল অমিত শাহ ও রাহুল গান্ধীর একই পরিসরে উপস্থিতি। সংসদে একাধিক বিষয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান নেওয়া দুই নেতাকে অনুষ্ঠানের মঞ্চের কাছাকাছি দেখা যায়। অমিত শাহ যখন মঞ্চে ওঠার অপেক্ষায় ছিলেন, তখন কয়েক ফুট দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাহুল গান্ধী।
এটি মূলত একটি পারিবারিক বিয়ের সংবর্ধনা, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন।
মোদী-রাহুল-সোনিয়া, এক অনুষ্ঠানে একাধিক পরিচিত মুখ
শুধু বিজেপি ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারাই নন, অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। অখিলেশ যাদবের সঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর সৌজন্য বিনিময়ের দৃশ্যও নজরে আসে। পাশাপাশি প্রফুল পটেল, এস জয়শঙ্কর, দীপেন্দ্র হুডা, হরদীপ সিং পুরী, চিরাগ পাসোয়ান, গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত, রেণুকা চৌধুরী, প্রবেশ বর্মা, গিরিরাজ সিংহ এবং রামদাস আঠাওয়ালের মতো নেতারাও অনুষ্ঠানে ছিলেন।
এমনকি ক্রীড়াজগতের পরিচিত মুখ পি টি ঊষা এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ফলে এটি কার্যত একটি উচ্চপ্রোফাইল রাজনৈতিক ও সামাজিক সমাবেশে পরিণত হয়।
বিয়ের অনুষ্ঠানেই মিলল ভিন্ন রাজনৈতিক ছবির দেখা
ভারতের রাজনীতিতে নির্বাচনী লড়াই, সংসদীয় বিতর্ক এবং রাজনৈতিক আক্রমণ প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা। সেই আবহে কোনও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শিবিরের নেতাদের পাশাপাশি দেখা গেলে তা স্বাভাবিকভাবেই আলাদা মাত্রা পায়।
এই অনুষ্ঠানের ছবিও সেই কারণেই বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। একদিকে ছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, অন্যদিকে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন রাষ্ট্রবাদী কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা শরদ পওয়ার এবং তাঁর কন্যা সুপ্রিয়া সুলে। ফলে রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে সৌজন্য ও পারস্পরিক শুভেচ্ছার অন্য ছবি সামনে এল।













