Nitish Kaushal Arrest:ভারতীয় বংশোদ্ভূত কুখ্যাত গ্যাংস্টার নীতিশ কৌশল ওরফে ‘লালা’-কে অবশেষে গ্রেফতার করল মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই (FBI)। কানাডা সীমান্ত থেকে এক মাইলেরও কম দূরে যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের অ্যালবার্গ (Alburgh) এলাকা থেকে গত ১৬ জুলাই তাকে আটক করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেফতারের আগে কয়েকদিন ধরে তিনি ফেডারেল এজেন্টদের চোখ এড়িয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন, ট্র্যাক করা মোবাইল ফোন ফেলে দেন এবং ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নিজের পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করেন।
কানাডা সীমান্তের কাছেই ধরা পড়ল অভিযুক্ত
মার্কিন আদালতে জমা দেওয়া নতুন নথি অনুযায়ী, ২৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি নীতিশ কৌশলের বিরুদ্ধে র্যাকেটিয়ার ইনফ্লুয়েন্সড অ্যান্ড করাপ্ট অর্গানাইজেশনস (RICO) আইনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে চার্জ গঠন করে।
এরপর ৭ জুলাই তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় এফবিআই। অভিযোগ, অভিযুক্ত তখন তদন্তকারীদের নজরদারিতে থাকা মোবাইল ফোনটি ফেলে দিয়ে গা-ঢাকা দেয়। এরপরই তাকে FBI Most Wanted তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
কীভাবে ধরা পড়লেন নীতিশ কৌশল?
মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, কানাডা সীমান্ত থেকে কয়েক ফুট দূরে একটি গাড়ি ফেলে রেখে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন নীতিশ।
একই সময় কানাডার আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাও সীমান্তের ওপারে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে হেঁটে যেতে দেখেছিল। যদিও আদালতের নথিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তিই নীতিশ ছিলেন—এমন প্রমাণ নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি।
এরপর ভারমন্টের এক বাসিন্দা নিজের বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় দেখতে পান, এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি গাড়ির ভিতরে উঁকি দিচ্ছে এবং পরে একটি গোয়ালঘরে ঢুকে পড়ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই মার্কিন বর্ডার প্যাট্রোল অভিযান চালায়।
ভুয়ো লাইসেন্স দেখিয়ে বাঁচার চেষ্টা
গ্রেফতারের সময় নীতিশ কৌশল নিজের পরিচয় গোপন করতে নিউ জার্সির একটি ভুয়ো ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখান, যেখানে অন্য এক ব্যক্তির নাম ছিল।
তবে তদন্তকারীরা আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের সময় নীতিশ নিজেও স্বীকার করেন যে লাইসেন্সটি তার নয়।
তদন্তকারীরা তার শরীরে থাকা সিংহের ট্যাটু-র ছবির সঙ্গে তদন্ত চলাকালীন সংগৃহীত ট্যাটুর ছবি মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের সঙ্গে যোগের অভিযোগ
৪৪ পাতার ফেডারেল চার্জশিট অনুযায়ী, নীতিশ কৌশল জগ্গু ভগবানপুরিয়া অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ-এর অন্যতম সদস্য।
মার্কিন তদন্তকারীদের দাবি, পাঞ্জাবকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই অপরাধচক্র বর্তমানে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটেন, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে সক্রিয়।
চার্জশিটে বলা হয়েছে—
সংগঠনের সদস্য ও সহযোগীর সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি
শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই রয়েছে শতাধিক সদস্য
অপরাধচক্রটি খুন, অপহরণ, মাদক পাচার, তোলাবাজি, অস্ত্র পাচার, অর্থপাচার ও মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত
তদন্তকারীদের দাবি, প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকে নির্মূল করা, ভয় দেখানো এবং অপরাধচক্রের আধিপত্য বজায় রাখতে নিয়মিত হিংসার আশ্রয় নেওয়া হতো।
নীতিশের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, ১০ জুলাই ২০২৪ ক্যালিফোর্নিয়ায় সংঘটিত এক অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় নীতিশ কৌশলের সরাসরি ভূমিকা ছিল।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, গ্যাংয়ের একটি মাদক চালান চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে ক্যালিফোর্নিয়ার ম্যানটেকা শহরের একটি বাড়িতে ডেকে আনা হয়।
সেখানে নীতিশ কৌশল, অমৃতপাল সিং বাল, হর্ষপ্রীত সিং এবং অমরবীর সিং মিলে ওই ব্যক্তিকে বেঁধে রাখেন।
এরপর নীতিশ ও তার সহযোগীরা ওই ব্যক্তিকে ফ্রেসনো শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে এবং ৫০ হাজার মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করে। পরে সংগঠনের প্রধান জগ্গু ভগবানপুরিয়ার নির্দেশে অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটাতে ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
মাদক পাচার থেকে ‘সুপারি কিলিং’
ফেডারেল তদন্তে দাবি করা হয়েছে, এই অপরাধচক্র—
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শতাধিক কেজি কোকেন ও মেথামফেটামিন পাচার করত
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে পূর্ব উপকূল এবং কানাডা সীমান্ত পর্যন্ত মাদক সরবরাহ করত
সুপারি নিয়ে খুন করত
প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মাদক লুট করত
মাদক চুরির সন্দেহে নির্মম অত্যাচার চালাত
অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগ
মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, নীতিশ কৌশল ২০২২ সালে অ্যারিজোনার ইউমা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন।
এরপর ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা দায়ের হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি শুধুমাত্র একটি অস্ত্র মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন এবং ৬০ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করেন।
এছাড়া ২০২৬ সালে তার বিরুদ্ধে একটি মাদক-সংক্রান্ত মামলাও রয়েছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জামিনের বিরোধিতায় এফবিআই
মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটররা আদালতে জানিয়েছেন, নীতিশ কৌশলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং তার বিরুদ্ধে সরকারের হাতে শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে।
তাদের দাবি, চার্জশিট প্রকাশের পর তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে পলাতক হন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে এড়িয়ে চলেন এবং পালানোর পর্যাপ্ত সক্ষমতা ও সুযোগ রয়েছে।
এই কারণেই বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হেফাজতেই রাখার আবেদন জানিয়েছে মার্কিন সরকার। বর্তমানে বিষয়টি মার্কিন আদালতের বিচারাধীন।
#NitishKaushal #FBI #CanadaBorder #JagguBhagwanpuria #OrganizedCrime #USNews #CrimeNews #IndianGangster #BreakingNews #WorldNews

