Nepal Flood Rescue: নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে এখনও বহু ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। দুর্গম পথে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন নেপালি সেনা, উদ্ধারকারী দল ও শেরপারা। ভারতীয় দূতাবাসও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। তবে আটকে থাকা ভারতীয়দের কবে নিরাপদে ফেরানো সম্ভব হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রথম কলকাতা ডিজিটাল ডেস্ক: নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর একের পর এক উদ্বেগজনক খবর সামনে আসছে। প্রবল বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়েছেন বহু মানুষ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে নেপালে যাওয়া পর্যটক এবং কর্মসূত্রে সেখানে থাকা ভারতীয় নাগরিকেরা। পরিস্থিতি এতটাই কঠিন যে বহু এলাকায় স্থলপথে পৌঁছনো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকারী দলকে কোথাও কাদামাটি সরিয়ে এগোতে হচ্ছে, কোথাও আবার ভেঙে যাওয়া সড়ক ও ভূমিধসের কারণে বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—নিখোঁজ ভারতীয়দের কতজনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হবে এবং কবে তাঁদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা যাবে? এই মুহূর্তে উদ্ধারকারী দল, নেপাল প্রশাসন এবং ভারতীয় দূতাবাসের মধ্যে যোগাযোগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ধ্বংসস্তূপ আর কাদার মধ্যেই চলছে উদ্ধারকাজ (Nepal Flood Rescue)
নেপালের যে সমস্ত এলাকায় বিপর্যয়ের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে, সেখানে উদ্ধারকাজ চালানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপুল পরিমাণ কাদা, পলি এবং ধ্বংসাবশেষ বহু জায়গায় রাস্তা ও চলাচলের পথ ঢেকে দিয়েছে। ফলে সাধারণ যানবাহন নিয়ে উদ্ধারকারীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছনো সম্ভব হচ্ছে না। যে সব সড়ক দিয়ে আগে সহজেই দুর্গম এলাকাগুলিতে যাওয়া যেত, তার অনেকটাই এখন ভূমিধস এবং ধ্বংসস্তূপে বন্ধ।
এই পরিস্থিতিতে নেপালি সেনা, উদ্ধারকারী দল এবং স্থানীয়ভাবে দক্ষ পাহাড়ি কর্মীদের নিয়ে তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় কাজের অভিজ্ঞতা থাকা শেরপাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ বিপর্যস্ত এলাকার ভূপ্রকৃতি সম্পর্কে তাঁদের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে এগোতে হয়, সে সম্পর্কেও তাঁরা অভিজ্ঞ।
উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে যে পরিস্থিতির কথা জানা যাচ্ছে, তাতে স্পষ্ট—অনেক জায়গায় কাদার স্তর এতটাই পুরু যে তা সরিয়ে এগোতে যথেষ্ট সময় লাগছে। একটি জায়গা পরিষ্কার করার পর আবার অন্য জায়গায় নতুন বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে উদ্ধার অভিযান দ্রুত গতিতে চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
আরও পড়ুন : নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে কলকাতার ৩২ জন নিখোঁজ, তাঁদের খোঁজে জরুরি হেল্পলাইন, জানুন নম্বর
এখনও যোগাযোগ নেই বহু ভারতীয়ের সঙ্গে (Nepal Flood Rescue)
এখনও বহু ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে যুক্ত সূত্রগুলির বক্তব্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ভারতীয়দের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। একটি সাম্প্রতিক হিসাবে প্রায় ২৯০ জন ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে নেপাল পর্যটন পর্ষদের কাছ থেকে পাওয়া আরেকটি তালিকায় বিভিন্ন দেশের নিখোঁজ নাগরিকদের সংখ্যা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই তালিকায় ভারতের ১৭৮ জনের নাম রয়েছে। ফলে সংখ্যার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক বিভিন্ন তালিকার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলেই আপাতত বোঝা যাচ্ছে। পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা বদলাতেও পারে।
এই কারণেই নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁরা শেষ কোথায় ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে থাকা সঙ্গীদের তথ্য এবং শেষবার কখন যোগাযোগ হয়েছিল—এই সমস্ত তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় নাগরিকদের পরিবারের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
উদ্ধার হয়েছে কর্মরত ভারতীয়দের একটি দল
এত উদ্বেগের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। ত্রিশূলী অঞ্চলের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ভারতীয় শ্রমিকদের একটি দলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৫ জন কর্মী রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়াও তামিলনাড়ু থেকে যাওয়া ২১ জন পর্যটকের সঙ্গেও যোগাযোগের খবর পাওয়া গেছে। তাঁরা বিপর্যস্ত এলাকার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আগেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে থেমে যান। তাঁদের সঙ্গে থাকা গাড়ির চালক এবং দলের সদস্যরা পরিস্থিতি বুঝে তাঁদের বিকল্প পথ দিয়ে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। পরে তাঁদের কাঠমান্ডুর দিকে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এই ঘটনাগুলি থেকেই বোঝা যাচ্ছে, বিপর্যয়ের সময় স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যাঁরা সময়মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে পেরেছেন, তাঁদের অনেককেই বিকল্প পথ ব্যবহার করে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছনোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
সড়কপথ বন্ধ, ভরসা এখন আকাশপথ (Nepal Flood Rescue)
উদ্ধার অভিযানের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বহু জায়গায় সড়কপথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারী দলকে আকাশপথের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কাঠমান্ডু অথবা কাছাকাছি কোনও হেলিপ্যাড থেকে উড়ান চালানোর ব্যবস্থা করা গেলেও বিপর্যস্ত এলাকায় গিয়ে নামার মতো উপযুক্ত জায়গা তৈরি করাই এখন বড় সমস্যা।
কাদামাটি এবং পলিতে ঢেকে থাকা এলাকায় হেলিকপ্টার নামানো নিরাপদ নয়। আবার প্রয়োজনীয় জায়গায় অবতরণের ব্যবস্থা না থাকলে সরাসরি মানুষকে উদ্ধার করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে শুধু আকাশপথে উদ্ধারকারী দল পাঠানোই যথেষ্ট নয়, তাঁদের নামার জন্য নিরাপদ স্থান তৈরি করাও জরুরি।
এর সঙ্গে রয়েছে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা। পাহাড়ি এলাকায় হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। তাই একদিকে যেমন স্থলপথে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে, অন্যদিকে আকাশপথে কীভাবে উদ্ধার অভিযান আরও কার্যকর করা যায়, সেই চেষ্টাও চলছে।
ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ (Nepal Flood Rescue)
নেপালে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের বিষয়ে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও বহু মানুষ নেপালে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০ জনের বিষয়ে বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে থাকা ভ্রমণ সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি দল কাঠমান্ডুতে পৌঁছনোর উদ্যোগ নিয়েছে।
নেপালে থাকা ভারতীয়দের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে নিখোঁজদের প্রত্যেকের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের দেশে ফেরার নির্দিষ্ট সময়ও এখনও বলা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে আশা করা হচ্ছে, আজ দুপুরের পর পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ছবি পাওয়া যেতে পারে। ত্রিশূলী নদী সংলগ্ন এলাকা থেকে সীমান্তের বিভিন্ন অংশ পর্যন্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপগ্রহচিত্রের সাহায্যেও বিপর্যয়ের আগে ও পরে এলাকার পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আকস্মিক বন্যার ভয়াবহতা নিয়ে। প্রবল জলের স্রোতে বহু জায়গার ভূপ্রকৃতি বদলে গিয়েছে। কোথাও রাস্তা নেই, কোথাও বসতি ক্ষতিগ্রস্ত, আবার কোথাও কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্তূপ। এমন পরিস্থিতিতে নিখোঁজদের জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ রয়েছে। তবু উদ্ধারকারী দল হাল ছাড়ছে না।
নিখোঁজদের খোঁজে আরও জোরদার হচ্ছে তল্লাশি
নেপালের বিভিন্ন বিপর্যস্ত এলাকায় সকাল থেকেই উদ্ধার অভিযান (Nepal Flood Rescue) আরও জোরদার করা হয়েছে। নেপালি সেনা, উদ্ধারকারী দল এবং পাহাড়ি এলাকায় অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পাশাপাশি অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দলও কাজে নেমেছে। ত্রিশূলী বাজারের কাছাকাছি এলাকাতেও উদ্ধারকাজ চালানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে।
তল্লাশির ক্ষেত্রে প্রতিটি জায়গা ধাপে ধাপে পরীক্ষা করা হচ্ছে। কাদার স্তর সরানো, ধ্বংসাবশেষের মধ্যে খোঁজ চালানো এবং দুর্গম এলাকায় পৌঁছনোর জন্য বিকল্প পথ তৈরি—সবকিছুই একসঙ্গে করতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের। কিন্তু বিপর্যয়ের মাত্রা এতটাই বেশি যে প্রত্যাশিত গতিতে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে নিখোঁজ ভারতীয়দের পরিবারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে নির্ভরযোগ্য তথ্য। প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর, উদ্ধারকারী দল এবং ভারতীয় দূতাবাসের মধ্যে সমন্বয় যত দ্রুত হবে, নিখোঁজদের অবস্থান সম্পর্কে তত দ্রুত নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এই মুহূর্তে তাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—নিখোঁজ ভারতীয়রা কোথায়, তাঁদের কতজনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হবে এবং কবে তাঁরা দেশে ফিরতে পারবেন? আপাতত নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। উদ্ধার অভিযান চলছে, যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতির আরও পরিষ্কার চিত্র পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে নিখোঁজদের পরিবারগুলি।
‘ইসলামীয় নেটো’-র দিকে কি বাংলাদেশ? মক্কা চুক্তিতে ঢাকার আগ্রহ ঘিরে বাড়ছে ভারতের উদ্বেগ?
নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়! নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়, ভেসে গেল গ্রাম থেকে সেতু














