India Polymer Currency Notes: দেশের মুদ্রা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। খুব শীঘ্রই দশ ও কুড়ি টাকার প্লাস্টিকের নোট পরীক্ষামূলকভাবে চালু করতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রস্তাবে ইতিমধ্যেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে সংসদে জানানো হয়েছে। প্রথমে সীমিত পরিসরে এই নোট বাজারে ছাড়া হবে। পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল মিললে পরবর্তীতে আরও বিস্তৃতভাবে এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে কাগজের নোট সহজেই ছিঁড়ে যায়, ভিজে নষ্ট হয়ে যায় বা দীর্ঘদিন ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে সাধারণ মানুষকে প্রায়ই সমস্যার মুখে পড়তে হয়। ক্ষতিগ্রস্ত নোট অনেক সময় দোকান বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গ্রহণ করা হয় না। নতুন প্লাস্টিকের নোট চালু হলে এই ধরনের সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রথমে কোন মূল্যমানের নোট আসবে?
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে দশ ও কুড়ি টাকার নোট প্লাস্টিকের মাধ্যমে তৈরি করা হবে। পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিটি মূল্যমানের একশো কোটি নোট ছাপানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প সফল হলে ধাপে ধাপে অন্যান্য মূল্যমানের নোটেও একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে।
কাগজের নোট কি তুলে নেওয়া হবে?
এই বিষয়ে কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়েছে, বর্তমানে প্রচলিত কাগজের নোট বাতিল করার কোনও পরিকল্পনা নেই। প্লাস্টিকের নোট চালু হলেও কাগজের নোট আগের মতোই বৈধ থাকবে। অর্থাৎ আপাতত দুই ধরনের নোটই একসঙ্গে বাজারে ব্যবহার করা যাবে।
কী সুবিধা মিলবে প্লাস্টিকের নোটে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিকের নোট কাগজের নোটের তুলনায় অনেক বেশি টেকসই। সহজে ছিঁড়ে যায় না, জল লাগলেও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা সম্ভব। পাশাপাশি এগুলি তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার থাকে এবং উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকায় জাল নোট তৈরি করাও অনেক কঠিন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক ছেঁড়া ও ক্ষতিগ্রস্ত নোট বাজার থেকে তুলে নিতে হয়। প্লাস্টিকের নোট চালু হলে সেই অপচয় কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রা ছাপানোর খরচও হ্রাস পেতে পারে।
এটিএম থেকে তোলা যাবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্লাস্টিকের নোট বর্তমান এটিএম ব্যবস্থার মাধ্যমেই তোলা সম্ভব হবে। এজন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না। সামান্য প্রযুক্তিগত পরিবর্তন করেই নতুন নোট ব্যবহারের উপযোগী করা যাবে।
জাল নোট রোধেও বাড়বে নিরাপত্তা
প্লাস্টিকের নোটে উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংযোজন করা সহজ হওয়ায় জাল নোট তৈরির সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে। এর ফলে দেশের মুদ্রা ব্যবস্থার নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বের বহু দেশেই রয়েছে এই ব্যবস্থা
প্লাস্টিকের নোট ভারতের জন্য নতুন হলেও বিশ্বের বহু দেশে বহু বছর ধরেই এই ধরনের মুদ্রা ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রথমবার এই নোট চালু হয় অস্ট্রেলিয়ায়। বর্তমানে বিশ্বের পঞ্চাশেরও বেশি দেশে প্লাস্টিকের নোট প্রচলিত রয়েছে এবং সেগুলি দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাপদ মুদ্রা হিসেবে পরিচিত।
ভবিষ্যতে আরও বড় মূল্যমানের নোটেও আসতে পারে এই প্রযুক্তি
প্রথমে দশ ও কুড়ি টাকার নোট দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগ শুরু হবে। পরবর্তী সময়ে প্রকল্প সফল হলে পঞ্চাশ, একশো, দুইশো এবং অন্যান্য মূল্যমানের নোটেও একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
#IndiaPolymerCurrencyNotes #RBI #PolymerNotes #PlasticCurrency #IndianCurrency #CurrencyNews #FinancialNews #IndiaNews #BankingNews
