India OIC Kashmir Statement: জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার যোগাযোগ গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতিতে জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে ওই গোষ্ঠীর উল্লেখকে ভিত্তিহীন এবং তথ্যগতভাবে ভুল বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের বক্তব্য, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার নেই।
ভারতের প্রকাশিত বিবৃতিতে বিশেষভাবে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ তুলে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাকে সেই দেশের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসবাদের হুমকির দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলি ভারতের সরকারি বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার বৈঠক
সম্প্রতি নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীর বিষয়ক ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের যোগাযোগ গোষ্ঠীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, ওই বৈঠকে সংগঠনের মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি সংগঠনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার বিবৃতিতে জম্মু ও কাশ্মীরের মানবিক, মানবাধিকার এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে ২০১৯ সালের পর নেওয়া একতরফা পদক্ষেপগুলি প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলির প্রসঙ্গও উত্থাপন করা হয়েছে।
এই বক্তব্যের পরই ভারত তার অবস্থান স্পষ্ট করে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মন্তব্য ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সমতুল্য এবং ভারত ওই বক্তব্য গ্রহণ করছে না।

ভারতের অবস্থান স্পষ্ট, কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ
ভারতের সরকারি বিবৃতিতে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য বারবার প্রকাশ করলেও এই অবস্থান পরিবর্তিত হবে না।
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ভারতের সরকারি নথিতেও অতীতে একই অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে যে, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়, যার মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরও রয়েছে, সে বিষয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মন্তব্য করার অধিকার নেই।
২৩ সেপ্টেম্বরের বিবৃতিতেও সেই অবস্থানই পুনরায় তুলে ধরা হয়েছে। ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এই বিষয়ে বাইরের কোনও সংগঠনের রাজনৈতিক মন্তব্য ভারতের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে না।
পাকিস্তানের প্রসঙ্গও তুলল ভারত
ভারতের বিবৃতিতে শুধু ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার অবস্থানের সমালোচনা করেই থেমে থাকা হয়নি। পাকিস্তানের প্রসঙ্গও সরাসরি তুলে ধরা হয়েছে। ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার উচিত পাকিস্তানের বক্তব্যকে মঞ্চ দেওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসবাদের হুমকির দিকে নজর দেওয়া।
ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ করেছে। এই অভিযোগ ভারতের সরকারি বক্তব্যের অংশ। বিবৃতিতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং তার নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল থেকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের বিষয়টি দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালেও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার বৈঠকে ভারতের বিষয়ে মন্তব্যের পর ভারত একই ধরনের আপত্তি জানিয়েছিল। সেই সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক বলেছিল, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার এই বিষয়ে মন্তব্য করার অধিকার নেই।
দুই পক্ষের বক্তব্যে কাশ্মীর প্রশ্ন ফের সামনে
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশ্নটি আবারও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার পরিসরে উঠে এসেছে। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা তাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রসঙ্গ সামনে এনেছে। অন্যদিকে ভারত সেই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে জম্মু ও কাশ্মীরকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাদের যোগাযোগ গোষ্ঠীর বৈঠকটি রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের একাশি-তম অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির মহাসচিব সেখানে কাশ্মীর প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার কথাও বলেন।
অন্যদিকে ভারতের বিবৃতির মূল বক্তব্য ছিল, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এই বিষয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার কোনও ভূমিকা গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে একই বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে সামনে এসেছে।
ভারতের বক্তব্যে সার্বভৌমত্ব ও সন্ত্রাসবাদ—দুই প্রসঙ্গ
ভারতের বিবৃতিতে জম্মু ও কাশ্মীরের পাশাপাশি সার্বভৌমত্ব এবং সন্ত্রাসবাদের বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাশাপাশি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ তুলে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার দৃষ্টি সেই দিকেও দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভারত আরও জানিয়েছে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার পরিবর্তে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার উচিত পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল থেকে আসা সন্ত্রাসবাদের হুমকি মোকাবিলার দিকে নজর দেওয়া। এই বক্তব্যও ভারতের সরকারি বিবৃতিতে উল্লিখিত অবস্থানের অংশ।
ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে একদিকে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার কাশ্মীর-সংক্রান্ত অবস্থান এবং অন্যদিকে ভারতের পাল্টা প্রতিক্রিয়া—দুই দিকই সামনে এসেছে। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের কথা বলেছে, আর ভারত জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে ওই সংগঠনের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে।
সূত্র: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রকাশিত বিবৃতি এবং ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার প্রকাশিত বৈঠকের বিবরণ।
#IndiaOICKashmirStatement #OIC #JammuAndKashmir #KashmirIssue #IndiaPakistan #ForeignPolicy #OICContactGroup #DiplomaticStatement














