।। প্রথম কলকাতা।।
Vanilla Farming: চিরাচরিত চাষাবাদ থেকে কৃষক বন্ধুরা বর্তমানে কিছুটা সরে এসেছেন। অনেকে এমন রয়েছেন যারা ধান, গম, শাকসবজি এবং ফলমূল চাষের ওপরে ভরসা রেখেছেন। তবে ভারতীয় কৃষকদের একাংশ বিভিন্ন লাভজনক ফসল চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কম পরিশ্রমে যদি বেশি মুনাফা অর্জন করা যায় তবে সেই ধরনের চাষের ব্যবসা কে না করতে চাইবেন। ভারতের বাজারে কৃষকদের মধ্যে এখন ভ্যানিলা চাষের ঝোঁক খুব বেড়েছে। যদিও এর পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এই ভ্যানিলা প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৫০,০০০ টাকায়।
ভ্যানিলা চাষ করার জন্য তেমন বিশেষ কোন পদ্ধতি কিংবা বেশি পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু সাধারণ চাল, ডাল গমের তুলনায় এই ভ্যানিলা থেকে অর্জন করা যায় দ্বিগুণ অর্থ। তবে অধিকাংশ কৃষকদের মনে প্রশ্ন উঠতেই পারে এই ভ্যানিলা কী ভাবে চাষ করা হয়? এই চাষের জন্য কী কী প্রয়োজন ? ভ্যানিলা দিয়ে আসলে কী তৈরি করা হয় ? সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হল আজকের প্রতিবেদনে।
* ভ্যানিলা কী কাজে ব্যবহার করা হয় ?
লম্বা লম্বা বিনসের মতো দেখতে এই ভ্যানিলা খাবার থেকে শুরু করে কসমেটিকস তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়। এর গন্ধ খুবই সুন্দর হয়। যার কারণে কেক সহ বিভিন্ন মিষ্টি জিনিস তৈরি করতে ভ্যানিলা এসেন্স ব্যবহার করা হয়। শুধু তাই নয় পারফিউম তৈরি করতেও ভ্যানিলা কাজে লাগে। এর সুগন্ধ মোহিত করবে যে কোন মানুষকে। ভ্যানিলা ফ্লেভারের কেক কিংউ ভ্যানিলা আইসক্রিমের কথা নিশ্চয়ই শুনে থাকবেন। সেগুলি তৈরি করার জন্য ব্যবহার হয় এই ভ্যানিলার। বিদেশের বাজারে এর চাহিদা বিপুল। তাই ১৯৯০ সাল থেকে ভারতেও এর চাষ শুরু হয়েছে। তবে ভারতের সব জায়গায় এখনও পর্যন্ত এই চাষের প্রচলন তেমনভাবে হয়নি।
* ভ্যানিলা চাষের পদ্ধতি
১) ভারতীয় জলবায়ু ভ্যানিলা চাষের জন্য যথেষ্ট উপযোগী। এই চাষ করার জন্য উপযুক্ত হল আলগা মাটি।
২) কৃষক বন্ধুদের মাথায় রাখতে হবে জমির পিএইচ মান যেন ৬.৫ থেকে ৭.৫ এর মধ্যেই থাকে।
৩) যে জায়গাটিতে ভ্যানিলা চাষ করা হচ্ছে সেখানে যেন কড়া রোদ না থাকে । সবথেকে ভালো হয় কোন ছাউনিওয়ালা ঘর তৈরি করে তারপর সেখানে ভ্যানিলা চাষ করা।
৪) ছায়াময় জায়গায় ভ্যানিলার ফলন কিন্তু বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বড় বড় কোন গাছ চাষ করা হলে তার মাঝে ফাঁকা জায়গাগুলিতে ভ্যানিলা চাষ করা যেতে পারে।
৫) এক একটি ভ্যানিলা গাছ ফলন দেওয়ার জন্য তিন বছর সময় নেয়। তবে এই গাছে ফল আসতে শুরু করলে ক্রমশ ফলন বাড়াতে থাকে।
* কতটা লাভজনক ভ্যানিলা চাষ ?
অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কৃষক বন্ধু থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, এক একর জমিতে ভ্যানিলার চারা লাগানো যেতে পারে, ২৪০০ থেকে ২৫০০ টি। এই গাছটি সাধারণত লতানো হয় । ফুল থেকে ফলটি খানিকটা বিনসের মতো আকার ধারণ করে । ফলটি পেকে গেলে সেখান থেকে বীজগুলি সংগ্রহ করা হয়। বর্তমানে ওই বীজ গুলি বাজারে প্রতি কেজি বিকোচ্ছে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। গুণমান অনুযায়ী কোন কোন ক্ষেত্রে কিছুটা বেশিও হতে পারে এই ভ্যানিলা বীজের দাম।
* ভ্যানিলার পুষ্টিগুণ
ভ্যানিলা ফলের ভেতরে যে ছোটখাটো বীজগুলি থাকে আসল দাম সেগুলিরই। ওই বীজের মধ্যে থাকে ভ্যানিলিন নামক একটি সক্রিয় রাসায়নিক উপাদান। যা আমাদের শরীরে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টরলকে সরিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ায়। এছাড়াও ক্যান্সারের মতো রোগ প্রতিরোধ করতে ভ্যানিলা ফল এবং তার বীজ অত্যন্ত উপকারী বলে বিবেচিত হয়েছে । পেট পরিষ্কার রাখা থেকে শুরু করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর মত গুণ রয়েছে এই ফলে। তাই ভ্যানিলার চাষ যেকোনো কৃষকের ভাগ্য বদলাতে কিন্তু ভীষণ সহায়ক হতে পারে।
খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়
সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম














