Delhi Student Protest: নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলতে থাকা ছাত্র-যুব আন্দোলন এবার দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও আলোচনায় উঠে এসেছে। দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের কয়েকটি শহরেও সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। একই সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকেও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক দাবি সামনে আনা হয়েছে। ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে ঘিরে তৈরি হওয়া আন্দোলন ক্রমেই আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে।
দিল্লির যন্তর মন্তরে বাড়ছে আন্দোলনের উত্তাপ
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, বুধবার তা আরও জোরদার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কথা সামনে এসেছে। একই সময়ে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক হাসপাতালে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানানো হয়েছে।
আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতিও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর আগে সংসদ অভিযান কর্মসূচিকে ঘিরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। এই ঘটনার পর আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
বিদেশের মাটিতেও আন্দোলনের প্রতি সংহতি
দিল্লির আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও সানহোসে, যুক্তরাজ্যের লন্ডন এবং আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’ নামে একটি সংগঠন এই কর্মসূচিগুলির আয়োজন করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে দিল্লির ছাত্র আন্দোলন শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
এই আন্তর্জাতিক সংহতি আন্দোলনের গুরুত্বকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। যদিও বিদেশে আয়োজিত কর্মসূচিগুলির মূল উদ্দেশ্য ছিল দিল্লিতে চলা আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানানো, তবুও এর ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক আন্তর্জাতিক স্তরেও নজর কেড়েছে।
রাহুল গান্ধীর পাঁচ দফা দাবি ঘিরে রাজনৈতিক চাপ
আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচটি দাবি তুলে ধরেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর দাবির মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার, পুলিশের অভিযানের জন্য সরকারের প্রকাশ্য ক্ষমা এবং সংসদে কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি ও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি নিয়ে আলোচনা।
এর ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলা ছাত্র আন্দোলন আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কের রূপ নিয়েছে। বিরোধীদের বক্তব্য, শুধু পরীক্ষার অনিয়মের তদন্ত করলেই হবে না, আন্দোলনকারীদের দাবিগুলিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। অন্যদিকে সরকারের অবস্থান এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও এখন নজর রয়েছে।
তৃণমূলের সমর্থন, সংসদে আলোচনার দাবিও
দিল্লির ছাত্র-যুব আন্দোলন নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলগুলির সরব হওয়ার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ থেকেও সমর্থনের বার্তা এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্যসচেতক নাদিমুল হক রাজ্যসভায় ছাত্র-যুব আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন। এর আগে কলকাতার একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ থেকেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি বার্তায় আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি চাপের মধ্যেও আন্দোলনকারীরা যন্তর মন্তর ছাড়বেন না। তিনি এই আন্দোলনকে সরকারের জন্য ‘আউট অব সিলেবাস’ বলেও মন্তব্য করেছেন।
আন্দোলনের ডিজিটাল যোগাযোগ নিয়েও অভিযোগ
এদিকে আন্দোলনকে ঘিরে শুধু রাস্তায় প্রতিবাদ নয়, ডিজিটাল যোগাযোগ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস দাবি করেছেন, তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন এখন একাধিক স্তরে বিস্তৃত হচ্ছে। একদিকে যন্তর মন্তরে আন্দোলন জোরদার হচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একাধিক দাবি তুলছে। পাশাপাশি বিদেশের বিভিন্ন শহরে সংহতি কর্মসূচির খবর সামনে আসায় আন্দোলনের পরিধি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
#DelhiStudentProtest #StudentProtest #JantarMantarProtest #NEETPaperLeak #ExamPaperLeak #EducationCrisis #IndiaStudentProtest #StudentMovement #DharmendraPradhan #RahulGandhi #InternationalProtest #EducationNews
