Cockroach Janata Party: রাত তখন প্রায় একটা। দিনের দীর্ঘ আলোচনা শেষে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা নিয়ে সামনে এল ককরোচ জনতা পার্টি। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দিল্লি পুলিশের প্রতিনিধিরা তাঁদের সঙ্গে দেখা করে আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন সমস্যা ও আশঙ্কার কথা জানতে চান। সেই আলোচনায় কক্রোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি ভবিষ্যতে বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে তাঁদের আশঙ্কা রয়েছে। এর পরেই বিহার সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, আগামী দিনের মধ্যে অন্যান্য রাজ্য থেকেও একই ধরনের সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দলের বক্তব্য, যে সমস্ত রাজ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা বা আইনি পদক্ষেপের আশঙ্কা রয়েছে, সেই রাজ্যগুলির নাম দ্রুত জানাতে বলা হয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে যাতে ভবিষ্যতে কোনও আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
গভীর রাত পর্যন্ত চলল দীর্ঘ আলোচনা
ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রাত প্রায় একটা নাগাদ দিল্লি পুলিশের প্রতিনিধিরা তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। আলোচনায় তাঁরা জানতে চান, আন্দোলনকারীদের কী কী সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে এবং তাঁদের কী ধরনের আশঙ্কা রয়েছে।
দলের পক্ষ থেকে তাঁদের জানানো হয়, সরকারের তরফে যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলি ভবিষ্যতে যথাযথভাবে পালন করা হবে কি না, তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার বা অন্য কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশঙ্কা নিয়েই তাঁদের মূল উদ্বেগের কথা জানানো হয়।
এর পরেই বিহার সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের একটি প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি তাঁদের সামনে তুলে ধরা হয় বলে দাবি করেছে কক্রোচ জনতা পার্টি। দলের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত মামলা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলেও সেখানে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্য রাজ্যগুলিতেও একই ধরনের নিশ্চয়তার উদ্যোগ
ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু বিহার নয়, অন্যান্য রাজ্যেও যাতে একই ধরনের সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, সেই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।
দলের বক্তব্য, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাঁরা এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কোনও রাজ্যে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে যাতে কোনও ব্যক্তিকে পরবর্তীতে মামলা বা আইনি জটিলতার মুখে পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করাই তাঁদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
এই কারণে কোন কোন রাজ্য থেকে এখনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা বাকি রয়েছে, সেই তালিকা তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কক্রোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামীকাল সকাল পর্যন্ত তাঁদের জানাতে বলা হয়েছে, আর কোন কোন রাজ্য থেকে একই ধরনের সরকারি নিশ্চয়তা প্রয়োজন।
দলের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কাছেও তথ্য চাওয়া হয়েছে। কোনও রাজ্যে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনও মামলা বা আইনি পদক্ষেপের আশঙ্কা থাকলে, সেই বিষয়ে কক্রোচ জনতা পার্টিকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার বার্তা ককরোচ জনতা পার্টির
মাঝরাতের এই বিবৃতিতে কক্রোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, আন্দোলন শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই তাঁরা আন্দোলনকারীদের পাশে রয়েছেন। ভবিষ্যতেও কোনও আন্দোলনকারীকে একা ফেলে দেওয়া হবে না বলে দলের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
দলের বক্তব্য, কোনও আন্দোলনকারী যাতে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে ক্ষতির মুখে না পড়েন, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য তাঁরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছেন। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের অন্যায় বা অযৌক্তিক আইনি পদক্ষেপ হলে, সেই বিষয়ে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানানো হয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, সরকারের প্রতিনিধিরা তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন যে আগামীকালের মধ্যে বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রয়োজনীয় সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হতে পারে। সেই বিজ্ঞপ্তিগুলির মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনও আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
তবে দলের পক্ষ থেকে এটিও জানানো হয়েছে, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরেও যদি কোনও আন্দোলনকারীর কাছ থেকে অভিযোগ আসে যে কোনও রাজ্যে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তাহলে ককরোচ জনতা পার্টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। সরকারের প্রতিনিধিরাও বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে দলের দাবি।
আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে দল
আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও মাঝরাতের বিবৃতিতে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। কক্রোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত যেসব আইনজীবী বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনকারীদের হয়ে আইনি লড়াইয়ে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়েছে।
দলের বক্তব্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে তাঁদের নিজস্ব পূর্ণাঙ্গ আইনজীবী দল তৈরি হয়নি। ভবিষ্যতে এমন একটি দল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় যেসব আইনজীবী ব্যক্তিগতভাবে আন্দোলনকারীদের হয়ে কাজ করছেন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতির প্রতিটি মুহূর্তের খবর জানার চেষ্টা করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোথায় কী ধরনের মামলা হয়েছে, কারা আইনি সমস্যায় পড়েছেন এবং কোথায় কী ধরনের আইনি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে—এসব বিষয়ে আইনজীবীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তার জন্য যে সমস্ত আইনজীবী এতদিন ধরে পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের প্রচেষ্টা যাতে কোনওভাবেই বিফলে না যায়, সেই বিষয়টিও তাঁরা নিশ্চিত করতে চাইছেন। সেই কারণেই ভবিষ্যতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে লিখিত নিশ্চয়তা পাওয়াকে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।
লিখিত নিশ্চয়তাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে কক্রোচ জনতা পার্টি
দলের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, লিখিত নিশ্চয়তাই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ লিখিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি থাকলে ভবিষ্যতে কোনও আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে মামলা বা আইনি পদক্ষেপের চেষ্টা হলে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সহজ হবে।
বিহার সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিকে এই ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ককরোচ জনতা পার্টি। একই ধরনের নিশ্চয়তা অন্যান্য রাজ্য থেকেও পাওয়া গেলে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে দলটি।
এখন আগামীকাল কোন কোন রাজ্য থেকে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়, সেটিই দেখার বিষয়। পাশাপাশি যেসব রাজ্যে এখনও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা বা আইনি পদক্ষেপের আশঙ্কা রয়েছে, সেখানেও সরকারি স্তরে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।
ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁরা আন্দোলনকারীদের পাশে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। দলের প্রতিনিধিদের বক্তব্য, কোনও আন্দোলনকারী যাতে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে একা হয়ে না পড়েন বা আইনি সমস্যায় পড়ে অসহায় বোধ না করেন, তা নিশ্চিত করার জন্য তাঁরা ধারাবাহিকভাবে কাজ চালিয়ে যাবেন।
মাঝরাত পর্যন্ত প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই আলোচনার পর ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তার মূল বক্তব্য একটাই—আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের আইনি পদক্ষেপ যেন না হয় এবং যাঁরা ইতিমধ্যেই মামলার মুখে পড়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করা হোক।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিগুলির দিকে তাকিয়ে আন্দোলনকারীরা। কক্রোচ জনতা পার্টির দাবি, বিহারের পর অন্যান্য রাজ্যও একই পথে এগিয়ে এলে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের আইনি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। তবে শেষ পর্যন্ত এই আশ্বাসগুলি কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং কতগুলি রাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে একই ধরনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, তার উত্তর মিলবে আগামী দিনের সরকারি সিদ্ধান্তেই।
#CockroachJanataParty #StudentProtest #Protesters #LegalProtection #GovernmentAssurance #FIRWithdrawal #ProtestMovement #Bihar #Assam #Delhi #ProtesterSafety #StudentMovement #NewsUpdate
