Bangladesh Flood 2026: টানা কয়েক দিনের রেকর্ড বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত বাংলাদেশ। রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের একাধিক জেলায় সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি। গত কয়েক দিনে ঢাকায় প্রায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সর্বোচ্চ। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও বন্যাজনিত ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৫১ জনের। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন। পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টির জেরে নদী-নালা উপচে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে, যার ফলে বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন।
মঙ্গলবার থেকে শুরু, রবিবারে চরম রূপ
গত মঙ্গলবার ৭ই জুলাই থেকে রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। ১০ই জুলাই শুক্রবার ভোর থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বর্ষণ দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে। শনিবারও অব্যাহত থাকে বৃষ্টি, যার ফলে রাজধানীর বহু এলাকায় জল জমে যায়। রবিবার অতিভারী বর্ষণের জেরে আবাসিক এলাকা, অলিগলি ও প্রধান সড়কের বিস্তীর্ণ অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ে।
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস সোমবার ১৩ই জুলাই সকাল থেকেই সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। জলাবদ্ধতার কারণে বহু মানুষ কর্মস্থলে পৌঁছতে পারেননি। বাস ও ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ঢাকাসহ একাধিক এলাকায় রেললাইন জলের তলায় চলে যাওয়ায় রেল পরিষেবাও বিঘ্নিত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি মৃত্যু কক্সবাজারে
সরকারি তথ্য অনুযায়ী—
কক্সবাজারে মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের
চট্টগ্রামে ১৩ জন
বান্দরবানে ৬ জন
রাঙ্গামাটিতে ৩ জন
মৌলভীবাজারে ১ জন
এছাড়া রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জসহ একাধিক জেলা বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের ফলে বহু গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও চরম দুর্ভোগ
অতিবৃষ্টির প্রভাব পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও। বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল এবং বঙ্গমাতা মুজিব হলের বিদ্যুৎ সংযোগ নিরাপত্তার স্বার্থে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একাধিক ক্লাস বাতিল করতে হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তীর্ণ ক্যাম্পাসের বড় অংশই জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।
প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে রাজধানী ঢাকা-সহ বন্যাকবলিত এলাকাগুলিতে জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জরুরি প্রস্তুতি শুরু করেছে।
#BangladeshFlood2026 #DhakaRain #FloodAlert #Bangladesh #HeavyRain #ClimateNews #Monsoon #SouthAsia #FloodDisaster #WeatherUpdate

