Annapurna Yojana: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্য কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অভিযোগ পেলেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। একইসঙ্গে যোগ্য মহিলাদের আর্থিক সহায়তার টাকা দেওয়া, যাচাই-বাছাইয়ের কাজ, বিধানসভা কেন্দ্রে নেতাজির নামে সেবা কেন্দ্র এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলে এক সাংবাদিক সম্মেলন থেকেই উঠে এসেছে একাধিক বড় ঘোষণা।
নেতাজিকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য, ‘আইন সবার জন্য সমান’ বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে রাজ্য সরকার। সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ ধরনের মন্তব্য বা প্রচারের বিরুদ্ধে পুলিশকে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সচিবালয়ে তাঁর সঙ্গে একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। সেখানে নেতাজিকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যে ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে, তার বিরুদ্ধে সরকারি পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশের অপরাধ দমন শাখা এবং তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত বিভাগকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মন্তব্য ও প্রচারের উৎসও তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত মিলেছে।
নেতাজিকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রসঙ্গও সাংবাদিকরা তোলেন। বিজেপির বিরুদ্ধে নেতাজিকে অসম্মান করার অভিযোগ নিয়ে তাঁর কী বক্তব্য, তা জানতে চাওয়া হলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি এ নিয়ে রাজনৈতিক মন্তব্য করতে চান না। তাঁর বক্তব্য, সরকার নিজের দায়িত্ব পালন করছে এবং পুলিশও যথাযথভাবে পদক্ষেপ করবে।
তবে তাঁর বক্তব্যের একটি দিক ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট—নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অবমাননাকর প্রচারের অভিযোগ সামনে এলে সরকার নীরব থাকবে না। “পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এসব চলবে না”—এই কঠোর অবস্থানই তিনি সামনে আনেন।
নেতাজির নামে সেবা কেন্দ্র, বিধায়কদের জন্য নতুন বার্তা
নেতাজিকে ঘিরে মুখ্যমন্ত্রীর আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা এসেছে বিধানসভা কেন্দ্রের সেবা ব্যবস্থা নিয়ে। প্রতিটি বিধায়ককে নিজের বিধানসভা এলাকায় একটি করে সেবা কেন্দ্র চালুর কথা আগেই জানানো হয়েছিল। সেই কেন্দ্রগুলির নাম হবে ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র’।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য, বিধায়ক এবং তাঁর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করা। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি তাঁকে ভোট দিয়েছেন কি না, কোন ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মানুষ—সেটি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচ্য হবে না।
১৭ তারিখ থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা? শেষ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই
মহিলাদের জন্য ঘোষিত আর্থিক সহায়তা নিয়েও সাংবাদিক সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৭ তারিখ থেকেই যোগ্য উপভোক্তাদের টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তবে তার আগে চলছে শেষ দফার যাচাই-বাছাই। কারা প্রকৃতপক্ষে এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য এবং কারা নন, সেই তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, যোগ্য ব্যক্তিদের টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে না। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত তথ্য জানানো হবে।
এক্ষেত্রে সরকারের লক্ষ্য, প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তাদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করে সরাসরি টাকা দেওয়ার পরিবর্তে প্রশাসনিকভাবে তথ্য যাচাই করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৭ তারিখ থেকে টাকা পাঠানোর কাজ শুরু হলেও প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে একই দিনে টাকা পৌঁছবে না। অর্থ দফতর জেলা ধরে ধরে পর্যায়ক্রমে টাকা পাঠাবে। কোথাও একদিন, কোথাও দু’দিন বা তিনদিন সময় লাগতে পারে।
অর্থাৎ ১৭ তারিখটি টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর দিন হলেও উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা পড়ার সময় এক নয়।
জুনে ২৮ লক্ষ, জুলাইয়ে ১ কোটি ১৯ লক্ষ—বাড়বে উপভোক্তার সংখ্যা
আর্থিক সহায়তা প্রসঙ্গে আগের মাসের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি অনুযায়ী, জুন মাসে ২৮ লক্ষ মহিলাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জুলাই মাসে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ১৯ লক্ষ।
এবার উপভোক্তার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে সেই বৃদ্ধির আগে চলছে যোগ্যতা যাচাইয়ের কাজ।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, যাঁরা নির্ধারিত যোগ্যতার মধ্যে পড়ছেন, তাঁদের অযথা চিন্তা করার কোনও কারণ নেই। সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যোগ্য মহিলাদের কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
যাঁদের যাচাই সম্পূর্ণ হয়ে যাবে, তাঁদের ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে নিয়মিত অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানান তিনি। অর্থাৎ শুধু একবার টাকা দেওয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি মাসে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে।
#NetajiSubhasChandraBose #NetajiControversy #WestBengalPolitics #AnantMaharaj #ChiefMinister #PoliceAction #NetajiNews #BengalPolitics #LawAndOrder #WestBengal












