বুলডোজারে গুঁড়িয়ে পার্টি অফিস, তারপরই আগ্রাসী অভিষেক! বিরোধীদের কড়া হুঁশিয়ারি

Amtala TMC Office Demolition: দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস ভাঙাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হল। বুলডোজার চালিয়ে দলীয় কার্যালয় ভেঙে ফেলার ঘটনায় সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ এবং এর বিরুদ্ধে আইনি পথে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালানো হবে।

আমতলার পার্টি অফিস ভাঙাকে ঘিরে তীব্র আক্রমণ

আমতলার দলীয় কার্যালয় ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যে ধারায় আজ তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে একই আইনের আওতায় অভিযুক্তদেরও দাঁড় করানো হবে। তিনি জানান, বিচারব্যবস্থার উপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবে তৃণমূল।
তিনি বলেন, “সর্বশক্তিমানের আশীর্বাদে যদি বেঁচে থাকি, তাহলে যে আইনের ধারায় আজ আমাদের উপর অত্যাচার করা হয়েছে, একই আইনের একই ধারায় তাঁদেরও দাঁড় করানো হবে।”

তাঁর অভিযোগ, পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালানোর সময় গেরুয়া পতাকা ও উত্তরীয় পরিহিত ব্যক্তিদের দেখা গিয়েছে। শুধু কার্যালয় নয়, আসবাবপত্রও ভেঙে ফেলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

‘বিজেপির মদত ছাড়া এমন ঘটনা সম্ভব নয়’

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, গোটা ঘটনার নেপথ্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিজেপির সমর্থন রয়েছে। তাঁর দাবি, যাঁরা দল ছেড়ে গিয়েছেন বা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন, তাঁদেরই সাক্ষী হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা চলছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সত্যিই ওই পার্টি অফিসে বেআইনি কাজ চলত, তাহলে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় বা তার আগে নির্বাচন কমিশনের কাছে কেন অভিযোগ জানানো হয়নি? তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের সমস্ত অনুমোদন নিয়েই দলীয় কার্যালয় পরিচালিত হয়েছে।

দলত্যাগীদের কড়া বার্তা

দলবদল করা জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে অভিষেক বলেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভয় দেখিয়ে এবং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে অনেককে দলবদল করানো হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলে যোগ দিলেই কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত থেকে রেহাই মিলবে—এমন ধারণা তৈরি করার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, “যাঁদের মনে হচ্ছে আমার জন্য দলের ক্ষতি হয়েছে, তাঁরা ফিরে আসুন। যেদিন ফিরে আসবেন, এক ঘণ্টার মধ্যে আমি নিজের পদ ছেড়ে দেব।”

‘জয়ের কৃতিত্ব যেমন আমার, পরাজয়ের দায়ও আমার’

দলের নির্বাচনী ফলাফল নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান নেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস যে আসন জিতেছিল, তার কৃতিত্ব যদি তাঁর নেতৃত্বকে দেওয়া হয়, তাহলে কোথাও ফল খারাপ হলে তার দায়িত্বও তিনি এড়িয়ে যাচ্ছেন না।

তাঁর কথায়, “জয়ের কৃতিত্ব যদি আমার হয়, তাহলে হারলেও সেই দায়িত্ব আমার। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালিয়ে সত্যিটাকে চাপা দেওয়া যাবে না।”

হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি

আমতলার পার্টি অফিস ভাঙার ঘটনায় যাঁদের ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। প্রয়োজনে হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, আইনের মাধ্যমেই এই ঘটনার বিচার চাওয়া হবে।

সবশেষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দিয়ে মানুষের রায়কে বদলানো সম্ভব নয়। মানুষের উপর আস্থা রেখেই তৃণমূল কংগ্রেস আগামী দিনে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

Exit mobile version