Shakharav Sarkar: মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী করেছে দলের সাংগঠনিক নেতা শাখারভ সরকারকে। হুমায়ুন কবীরের ছেলের বিরুদ্ধে তাঁকেই প্রার্থী করার সিদ্ধান্তের পিছনে তাঁর দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় ধরে মুর্শিদাবাদ জেলায় বিজেপির সংগঠন সামলেছেন শাখারভ। ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি বিজেপির মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির সভাপতি ছিলেন। পরে দলের রাজ্য সম্পাদক হন। ভোটের আগে পর্যন্ত জেলায় দলের সাংগঠনিক শক্তি গড়ে তোলার কাজেও তিনি যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি হুমায়ুন কবীর এবং প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার স্থানীয় রাজনৈতিক ইস্যুতে তাঁর বাদানুবাদ হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা এবং সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগের কারণেই রেজিনগরের লড়াইয়ে শাখারভ সরকারের উপর ভরসা রাখল বিজেপি।
দীর্ঘদিন মুর্শিদাবাদে সংগঠন সামলেছেন শাখারভ
শাখারভ সরকারের রাজনৈতিক গুরুত্বের অন্যতম কারণ তাঁর দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা। ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি বিজেপির মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে জেলার সংগঠন পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তিনি।
পরে তাঁকে দলের রাজ্য সম্পাদক করা হয়। অর্থাৎ জেলা সংগঠনের দায়িত্ব থেকে রাজ্য স্তরের সাংগঠনিক দায়িত্বেও উঠে আসেন শাখারভ। ভোটের আগে পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ জেলায় দলের সংগঠন গুছিয়ে তোলার কাজে তাঁর ভূমিকা ছিল। ফলে রেজিনগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থী হিসেবে তাঁর সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়েছে বিজেপি।
হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে আগেও হয়েছে রাজনৈতিক তরজা
শাখারভ সরকারকে ঘিরে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে একাধিকবার হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাদানুবাদ হয়েছে। শুধু হুমায়ুন নন, প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর সঙ্গেও রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর তরজা হয়েছে।
ফলে রেজিনগরের মাটিতে হুমায়ুন কবীরের ছেলের বিরুদ্ধে তাঁকে প্রার্থী করার ক্ষেত্রে তাঁর পরিচিত রাজনৈতিক ভূমিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে। যে এলাকায় হুমায়ুন কবীর নিজে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন, সেই রেজিনগরেই তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক নেতা শাখারভকে সামনে এনেছে বিজেপি।
২০২১ সালের ভোটে বিজেপির অবস্থান
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের রবিউল আলম চৌধুরী ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৪৯৪ ভোট পেয়েছিলেন। তাঁর ভোটের হার ছিল ৫৬.৩১ শতাংশ। বিজেপির প্রার্থী অরবিন্দ বিশ্বাস পেয়েছিলেন ৫০ হাজার ২২৬ ভোট, অর্থাৎ ২৩.৮৭ শতাংশ ভোট। তিনি দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন।
সেই নির্বাচনে কংগ্রেস তৃতীয় স্থানে নেমে যায়। অর্থাৎ রেজিনগরে বিজেপির একটি নির্দিষ্ট ভোটভিত্তি ছিল, কিন্তু জয় থেকে দল অনেকটাই দূরে ছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত রেজিনগর বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও বিজেপি নিজেদের ভোটভিত্তি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল।
২০২৬ সালে বদলে যায় রেজিনগরের রাজনৈতিক সমীকরণ
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রেজিনগরের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। হুমায়ুন কবীর তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল গড়ে রেজিনগর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জয়ী হন।
হুমায়ুন কবীর ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৩৬ ভোট পান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির বাপন ঘোষ পান ৬৪ হাজার ৬৬০ ভোট। জয়ের ব্যবধান ছিল ৫৮ হাজার ৮৭৬ ভোট। তৃণমূল কংগ্রেসের আতাউর রহমান ৪১ হাজার ৭১৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে ছিলেন।
এই ফলাফলের পর রেজিনগর উপনির্বাচনে বিজেপির সামনে নতুন লড়াই। এবার হুমায়ুন কবীরের ছেলের বিরুদ্ধে প্রার্থী হিসেবে শাখারভ সরকারকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ফলে এই প্রার্থী বাছাইয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং রেজিনগরের রাজনৈতিক পরিবেশে তাঁর পরিচিতির বিষয়টি বিশেষভাবে সামনে আসছে।
কেন শাখারভের উপরেই ভরসা বিজেপির?
শাখারভ সরকারকে প্রার্থী করার মূল বিষয়গুলি স্পষ্ট। প্রথমত, মুর্শিদাবাদে দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। দ্বিতীয়ত, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। তৃতীয়ত, পরে তিনি দলের রাজ্য সম্পাদক হয়েছেন। চতুর্থত, ভোটের আগে পর্যন্ত জেলায় বিজেপির সাংগঠনিক কাজের সঙ্গে তিনি নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
এর সঙ্গে রয়েছে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে তাঁর পূর্বের রাজনৈতিক বাদানুবাদের বিষয়টি। ফলে রেজিনগরে হুমায়ুন কবীরের পরিবারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজেপি এমন একজন নেতাকেই সামনে এনেছে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে জেলার রাজনীতিতে সক্রিয় এবং দলের সংগঠন পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
#shakharavsarkar #reginagarbyelection #bjpcandidate #murshidabadpolitics #reginagarelection #humayunkabir #bjp
আরও পড়ুন : নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ













