India China Relations: ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর বৈঠক নিয়ে বড় বার্তা দিল বেজিং। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানিয়েছেন, দুই নেতার বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তা হল ভারত ও চিনকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হিসেবে দেখা উচিত। চিনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতের স্বাধীন বিদেশনীতি নিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন, তা বেজিং গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
ভারত-চিনকে অংশীদার হিসেবে দেখার বার্তা (India China Relations)
চিনের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হয়। এই বৈঠক ছিল তিন বছরের মধ্যে দুই নেতার তৃতীয় সাক্ষাৎ। চিনের দাবি, দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নের ক্ষেত্রে এবারের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ।
চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-ও জানিয়েছেন, দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য হল—ভারত ও চিনের অংশীদার হওয়া উচিত।
মোদির স্বাধীন বিদেশনীতি নিয়ে কী বলল চিন (India China Relations)
চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈঠকে বলেন, ভারতের বিদেশনীতি স্বাধীন এবং চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনও তৃতীয় দেশের দ্বারা প্রভাবিত নয়।
মোদি আরও জানিয়েছেন, ভারতের ভূখণ্ড কোনও শক্তিকে চিনবিরোধী কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এই বক্তব্যকে চিন গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছেন গুও জিয়াকুন।
উন্নয়ন ও সহযোগিতায় জোর (India China Relations)
চিনের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশেরই জাতীয় পরিস্থিতি আলাদা হলেও একে অপরের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। দুই দেশকে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও পারস্পরিক সুবিধার সহযোগিতা আরও বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রের উদ্বেগগুলি ভারসাম্যপূর্ণভাবে মোকাবিলা করার বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে বলে জানিয়েছে চিন। একই সঙ্গে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়িয়ে পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতি মানুষের ইতিবাচক মনোভাব আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার কথাও (India China Relations)
ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত মতপার্থক্য রয়েছে। সেই বিরোধ ও মতবিরোধ যথাযথভাবে মোকাবিলা করে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়েও দুই নেতা একমত হয়েছেন বলে চিন জানিয়েছে।
পাশাপাশি, দুই দেশই ব্রিকসের সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একে অপরকে সমর্থন করবে বলে জানানো হয়েছে। চিনের মতে, ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি শুধু দুই দেশের মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বৃহত্তর উন্নয়নশীল বিশ্বের সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে বেজিংয়ের বার্তা (India China Relations)
চিনের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্যে স্পষ্ট, বেজিং ভারত-চিন সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ানো, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ গভীর করা এবং বিভিন্ন বহুপাক্ষিক মঞ্চে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা জানিয়েছে চিন।
বেজিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের নেতারা ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করেছেন। এখন সেই ঐকমত্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে চিনের।
#indiachinasrelations #narendramodixi #modiximeeting #indochinat ies #bricssummit #chinapartnership #indiachinacooperation
আরও পড়ুন : ভারত-নির্ভরতা কাটিয়ে নিজের পথে বাংলাদেশ?














