Bangladesh India MoUs: ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষর করা ১০১টি সমঝোতাপত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ওই সমঝোতাপত্রগুলি বর্তমানে পর্যালোচনা করে দেখছে ঢাকা। পর্যালোচনার পর কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা দ্রুত জানানো হবে বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার ঢাকায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির কাছে এই সমঝোতাপত্রগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাওয়া হয়। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের বিষয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। উত্তরে নূরুল ইসলাম মনি জানান, ১০১টি সমঝোতাপত্র নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সেই আলোচনার ফল দ্রুত জানানো হবে।
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সমঝোতা নিয়েও পর্যালোচনা
শেখ হাসিনার আমলে ২০১৫ সালের জুন মাসে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের বিষয়ে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পরে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে ওই ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। দুই দেশের জাহাজ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে দিল্লির একটি হোটেলে সেই সমঝোতায় স্বাক্ষর করা হয়েছিল।
ওই সমঝোতার মূল বিষয় ছিল উত্তর-পূর্ব ভারতে পণ্য সরবরাহের জন্য চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করা। শেখ হাসিনার সময়ে ভারতের সঙ্গে এই ধরনের আরও একাধিক সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছিল। বর্তমানে সেগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েই পর্যালোচনা করছে ঢাকা।
১০১টি সমঝোতাপত্র নিয়ে কী জানাল বাংলাদেশ?
শুক্রবার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির কাছে যখন এই সমঝোতাপত্রগুলির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়, তখন তিনি জানান, ১০১টি সমঝোতাপত্র নিয়ে আলোচনা চলছে। এর ভিত্তিতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা দ্রুত জানানো হবে বলেও তিনি জানান।
অর্থাৎ, ভারতের সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে স্বাক্ষরিত সমঝোতাপত্রগুলির কোনওটিই এখনই বাতিল করা হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তের কথা প্রতিবেদনে বলা হয়নি। বরং সেগুলি পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং পর্যালোচনার পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্কে চাপানউতর তৈরি হয়েছিল। চলতি বছরের শুরুতে তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক মসৃণ করার বিষয়ে উভয় দেশেই উদ্যোগ শুরু হয়।
এর মধ্যেই গত অগস্টে দিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠককে কেন্দ্র করে ফের দুই দেশের মধ্যে টানাপড়েন তৈরি হয়
পাশাপাশি, ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগ দেওয়ার জন্য বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লির পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্যও তাঁকে আলাদা আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে বাংলাদেশ জানিয়েছে, তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না এবং কোনও সরকারি প্রতিনিধিকেও পাঠানো হবে না। দ্বিপাক্ষিক সফরের দিনক্ষণও এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
#BangladeshIndiaMoUs #BangladeshIndiaRelations #IndiaBangladeshAgreements #BangladeshMoUReview #ChattogramPort #MonglaPort #BangladeshPolitics















Comments 1