West Bengal University Act Amendment Bill: বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনী বিল নিয়ে বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এবার সরাসরি পুরনো ও নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে সমন্বয় তৈরির প্রস্তাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অভিজ্ঞ শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং আধিকারিকদের তুলনামূলকভাবে নতুন ও দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উন্নয়নে কাজে লাগানো। তাঁর দাবি, এই বিল কার্যকর হলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি গ্রন্থাগার, গবেষণাগার এবং শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়নেও অভিজ্ঞ সাহায্য পাওয়া যাবে।
সংশোধনী বিলের সাংবিধানিক বৈধতা, কেন্দ্র ও রাজ্যের আইনের সম্পর্ক, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কর্মীদের বদলি, ছাত্র আন্দোলন, মিছিলের অনুমতি, জাতীয় পতাকার ব্যবহার এবং শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক স্লোগান নিয়েও একাধিক মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তথাকথিত বামপন্থী রাজনীতির সমালোচনা করে গেরুয়া ও সনাতন ধর্মীয় পরিচয়কে লক্ষ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজে লাগানোর প্রস্তাব
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংশোধিত আইন কার্যকর হলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অভিজ্ঞ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নতুন গড়ে ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কাজে লাগানো হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে যে বিপুল অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং শিক্ষাগত পরিকাঠামো রয়েছে, তার সুফল নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও পেতে পারে।
তিনি বলেন, যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে তুলনামূলকভাবে দুর্বল বলে মনে করা হচ্ছে, সেগুলিকে শক্তিশালী করার জন্য প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মেধাবী শিক্ষক ও কর্মীদের সেখানে পাঠানো যেতে পারে। তাঁর বক্তব্যে এই ব্যবস্থাকে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে নয়, বরং নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, পুরনো আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী রয়েছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতাকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কাজে ব্যবহার করা গেলে সেখানকার শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হতে পারে। বিশেষ করে গ্রন্থাগার, গবেষণাগার এবং অন্যান্য শিক্ষাগত পরিকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে তাঁরা সহযোগিতা করতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক-কর্মীদের বদলি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর মুখ্যমন্ত্রী দেশের একাধিক রাজ্যের উদাহরণ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রয়োজনে কর্মী বা শিক্ষক বদলির ব্যবস্থা শুধু পশ্চিমবঙ্গেই তৈরি করা হচ্ছে না।
তিনি কর্ণাটকের বিশ্ববিদ্যালয় আইন, কেরলের শিক্ষক বদলি সংক্রান্ত ব্যবস্থা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত আইন এবং উত্তরপ্রদেশের সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলির শিক্ষক বদলির প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন রাজ্যে প্রশাসনিক প্রয়োজন অনুযায়ী এই ধরনের বদলি বা স্থানান্তরের বিধান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গুজরাট এবং বিহারেও এই ধরনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে মিছিল করতে হলে পুলিশের অনুমতি নিতে হবে। পাশাপাশি মিছিলে ভারতের জাতীয় পতাকা রাখার কথাও বলেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কাশ্মীরকে ঘিরে স্বাধীনতার স্লোগান বা ভারতের অখণ্ডতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ধরনের বক্তব্যের প্রসঙ্গও তিনি তোলেন। তাঁর বক্তব্যে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং মহাত্মা গান্ধীর রাজনৈতিক ভাষার তুলনাও উঠে আসে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে সরকার কী ধরনের অবস্থান নেবে, সে বিষয়েও তিনি কঠোর বার্তা দেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষাঙ্গনে মতপ্রকাশের অধিকার থাকলেও দেশের অখণ্ডতা বা জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকার কঠোর থাকবে। তিনি পুলিশকে আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি দেখার কথাও বলেন।
জনগণের অর্থে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে মানবসম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব বলে তিনি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বক্তব্য হল, স্বায়ত্তশাসন মানে শুধু স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকার নয়; একই সঙ্গে সমাজ ও সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাও থাকা দরকার।
পিএইচডি গবেষণা নিয়ে কী আশ্বাস?
পিএইচডি পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে—এমন প্রসঙ্গও বক্তব্যে আসে। মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে স্পষ্ট করে জানান, কোনও শিক্ষককে বদলি করা হলেও তাঁর অধীনে চলা পিএইচডি গবেষণা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, তার ব্যবস্থা রাখা হবে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই আইন প্রতিটি শিক্ষককে বদলি করার জন্য তৈরি করা হচ্ছে না। প্রশাসনিক প্রয়োজনে বিশেষ পরিস্থিতিতে বদলির সুযোগ রাখাই এর উদ্দেশ্য। ফলে গবেষণারত ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি দেখার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, গবেষণার ধারাবাহিকতা শুধু বদলির কারণেই কখনও কখনও বিঘ্নিত হয় না। কোনও গবেষণা নির্দেশক অবসর নিলে, পদত্যাগ করলে, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে গেলে, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকলে কিংবা আকস্মিকভাবে তাঁর মৃত্যু হলে স্বাভাবিকভাবেই গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
কোনও প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে সম্পূর্ণভাবে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এমনকি সপ্তাহের নির্দিষ্ট কয়েকটি দিন পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং বাকি সময় নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার মতো ব্যবস্থাও বিবেচনা করা যেতে পারে বলে বক্তব্যে ইঙ্গিত রয়েছে।
#WestBengalUniversityActAmendmentBill2026 #WestBengalUniversityAct #UniversityActAmendment #HigherEducation #WestBengalHigherEducation #SuvenduAdhikari #UniversityEducation #WestBengalGovernment














