Nepal Flash Flood Alert: নেপালে ফের ভয়াবহ হড়পা বান ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা ঘিরে নতুন করে সতর্কতা জারি হয়েছে। ত্রিশূলী নদী-সহ একাধিক এলাকায় জলস্তর ও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে, বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
প্রথম কলকাতা ডিজিটাল ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও হড়পা বানের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই ফের নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ত্রিশূলি নদীতে আচমকা জলপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চিতওয়ান ও ধাদিং এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদী তীরবর্তী নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পাহাড়ের উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন।
পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে কারণ এর আগের ভয়াবহ বিপর্যয়ে নেপালের একাধিক নদী উপত্যকা, সড়ক, সেতু এবং জনবসতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নতুন করে জল নামলে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে বড়সড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। নেপাল প্রশাসন তাই নদী সংলগ্ন এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
আরও পড়ুন : নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে কলকাতার ৩২ জন নিখোঁজ, তাঁদের খোঁজে জরুরি হেল্পলাইন, জানুন নম্বর
ত্রিশূলি নদী ঘিরে ফের কেন আশঙ্কা?
নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ত্রিশূলি নদী। পাহাড়ি অঞ্চলে ভারী জলপ্রবাহ নেমে এলে এই নদীর জলস্তর খুব দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এবারও আচমকা জলপ্রবাহ বাড়ার আশঙ্কা থেকেই নদী তীরবর্তী চিতওয়ান ও ধাদিং এলাকায় সতর্কতা জারি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের নদীর কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝা যাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতা থেকেও। সতর্কবার্তা পাওয়ার পর নিচু এলাকার অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ উঁচু জায়গার দিকে চলে যাচ্ছেন। কেউ পায়ে হেঁটে, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আশ্রয়ের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি নদীর ক্ষেত্রে বিপদের বড় দিক হল জলস্তরের দ্রুত পরিবর্তন। সমতলের নদীর মতো এখানে সবসময় দীর্ঘ সময় ধরে জল বাড়ার সুযোগ থাকে না। ফলে সতর্কতা জারি হওয়ার পর দ্রুত নিরাপদ জায়গায় চলে যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আগের বিপর্যয়ের ক্ষত এখনও শুকোয়নি
নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ধসের পর থেকেই দেশটির একাধিক এলাকায় উদ্ধারকাজ চলছে। তীব্র জলস্রোত ও ধসের কারণে বহু রাস্তা, সেতু এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল পুলিশের নথিতেও এই বিপর্যয়ের সঙ্গে যুক্ত একাধিক অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহ উদ্ধারের তথ্য রয়েছে।
ত্রিশূলি নদীর আশপাশের যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিপর্যয়ের প্রভাব থেকে এখনও পুরোপুরি মুক্ত নয়। নেপাল পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নদীর জলস্রোতে কয়েকটি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ত্রিশূলি নদীর আশপাশের সড়কগুলিতে নিরাপত্তার কারণে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
এই অবস্থায় নতুন করে হড়পা বান নামলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা। কারণ উদ্ধারকারী দলগুলির পক্ষে দুর্গম এলাকায় পৌঁছনো এমনিতেই কঠিন হয়ে পড়েছে।
নিচু এলাকা ছেড়ে উঁচু জায়গায় যাওয়ার নির্দেশ
সতর্কতা জারির পর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নদী তীরবর্তী নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে। প্রশাসনের পরামর্শ, নদীর কাছাকাছি থাকা যাবে না এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে দ্রুত উঁচু এলাকায় চলে যেতে হবে।
এলাকার বিভিন্ন জায়গায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলিকেও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে যাতে তাঁরা গুজবে কান না দেন এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলেন।
পাহাড়ি অঞ্চলে হড়পা বান অনেক সময় অত্যন্ত দ্রুত নেমে আসে। ফলে নদীর জল শান্ত দেখালেও আচমকা পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। এই কারণেই নদীর তীর, সেতু কিংবা জলপ্রবাহের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নতুন বিপদে উদ্ধারকাজেও বাড়ছে চাপ
নেপালে ইতিমধ্যেই যে বিপর্যয় ঘটেছে, তার পর উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে। কোথাও কাদা ও পাথরের স্তূপ, কোথাও ধসে যাওয়া রাস্তা, আবার কোথাও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। তার মধ্যেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় উদ্ধারকারী দলগুলির কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
হেলিকপ্টারের সাহায্যে দুর্গম এলাকায় পৌঁছনোর চেষ্টা করা হলেও সব জায়গায় অবতরণের মতো পরিস্থিতি নেই। অনেক এলাকায় রাস্তা বা সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় স্থলপথে পৌঁছনোও কঠিন। তাই নতুন করে জলপ্রবাহ বাড়লে উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
নেপাল প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। ইতিমধ্যেই নদী সংলগ্ন এলাকায় উচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।
আতঙ্কের মধ্যেও চলছে অপেক্ষা
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখনও নিখোঁজ মানুষদের নিয়ে। সাম্প্রতিক বিপর্যয়ে বহু মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে। নতুন করে হড়পা বানের আশঙ্কা সেই তল্লাশি ও উদ্ধারকাজকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান বন্ধ করা হয়নি। বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে তল্লাশি চালানোর চেষ্টা চলছে। নদী ও পাহাড়ি এলাকার পরিস্থিতি প্রতি মুহূর্তে বদলাতে পারে বলে সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
#NepalFlashFlood #NepalFlood #TrishuliRiver #FlashFloodAlert #NepalBreakingNews #FloodWarning #NepalDisaster
‘ইসলামীয় নেটো’-র দিকে কি বাংলাদেশ? মক্কা চুক্তিতে ঢাকার আগ্রহ ঘিরে বাড়ছে ভারতের উদ্বেগ?
নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়! নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়, ভেসে গেল গ্রাম থেকে সেতু













