Nepal Flood: নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের রেশ কাটার আগেই নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উপচে পড়া জলাধারের প্রাকৃতিক বাঁধ আগামী তিন দিনের মধ্যে ভেঙে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে চিন। ফলে নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ফের ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রথম কলকাতা ডিজিটাল ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ক্ষত এখনও শুকোয়নি। তার মধ্যেই সামনে এল আরও বড় বিপদের আশঙ্কা। চিনের জলসম্পদ মন্ত্রক সতর্ক করেছে, নেপাল-চিন সীমান্তের কাছে নতুন করে তৈরি হওয়া একটি প্রাকৃতিক জলাধার ইতিমধ্যেই উপচে পড়ছে। আগামী তিন দিনে সেখানে আরও বিপুল পরিমাণ জল জমতে পারে। ফলে জলাধারটির প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে আচমকা নতুন করে বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চিনের সরকারি সূত্র অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ওই জলাধারে প্রায় ২০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমেছিল। ইতিমধ্যেই জল উপচে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল ঢুকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে জলাধারটির বাঁধ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি যথেষ্ট বেড়েছে।
আরও পড়ুন : নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে কলকাতার ৩২ জন নিখোঁজ, তাঁদের খোঁজে জরুরি হেল্পলাইন, জানুন নম্বর
কোথায় তৈরি হয়েছে এই নতুন জলাধার? (Nepal Flood)
নেপালের ওই নতুন জলাধারটি তৈরি হয়েছে ছোচেন খোলা এবং পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে। এই দুই নদীর উৎস তিব্বতে। নেপালে প্রবেশের পর নদীগুলি ভুটে কোশি নদী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরে ত্রিশূলী নদীর প্রবাহে মিশে যায়। ফলে ওই জলাধারের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে তার প্রভাব নিম্নবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই কারণেই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে চিন ও নেপাল। চিনের কর্তৃপক্ষ জলাধারটির গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। সম্ভাব্য জলস্রোত কোন দিকে যেতে পারে এবং বাঁধ ভেঙে গেলে কতটা এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তা বোঝার জন্য জলপ্রবাহের বিভিন্ন হিসাবও করা হচ্ছে।

তিন দিনের মধ্যে কেন বাড়ছে বিপদের আশঙ্কা? (Nepal Flood)
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হল জলাধারে দ্রুত জল জমা হওয়া। বর্তমানে সেখানে প্রায় ২০ লক্ষ ঘনমিটার জল রয়েছে এবং জল ইতিমধ্যেই উপচে পড়ছে। তার উপর আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল সেখানে ঢোকার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ অল্প সময়ের মধ্যেই জলাধারের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।
চিনের জলসম্পদ মন্ত্রকের আশঙ্কা, এই অতিরিক্ত জলের চাপে প্রাকৃতিক বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়লে হঠাৎ করে জল বেরিয়ে আসতে পারে। আর সেই জলস্রোত ভুটে কোশি নদী দিয়ে নীচের দিকে নেমে গেলে নতুন করে ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই নদীর তীরবর্তী এলাকা এবং উদ্ধারকাজে যুক্ত ব্যক্তিদেরও সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।
আগের বিপর্যয়ের মধ্যেই নতুন আতঙ্ক (Nepal Flood)
এই নতুন সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন নেপাল ইতিমধ্যেই ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ধাক্কা সামলাচ্ছে। বুধবার হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসের পর প্রবল জলস্রোত ভুটে কোশি নদীতে নেমে আসে। রসুয়া জেলার টিমুরে এবং স্যাফ্রুবেশি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। রাস্তা, সেতু এবং বিভিন্ন পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই বিপর্যয়ের জেরে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও বিপুল সংখ্যক মানুষ নিখোঁজ। নেপাল ও চিন—দুই দেশেই উদ্ধারকাজ চলছে। কঠিন পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নতুন করে বন্যার আশঙ্কা উদ্ধারকাজকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নদীর তীরবর্তী এলাকায় বাড়ছে সতর্কতা
নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগও পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছে। ভুটে কোশি ও ত্রিশূলী নদী সংলগ্ন এলাকার মানুষকে নিরাপদ জায়গায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নদীর তীর থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি পর্যটক, নিরাপত্তাকর্মী এবং উদ্ধারকাজে যুক্ত ব্যক্তিদেরও বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
চিনের পক্ষ থেকেও সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জলাধারটির পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সম্ভাব্য বাঁধভাঙা বন্যার প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে। প্রয়োজনে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ দ্রুত শুরু করা যায়, সেই প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে।
নেপাল যখন আগের ভয়াবহ বন্যার (Nepal Flood) ক্ষয়ক্ষতি সামলে ওঠার চেষ্টা করছে, তখন নতুন এই জলাধার পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। আগামী কয়েক দিন তাই নেপাল-চিন সীমান্ত এবং ভুটে কোশি নদী অববাহিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলাধারটি স্থিতিশীল থাকে, নাকি অতিরিক্ত জলের চাপে প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে নতুন বিপর্যয় ডেকে আনে—সেদিকেই এখন নজর প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলের।
‘ইসলামীয় নেটো’-র দিকে কি বাংলাদেশ? মক্কা চুক্তিতে ঢাকার আগ্রহ ঘিরে বাড়ছে ভারতের উদ্বেগ?
নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়! নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়, ভেসে গেল গ্রাম থেকে সেতু













