PM CARES Fund: দেশের সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে পিএম কেয়ার্সের অর্থ ব্যবহারের দাবি তুলে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর বক্তব্য, তহবিলে বিপুল অর্থ পড়ে থাকলেও দেশের বহু সরকারি স্কুলে এখনও পড়ুয়াদের জন্য পর্যাপ্ত বেঞ্চ, পানীয় জল, শৌচাগার এবং যাতায়াতের মতো মৌলিক সুবিধার অভাব রয়েছে।
দীপকের এই মন্তব্যের পর তাঁকে পাল্টা আক্রমণ করেছে বিজেপি। বিজেপির গোয়া শাখার পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে বলা হয়েছে, PM CARES Fund মূলত জরুরি পরিস্থিতি ও দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য তৈরি, তাই স্কুল উন্নয়নে সরাসরি সেই অর্থ ব্যবহারের দাবি তোলাকে তারা সমর্থন করছে না। একইসঙ্গে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে নিশানা করে বিজেপির কটাক্ষ, “তিনি তাঁর লোকেদের নাটক শিখিয়েছেন, কিন্তু মৌলিক তথ্য শেখাননি।”
দীপকের দাবি ঠিক কী?
অভিজিৎ দীপকে সম্প্রতি সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, পিএম কেয়ার্সের থাকা অর্থ দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তহবিলে প্রায় ৮,৪৫২ কোটি টাকা থাকার কথা সামনে এসেছে। সেই অর্থের একটি অংশ ব্যবহার করে গ্রামীণ ও সরকারি স্কুলগুলিতে বেঞ্চ, পানীয় জল, রাস্তা, শৌচাগার এবং আধুনিক শিক্ষার পরিকাঠামো তৈরি করা সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি।
দীপকে আরও হিসাব দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, একটি উন্নত মানের মডেল স্কুল তৈরিতে যদি প্রায় ৮ কোটি টাকা খরচ হয়, তাহলে ওই বিপুল অর্থ দিয়ে দেশজুড়ে এক হাজারেরও বেশি মডেল স্কুল তৈরি করা সম্ভব। তাঁর মূল বক্তব্য, যখন মাঠপর্যায়ে স্কুলগুলিতে অর্থের অভাবের কথা বলা হচ্ছে, তখন তহবিলে থাকা অর্থ কীভাবে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত।
বিজেপির পাল্টা যুক্তি কী?
দীপকের বক্তব্য সামনে আসার পর বিজেপির গোয়া শাখা সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা প্রশ্ন তোলে। তাদের বক্তব্য, PM CARES Fund-এর মূল উদ্দেশ্যই হল জরুরি পরিস্থিতি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা করা। ফলে স্কুলের দৈনন্দিন পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য এই তহবিল ব্যবহারের দাবি তোলা হলে তহবিলটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
এর পাশাপাশি বিজেপি দীপকের রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও কটাক্ষ করেছে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপির বক্তব্য, কেজরিওয়াল তাঁর ঘনিষ্ঠদের ‘নাটক’ শিখিয়েছেন, কিন্তু মৌলিক তথ্য শেখাননি। অর্থাৎ, দীপকের PM CARES Fund নিয়ে বক্তব্যকে বিজেপি রাজনৈতিক প্রচার হিসেবেই দেখছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে এখন পিএম কেয়ার্স তহবিল
এই বিতর্ক অবশ্য শুধুমাত্র দীপকে বনাম বিজেপির রাজনৈতিক চাপানউতোরে আটকে নেই। পিএম কেয়ার্সের স্বচ্ছতা এবং অর্থ ব্যবহারের প্রশ্ন বহুদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময় এই তহবিল তৈরি করা হয়েছিল। সরকারি অবস্থান অনুযায়ী, এতে স্বেচ্ছায় দেওয়া অনুদান জমা পড়ে এবং সরকারি বাজেট থেকে অর্থ দেওয়া হয় না।
তহবিলটি তথ্যের অধিকার আইনের অধীনে ‘পাবলিক অথরিটি’ হিসেবে গণ্য হবে কি না, তা নিয়েও অতীতে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে দীপকের স্কুল উন্নয়নের দাবি নতুন করে সেই পুরনো বিতর্ককে সামনে এনেছে—একটি জরুরি তহবিলে জমা থাকা অর্থের ব্যবহার কতটা প্রকাশ্য হওয়া উচিত এবং কোন পরিস্থিতিতে তা অন্য সামাজিক খাতে কাজে লাগানো যেতে পারে?
দীপকের বিদেশে পড়াশোনা নিয়েও আগে বিতর্ক
দীপকেকে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। এর আগে তাঁর আমেরিকায় পড়াশোনার খরচ কীভাবে বহন করা হয়েছিল, তা নিয়ে এক আরটিআই কর্মী প্রশ্ন তুলেছিলেন। অভিযোগ ওঠে, তাঁর পরিবারের আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে বিদেশে পড়াশোনার ব্যয়ের সামঞ্জস্য কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
দীপকে অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তাঁর পড়াশোনার খরচের একটি অংশ বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি থেকে এবং বাকি অংশ শিক্ষাঋণের মাধ্যমে মেটানো হয়েছিল। তিনি এ সংক্রান্ত বৃত্তির নথিও প্রকাশ্যে দেখিয়েছিলেন।
এই বিতর্কের মধ্যেই তাঁর সংগঠনের মুখপাত্র বৈষ্ণবী গৌর পাল্টা প্রশ্ন তুলেছিলেন—ব্যক্তিগত শিক্ষাখরচ নিয়ে আরটিআই করা হলে PM CARES Fund নিয়েও একইভাবে প্রশ্ন তোলা উচিত। সেই মন্তব্য থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়।
এখন মূল প্রশ্ন—স্কুলের জন্য কোন অর্থ ব্যবহার করা হবে?
দীপকের বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু হল দেশের সরকারি স্কুলগুলির বাস্তব পরিস্থিতি। অন্যদিকে বিজেপির যুক্তি, পিএম কেয়ার্সের অর্থের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। ফলে বিতর্কটি এখন শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সরকারি তহবিলের ব্যবহার এবং শিক্ষাক্ষেত্রে অর্থের প্রয়োজন—এই দুই বৃহত্তর প্রশ্নের দিকে যাচ্ছে।
একদিকে যদি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলগুলিতে এখনও মৌলিক পরিকাঠামোর ঘাটতি থাকে, তাহলে সেই ঘাটতি পূরণে আরও বেশি সরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন—এ নিয়ে বিতর্ক কম। কিন্তু সেই অর্থ কোন তহবিল থেকে আসবে, সেই তহবিলের নির্ধারিত উদ্দেশ্য কী এবং আইনগতভাবে অর্থের ব্যবহার কতটা সম্ভব—সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন গুরুত্বপূর্ণ।














