Guma Ration Irregularities: নিজস্ব প্রতিবেদন: উত্তর ২৪ পরগনার গুমায় রেশন বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে আকস্মিক অভিযান চালালেন পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। খাদ্য দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি রেশন ডিলার শ্যামল সাহার গুদামে পৌঁছন। পরে পুলিশ অভিযুক্ত ডিলারকে গ্রেফতার করে।
স্থানীয় উপভোক্তাদের অভিযোগ, গুদামে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছলেও তা নিয়মমাফিক বিতরণ করা হতো না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের পরেও অনেককে জানানো হতো, রেশনের সামগ্রী এখনও আসেনি। ফলে বহু মানুষ দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরতেন।
খাদ্যমন্ত্রীর সামনে একাধিক উপভোক্তা নিজেদের অভিযোগ জানান। গুদামে বিপুল পরিমাণ রেশনের বস্তা দেখে ডিলারের কাছে হিসাব চান মন্ত্রী। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শ্যামল সাহা কান ধরে ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার আশ্বাস দেন। খাদ্যমন্ত্রী অবশ্য জানিয়ে দেন, শুধু ক্ষমা চাইলেই রেহাই মিলবে না। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে লাইসেন্স বাতিল-সহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেশন ব্যবস্থায় অভিযোগ ওঠে মূলত মজুত ও বিতরণের হিসাবে অমিল, কম পরিমাণ সামগ্রী দেওয়া, বায়োমেট্রিক নেওয়ার পরেও খাদ্য না দেওয়া এবং সরকারি সামগ্রী অন্যত্র সরানোর মতো বিষয় নিয়ে। ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু থাকলেও মাঠপর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি দুর্বল হলে অনিয়মের সুযোগ থেকেই যায়।
গুমার ঘটনা তাই শুধু একজন ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়। খাদ্যমন্ত্রীকে নিজে অভিযান চালিয়ে অনিয়ম ধরতে হলে স্থানীয় পরিদর্শন, মজুত যাচাই এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—সেই প্রশ্নও সামনে আসে।
রেশন ব্যবস্থায় আস্থা ফেরাতে প্রয়োজন নিয়মিত পরিদর্শন, ডিজিটাল হিসাবের সঙ্গে গুদামের বাস্তব মজুত মিলিয়ে দেখা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

