West Bengal Opposition Politics: নিজস্ব প্রতিবেদন: পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা বদলের পরে বিরোধী রাজনীতির পরিসরও নতুন করে সাজছে। তৃণমূল কংগ্রেস এখনও প্রধান বিরোধী শক্তি। কিন্তু দলীয় বিভাজন, নেতৃত্বের কর্তৃত্ব নিয়ে সংঘাত এবং একাধিক পরিচিত নেতার বিজেপিতে যোগদানে সংগঠন চাপে রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের পর্যবেক্ষণ। এই পরিস্থিতিতে বামফ্রন্ট ও প্রদেশ কংগ্রেস কি নতুন রাজনৈতিক পরিসর পাচ্ছে—সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই প্রশ্নই সামনে এনেছে।
বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে দুই পক্ষের সবচেয়ে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে বারুইপুরে কিশোরীকে যৌন নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা। সিপিএম ও কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল নিহত কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে দ্রুত বিচার, পুলিশের সম্ভাব্য গাফিলতির তদন্ত এবং নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলে।
মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি গুলিতে মৃত্যুর পরে বিরোধিতার আর একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত অস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। পাল্টা গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে রাজ্য সরকার সিআইডি তদন্তের পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয়।
প্রদেশ কংগ্রেসের নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী বারুইপুরে নিহত কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসনের জায়গায় ‘জঙ্গলের আইন’ প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব আদালতের; পুলিশি গুলিকে বিচার হিসেবে তুলে ধরা যায় না।
অন্যদিকে সিপিএম নেতা মহম্মদ লাহেক আলির গ্রেফতার রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, বারুইপুরে প্রতিবাদের সময় জনতাকে উসকানি এবং অশান্তিতে প্ররোচনা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল। লাহেক আলি অভিযোগ অস্বীকার করে গ্রেফতারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেছেন। সিপিএমের দাবি, তিনি কিশোরীর বিচার চেয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন এবং বিরোধীদের ভয় দেখাতেই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিজেপির অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। দলের দাবি, প্রতিবাদের অধিকার সকলের রয়েছে; কিন্তু গণপিটুনি, পুলিশে আক্রমণ, অবরোধ ও ভাঙচুরকে রাজনৈতিক আন্দোলন বলে আড়াল করা যাবে না। বিজেপি সুজন চক্রবর্তী, লাহেক আলি-সহ কয়েকজন সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে উসকানি ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগও দায়ের করেছে।
প্রদেশ কংগ্রেস আর একটি পৃথক রাজনৈতিক ইস্যু সামনে এনেছে। ২১ জুলাই শহিদ মিনারে কর্মসূচি ঘোষণা করে ১৯৯৩ সালের পুলিশি গুলিতে নিহত ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মামলার নথি পুনরায় খোলার দাবি তুলেছে তারা। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, ২১ জুলাইয়ের ইতিহাস শুধু তৃণমূলের নয়; নিহতেরা ছিলেন কংগ্রেসের কর্মী।
তবে তৃণমূলের দুর্বলতা মানেই বাম–কংগ্রেসের স্বয়ংক্রিয় উত্থান নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও বারুইপুরের ঘটনায় পথে নেমেছেন। ফলে বিরোধী রাজনীতির জায়গা এখনও ত্রিমুখী—তৃণমূল নিজের সংগঠন ধরে রাখতে চাইছে, বামফ্রন্ট আন্দোলনের পুরনো জমি ফিরে পেতে চাইছে এবং প্রদেশ কংগ্রেস নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।

