সম্পাদকীয়:
Baruipur Police Encounter: অপরাধ ভয়াবহ হলে জনরোষও ভয়াবহ হয়। বারুইপুরে কিশোরীকে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে ধৃত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি গুলিতে মৃত্যুর পর সমাজের একাংশ তাই স্বস্তি প্রকাশ করেছে। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালানো হয়। কিন্তু পুলিশের দাবি যতই গুরুতর হোক, স্বাধীন তদন্তের আগে সেটিই চূড়ান্ত সত্য হতে পারে না। এই কারণেই রাজ্য অপরাধ তদন্ত বিভাগের পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
রাষ্ট্রের অবশ্যই আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। কোনও অভিযুক্ত অস্ত্র হাতে পুলিশকে আক্রমণ করলে বাহিনী প্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগ করতে পারে। মাঠের পরিস্থিতিতে কয়েক সেকেন্ডের সিদ্ধান্ত কখনও জীবন ও মৃত্যুর ব্যবধান তৈরি করে। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের অপরাধী বলে দেওয়া যেমন অন্যায়, তেমনই ঘটনাটিকে বিচার সম্পূর্ণ হওয়ার নিদর্শন হিসেবে উদ্যাপন করাও বিপজ্জনক।
ভারতের আইনে অভিযুক্ত ও দোষী এক নন। অপরাধ প্রমাণ, সাক্ষ্য গ্রহণ এবং শাস্তি নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের। একজন অভিযুক্তের মৃত্যু হলে তাঁর কাছ থেকে ঘটনার সম্পূর্ণ পরিকল্পনা, সহযোগীদের পরিচয়, অর্থের লেনদেন কিংবা অপরাধচক্রের বিস্তার জানার সুযোগও হারিয়ে যেতে পারে। দ্রুত মৃত্যু তাই সব সময় দ্রুত বিচার নয়; অনেক ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটনের পথ সংকুচিত করে।
সুপ্রিম কোর্ট ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নির্দেশিকায় পুলিশি গুলিতে মৃত্যুর ক্ষেত্রে এফআইআর, স্বাধীন তদন্ত, ময়নাতদন্ত, ঘটনাস্থলের প্রমাণ সংরক্ষণ এবং বিচারিক বা ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের অনুসন্ধানের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই থানার পুলিশকর্মীরা ঘটনায় যুক্ত থাকলে তদন্ত অন্য স্বাধীন সংস্থার হাতে দেওয়াই বাঞ্ছনীয় বলে মানবাধিকার কমিশনের নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে।
এনকাউন্টারকে রাজনৈতিক সাফল্য বা শাসনের শক্তির প্রতীক বানানোর প্রবণতা তাই সংযত হওয়া প্রয়োজন। অপরাধীর প্রতি নরম মনোভাব গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু জনতার করতালি, নির্বাচনী লাভ কিংবা দ্রুত ফল দেখানোর চাপ বিচারপ্রক্রিয়ার বিকল্প হতে পারে না।
বারুইপুরের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত দ্রুত শেষ হোক। পুলিশের দাবি সত্য হলে সেই সত্য প্রমাণসহ সামনে আসুক। নিয়মভঙ্গ বা অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ হয়ে থাকলে দায়ও নির্ধারিত হোক।
শক্তিশালী রাষ্ট্র শুধু অপরাধীকে ভয় দেখায় না; নিজের অস্ত্রধারী বাহিনীকেও আইনের কাছে জবাবদিহির মধ্যে রাখে। রাষ্ট্রের শক্তি গুলির দ্রুততায় নয়—প্রমাণের দৃঢ়তা, তদন্তের স্বচ্ছতা এবং আদালতের রায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।
#BaruipurPoliceEncounter #PrabhasMondal #JudicialInquiry #CIDInvestigation #WestBengalPolice #CrimeNews #LawAndOrder #BreakingNews #WestBengal

