লিখেছেন সোমা মাইতি
West Bengal New Criminal Laws: পশ্চিমবঙ্গে সংগঠিত অপরাধ, তোলাবাজি, বেআইনি জমি দখল, সিন্ডিকেট এবং হিংসাত্মক কার্যকলাপ দমনে কার্যকর হলো দুটি নতুন আইন। ১৩ জুলাই থেকে চালু হয়েছে *পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৬* এবং *পশ্চিমবঙ্গ জনশৃঙ্খলা রক্ষা সংশোধনী আইন, ২০২৬*। প্রথম আইনটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ‘গুন্ডাদমন আইন’ নামে পরিচিত। দুটি বিল ২৯ জুন বিধানসভায় ১৭৬–৪১ ভোটে পাস হয়েছিল; ভোটদানে বিরত ছিলেন ২০ জন বিধায়ক।
নতুন আইনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কমিশনার জননিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক বলে বিবেচিত কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক আটকের নির্দেশ দিতে পারবেন। আটকের সর্বোচ্চ মেয়াদ এক বছর। তবে প্রশাসনের প্রাথমিক নির্দেশই চূড়ান্ত নয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাজ্য সরকারের অনুমোদন এবং বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পরামর্শদাতা পর্ষদের পর্যালোচনার ব্যবস্থা রয়েছে। আটক ব্যক্তি পর্ষদের সামনে নিজের বক্তব্য জানাতে পারবেন।
আইনে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা, বৈধ ব্যবসা বা পেশায় বাধা, তোলাবাজি, জমি দখল, বেআইনি খনি ও বালি উত্তোলন, অস্ত্র, মাদক ও বিস্ফোরক সংক্রান্ত অভ্যাসগত অপরাধকে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের আওতায় রাখা হয়েছে। সংগঠিত অপরাধচক্রের নেতা, সদস্য, অর্থদাতা ও সহায়তাকারীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। কোনও ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য নির্দিষ্ট জেলা বা এলাকা থেকে বহিষ্কারের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে।
অন্যদিকে জনশৃঙ্খলা রক্ষা সংশোধনী আইনে হিংসা, অগ্নিসংযোগ বা ভাঙচুরে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হলে দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন হলে অভিযুক্তের সম্পত্তি সংযুক্ত করে নিলামের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের টাকা আদায় করতে পারবে প্রশাসন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক হিংসা, সংগঠিত অপরাধ এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই এই আইন প্রয়োজন ছিল। বিধানসভায় বিল পাসের সময় তিনি ‘গুন্ডামুক্ত বাংলা’ গড়ার বার্তা দিয়েছিলেন।
রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ নতুন সরকার গঠনের পর আইনশৃঙ্খলাকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, *“আইনশৃঙ্খলা অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল। মানুষ বহু বছর ধরে ভয়ের মধ্যে বাস করেছেন। পরিবর্তনের কাজ অবিলম্বে শুরু করতে হবে।”* তাঁর এই মন্তব্য নতুন সরকারের কঠোর আইনশৃঙ্খলা নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের দাবি, নতুন আইন অশান্তি ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে পুলিশকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করবে।
তবে বিরোধীদের অভিযোগ, আইনে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের সংজ্ঞা অত্যন্ত বিস্তৃত। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী, রাজনৈতিক কর্মী কিংবা সমালোচকদের বিরুদ্ধেও এর অপব্যবহার হতে পারে। ইতিমধ্যেই আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়েছে। আদালত অবশ্য মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শুনতে রাজি হয়নি।
ফলে আইনের সাফল্য শুধু কতজনকে আটক করা হলো বা কত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হলো—তার উপর নির্ভর করবে না। সংগঠিত অপরাধ দমনের পাশাপাশি নিরপরাধ নাগরিকের অধিকার, নিরপেক্ষ পর্যালোচনা এবং রাজনৈতিক অপব্যবহার রোধ করা যাচ্ছে কি না—সেটিই হবে ‘গুন্ডাদমন’ আইনের আসল পরীক্ষা।
#WestBengalNewCriminalLaws #Baruipur #LawAndOrder #PreventiveDetention #OrganizedCrime #HumanRights #WestBengal #PoliceEncounter #Politics #BreakingNews

