প্রথম কলকাতা : নয়া দিল্লির নির্দেশে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষে নতুন দুটি সেনাঘাঁটি তৈরি করল ভারত; কোন বড় ইঙ্গিত?বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘চিকেন নেক’ নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
নতুন সেনা ঘাঁটি নিশ্চিত ভাবেই ওই অঞ্চলে বাহিনীকে আরও আরও শক্তিশালী করবে।বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহেই সীমান্ত-লাগোয়া ভারতের এই দুটি সেনা ঘাঁটি যথেষ্ট ভাবাচ্ছে। পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক মজবুত করছে বাংলাদেশ। ওদিকে ভারত পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনো তলানিতে।সামনেই বাংলাদেশের নির্বাচন তার আগে ভারতের এমন উদ্যোগ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহেই সীমান্ত-লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর ও অসমের ধুবুরিতে দু’টি আলাদা সেনা ঘাঁটি স্থাপন করে ফেলল ভারত। ইস্টার্ন কম্যান্ড জানিয়েছে, নতুন এই সেনা ঘাঁটি নিশ্চিত ভাবেই ওই অঞ্চলে বাহিনীকে আরও আরও শক্তিশালী করবে। তারই মাঝে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করেছেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং।রাজনাথ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করতে চায় না নয়াদিল্লি। নিজেদের চিরন্তন রীতি মেনে ভারত সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। কিন্তু ভারত যে কোনও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে ভয় পায় না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজনাথ।
আসলে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এমন সময় সেই মন্তব্য করেছেন, যখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা একাধিক উল্টো-পালটা মন্তব্য করেছেন। গত মার্চে চিন সফরে গিয়ে ইউনুস দাবি করেছিলেন যে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি স্থলবেষ্টিত। সমুদ্র নেই। বরং বাংলাদেশই একমাত্র সমুদ্রের ‘গার্ডিয়ান’। যে মন্তব্য নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। পালটা কড়া বার্তা গিয়েছিল ভারত থেকে।
তার উপর আবার বাংলাদেশ সীমান্তে তৎপরতার সাথে সেনাঘাঁটি তৈরি করা সবটাই যেন বড় কোনও কিছুর ইঙ্গিত বহন করছে। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের যোগসূত্র ‘চিকেন নেক’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ সীমান্ত-ঘেঁষা ২২ কিলোমিটারের অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই জায়গা নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ থেকে একাধিক বার এই চিকেন নেক নিয়ে ‘দখল করার’ মতো নানারকম উস্কানিমূলক মন্তব্য ধেয়ে এসেছে। এমনকী, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এই চিকেন নেক ঘেঁষা সীমান্ত দিয়ে পাক চরদের চলাচলের নানা গোপন তথ্যও কানে এসেছে নয়াদিল্লির। পাকিস্তান সেনা গোয়েন্দাদের একাধিক টিম উত্তর দিনাজপুর ও ধুবুরি লাগোয়া সীমান্ত পরিদর্শন ছাড়াও বাংলাদেশে প্রায় অচল হয়ে পড়ে থাকা দু’টি বিমানবন্দর চালু করার প্রচেষ্টাও চালাচ্ছে বলে খবর রয়েছে গোয়েন্দাদের হাতে। এই আবহে সীমান্ত-লাগোয়া এলাাকায় ভারতের জোড়া সেনা ঘাঁটি তৈরি বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানেরও চাপ বাড়াল বলে মনে করা হচ্ছে।
নয়াদিল্লির নির্দেশে প্রায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ঘাঁটি তৈরির কাজ শুরু হতেই নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেয় বাংলাদেশের সীমান্ত-রক্ষী বাহিনী। তারা সীমান্ত এলাকার সাধারণ টহল, প্রহরাও বন্ধ রেখেছে বলে খবর। একই ভাবে ধুবুরির বামুনিগাঁও এলাকা লাগোয়া বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম সীমান্তেও রক্ষীরাও নিরাপদ দুরত্বে রয়েছেন।পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর সি তিওয়ারি উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় বাংলাদেশ সীমান্তের পাশেই নবনির্মিত ঘাঁটি পরিদর্শন করেন। সব মিলিয়ে এমন তৎপরতার সাথে বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের সেনা ঘাঁটি তৈরি করা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বেশ জল্পনা সৃষ্টি করেছে। তবে এই সমস্ত প্রস্তুতি কি আগামীতে বড় কিছু রিঙ্গিত বহন করছে সবটাই সময়ের সাথে সাথে স্পষ্ট হবে।

