একাধিকবার বসেছেন বিয়ের পিঁড়িতে। কর্মজীবনের তুলনায় ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই হয় বেশি চর্চা। কীভাবে সবটা সামলান শ্রাবন্তী? জানালেন নিজের মুখেই।
বাংলার সুন্দরী নায়িকাদের তালিকায় প্রথমেই নাম আসে এই কন্যের। অভিনয় জীবন শুরু মাত্র ১০ বছর বয়সে, ১৯৯৭ সালে মায়ার বাঁধন সিনেমা দিয়ে। আর নায়িকা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন ২০০৩ সালে চ্যাম্পিয়ন দিয়ে। তখন বয়স মাত্র ১৬। সেই বছরই বিয়ে হয়ে যায়। তবে তা ভেঙে যায় খুব জলদি। এরপর একাধিকবার ভালোবাসা জীবনে এলেও স্থায়ী হয়নি। তাই তো কাজের থেকে, চর্চায় বেশি আসে অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন। কথা হচ্ছে শ্রাবন্তীর চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে। এবার বাংলার পাশাপাশি ওপার বাংলাতেও নিজের অভিনয় দক্ষতা বহুবার প্রমাণ করেছেন শ্রাবন্তী। কিন্তু তারপরেও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তাকে বারে বারে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়।
যদিও সে নিয়ে খুব একটা বেশি মাথাব্যথা নেই অভিনেত্রীর। নিজেই জানিয়েছেন সে কথা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে একগুচ্ছ প্রশ্নের জবাব দেন নায়িকা। শীঘ্রই মুক্তি পেতে চলেছে শ্রাবন্তী অভিনীত ছবি বাবুসোনা। আপাতত সেই ছবির প্রচারে ভীষণ ব্যস্ত তিনি। এরই মাঝে সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একগুচ্ছ কথা বলতে শোনা গেল তাকে।
পর্দায় অভিষেকের পর ২০০৩ সালে নির্মাতা রাজীব কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে বিয়ে হয় শ্রাবন্তীর। বেশ ভালোই চলছিল সেই সংসার। ঘর আলো করে আসে পুত্র সন্তান। কিন্তু বৈবাহিক জীবনের আট বছর পার হতে না হতেই আলাদা হয়ে যায় তাদের পথচলা। দুই বছর প্রেম করে ২০১৭ সালে মডেল কৃষাণ ব্রজের সঙ্গে মালাবদল করেন। কিন্তু এই বিয়েও টেকেনি খুব বেশিদিন। মাত্র বছর দেড়েক পরই মডেল কৃষাণের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় টলি তারকার। তারপর জিম ট্রেইনার রোশন সিংকে বিয়ে করেন। আর এবার বছর গড়ানোর আগেই ফাটল দেখা দেয় সম্পর্কে। দু’জন আলাদা থাকা শুরু করেন। এই বিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। আজও তা আদালতেই বিচারাধীন।
এদিকে ব্যক্তিগত জীবনে এত উত্থান-পতন থাকলেও কখনো থমকে থাকেননি শ্রাবন্তী। একাধিক বিয়ে নিয়ে যত বিতর্কই হোক, বরাবরই পাশ কাটিয়ে গেছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রশ্ন, এখন কী তাহলে জীবনকে ফের গোছানোর কথা ভাবছেন অভিনেত্রী? শ্রাবন্তীর জবাব, ‘আপাতত সে রকম কোনও পরিকল্পনা নেই। তবে ভবিষ্যতে করব কি না বলতে পারছি না। জীবন উপভোগ করছি’।
২৭ বছর ইন্ডাস্ট্রিতে। কত ওঠাপড়া। কী ভাবে হাসিমুখে সামাল দেন? এই প্রশ্নের জবাবে নায়িকা বলেন, ‘নিজেকে শক্ত করে রাখতে হয়েছে। আমি মনে করি জীবন একটাই আর আমার জীবন, আমিই বাঁচব। আমার বিল কেউ ভরে দেবে না, বাড়ি-গাড়ির মাসিক কিস্তি কেউ ব্যাঙ্কে গিয়ে দিয়ে আসবে না। আমার ছেলেকেও কেউ মানুষ করবে না। আমিই করব এগুলো। তার পাশাপাশি আমাকেও ভাল থাকতে হবে। ঈশ্বরের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, মা-বাবাকেও ধন্যবাদ যে আমি এ রকম একটা জীবন পেয়েছি। মা-বাবা যত দিন রয়েছেন, তাঁদের সান্নিধ্যে রয়েছি। দর্শকের জন্য আরও ভাল কাজ করতে চাই, এটুকুই। বাকি কে কী বলল, আমার কিছু এসে-যায় না’।

