Tag: Flood

  • Floods in China: চীন বাঁধ তৈরির চরম ফল পেল! বন্যায় ডুবছে বেজিং, অবস্থা ভয়ানক

    Floods in China: চীন বাঁধ তৈরির চরম ফল পেল! বন্যায় ডুবছে বেজিং, অবস্থা ভয়ানক

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    Floods in China: চীন ডুবে যাচ্ছে! পাপের হিসেব হওয়ার সময় চলে এল? ড্যাম তৈরি একের পর এক সেজন্যই কি অস্বাভাবিক বৃষ্টি? ১৯৩১ চীনের ভয়ানক বন্যার স্মৃতি মনে পড়ে যাচ্ছে! কত ক্ষতি কী বেহাল দশা শুনলে চমকে যাবেন। চীন মারাত্মক বন্যায় ডুবে যাচ্ছে কর্মের এবার উচিত ফল পাবে। এই লড়াইয়ে চীন পুরোপুরি গোহারা হেরে যেতে পারে। একমাত্র ঈশ্বর ছাড়া কেউ বাঁচাতে পারবে না এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে। অনেকেই বলছেন এবার এমন দুর্গতি হল বেজিংয়ের তাতে রীতিমত থরথর করে কাঁপছেন শি জিনপিং। রিপোর্ট বলছে, টানা ৩ দিন ধরে প্রবল বৃষ্টি এবং বন্যায় ভেসে যাচ্ছে ড্রাগনল্যান্ডের একাধিক এলাকা। বেজিংয়ে রীতিমত জলপ্রলয় সেখানে এখনও পর্যন্ত ১১ জনের প্রাণ হারানোর খবর। তবে আসল সত্যি কি সেটাই? কেন চীনে বারবার এমন ভয়ানক বন্যা হয়? নেপথ্যে কি জিনপিংয়ের পাগলের পর একের পর এক ড্যাম তৈরিই কারণ?

    চীনের আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর এমন বৃষ্টি চীনে রীতিমত অস্বাভাবিক। থ্রি গর্জেস ড্যাম বেজিং তৈরি করেছে যা বদলে দিচ্ছে পৃথিবীর আহ্নিক গতি বার্ষিক গতি। এমনকি পৃথিবীর আকৃতিতেও বদল আনে এই বাঁধ। ২০০৫ সালে নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন থ্রি গর্জেস বাঁধের বিপুল জলরাশির চাপে পৃথিবী আগের চেয়ে কিছুটা ঝুকে  গিয়েছে। রীতিমত প্রকৃতিক বিরুদ্ধে গিয়ে লড়াই পরিণতি তো করুণ হবেই কতটা ভয়ানক চীনের এবারের বন্যা? জানার জন্য মুখিয়ে রয়েছে বহু দেশ। সঠিক তথ্য দুনিয়ার সামনে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে ৫০,০০০ এরও বেশি মানুষকে ইতিমধ্যেই উদ্ধার করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে নিরাপদ এলাকায়।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেয়াল করতে হবে এমন বিপর্যয় কিন্তু দক্ষিণ চিনের পাশাপাশি উত্তর চিনে অস্বাভাবিক বৃষ্টির কারণে জন্য হয়েছে। অবাক করার মতো ব্যাপার শেষ কবে উত্তর চিনে এত বৃষ্টি হয়েছে তা মনে করতে পারছেন না সেখানকার বাসিন্দারা। তথ্য বলছে মধ্য চীনের হুবাই প্রদেশে প্রথম বার থ্রি গর্জেস বাঁধে যখন জলভর্তি করা হয় তখন ওই জল বেরিয়ে চিনের দেড় হাজার শহর ভাসিয়ে দিয়েছিল। সেক্ষেত্রে অনেকেরই মত শুধু থ্রি গর্জেস বাঁধই নয় এধরণের একের পর এক বাঁধ তৈরি করে জল আটকে রেখেছে বেজিং। যার বিরূপ প্রভাব কি এবার পড়ছে প্রকৃতিতে?য ১৯৩১ সালে বন্যার কথা উঠলে আজও চমকে যায় চিনিরা। কেউ জানে না ঠিক কত মানুষের জীবন গেছিল তবে ফাঁস হয়েছিল সেই বন্যায় সংখ্যাটা নাকি ছিল ৪০ লক্ষের কাছাকাছি। এবারও কি সেই অতি বেহাল দশার দিকে এগোচ্ছে চিন। জানা যাচ্ছে যে যে এলাকা এখন জলের নীচে সেখান থেকে এক্ষুনি বন্যার জল সরার সম্ভাবনা নেই এবার কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে ড্রাগনের দেশ?

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • রাস্তায় কুমির-সিংহ, আবহাওয়ার ভয়ঙ্কর খেলা ভারতে! বর্ষার দাপটে বারংবার বন্যা, কতটা রিস্কে বাংলা?

    রাস্তায় কুমির-সিংহ, আবহাওয়ার ভয়ঙ্কর খেলা ভারতে! বর্ষার দাপটে বারংবার বন্যা, কতটা রিস্কে বাংলা?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে কুমির-সিংহ! বর্ষার ভয়ানক রুপ গুজরাটে। ফের বর্ষার রিভার্স স্যুইং। নতুন করে বর্ষার দাপট, একের পর এক রাজ্যে রেড-অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি। কোন পথে এগোচ্ছে ভারতের বর্ষা পরিস্থিতি? কোথাও অতিবৃষ্টি, কোথাও বৃষ্টির ঘাটতি। শুরু আবহাওয়ার ভয়ঙ্কর খেলা। মৌসম ভবনের পরিসংখ্যানে মাথায় বাজ পড়বে। এবার কী বাণভাসি বাংলাও? অঝোর ধারায় বৃষ্টি। বাণভাসি গুজরাট। ভেসেছে সিংহের আস্তানাও। জঙ্গল ছেড়ে রাস্তায় উঠে এসেছে সিংহ।

    গুজরাটে দেখা দিয়েছে হড়পা বানও। বর্ষার জলে ডুবে কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। প্রবল বৃষ্টিতে আমেদাবাদ, জুনাগড়ের পরিস্থিতি মারাত্মক। জনজীবন বিপর্যস্ত। রাস্তায় ‘পার্ক’ করে রাখা গাড়ি ভাসতে ভাসতে চলে যাচ্ছে বহু দূরে। জলের তলায় দোকানপাট, বাড়িঘর।ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে লাল সতর্কতা জারি। শুধু গুজরাট নয় রিস্কে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখন্ড সহ মোট সাতটি রাজ্য। মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থানে। কমলা সতর্কতা রয়েছে মধ্য প্রদেশ, কর্নাটক, ওডিশা, গোয়া, কেরালায়। দক্ষিণের বিভিন্ন দেশ অন্ধ্র প্রদেশ, তামিলনাড়ু, তেলঙ্গানা, কর্নাটকেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত গোটা সপ্তাহ জুড়েই। উত্তর পূর্ব ভারতেও ভারী বৃষ্টি। মিজোরাম, মণিপুর, ত্রিপুরা নাগাল্যান্ড ও ভাসছে বৃষ্টিতে। অথচ, বড়সড় বৃষ্টির ঘাটতি কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে।

    মোট কথা যেখানে প্রতি বছর অনেক বৃষ্টি হয়, সেখানে এ বছর বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক কম। আবার যেখানে খুব বেশি বৃষ্টি হতে দেখা যায় না, সেই এলাকাগুলোই এবার বর্ষায় কার্যত ভেসে গিয়েছে। মৌসম ভবনের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে। দেখা গিয়েছে, উত্তর এবং মধ্য ভারতের একটা বড় অংশে এ বছর বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি। আবার, উত্তর-পূর্ব ভারতে এ বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ তুলনায় অনেক কম! মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম এবং অসমের একাংশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৬০ থেকে ৯৯ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনায় রীতিমতো আতঙ্কিত দেশের মানুষ। দেশের একদিক যখন ভেসে যাচ্ছে তখন বাংলার পরিস্থিতি কি রকম? বিগত ৩৫ দিনে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি ৩৮ শতাংশ। কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলি জেলায় বৃষ্টির ঘাটতি ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ যা বৃষ্টি হওয়া উচিৎ ছিল তার অর্ধেক বৃষ্টি পেয়েছে এই ৪ জেলা। এর মধ্যেই শক্তি বাড়াচ্ছে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত। নিম্নচাপের জেরে তুমুল দুর্যোগের আশঙ্কা ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে। ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস পশ্চিমবঙ্গেও।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • ভয়ানক বর্ষা! কোথায় তলিয়ে যাচ্ছে মধ্যপ্রদেশ? মহাকাল ঘিরে তোলপাড়। প্যালপিটিশন বাড়াচ্ছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস

    ভয়ানক বর্ষা! কোথায় তলিয়ে যাচ্ছে মধ্যপ্রদেশ? মহাকাল ঘিরে তোলপাড়। প্যালপিটিশন বাড়াচ্ছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    তলিয়ে যাচ্ছে মধ্যপ্রদেশ? ফুঁসছে শিপ্রা, চলছে নাগাড়ে বৃষ্টি, দুর্যোগে উজ্জয়িনী। বড় রিস্কে মহাকাল মন্দির। ভাসছে জ্যোতির্লিঙ্গ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়। ২০১৫-র স্মৃতি ফিরছে? টেনশন বাড়াচ্ছে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস। ছুটি স্কুল, কলেজ। বর্ষার দাপট দেশজুড়ে। রাজ্যে রাজ্যে সতর্কতা জারি। হিমাচল, উত্তরাখন্ড, দিল্লির পর মধ্যপ্রদেশে খেল দেখাচ্ছে বৃষ্টি। পরিস্থিতি কোন দিকে এগোচ্ছে? বোঝা দায়।

    শুক্রবার রাত থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। শিপ্রা নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। কমলা সতর্কতা জারি রয়েছে গোটা মধ্য প্রদেশ জুড়ে। তার জেরেই জলমগ্ন মহাকাল মন্দির। ওই রাত থেকেই মন্দিরে হু হু করে নদীর জল ঢুকতে শুরু করে। ঝম ঝম করে মন্দিরের ভিতর বৃষ্টি পড়ছে। ভেসে গিয়েছে মহাকাল জ্যোতির্লিঙ্গের আশপাশের স্থল। রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে যায় ভক্তদের মধ্যে। জলমগ্ন মহাকাল মন্দিরের এমনই একটা ভিডিয়োও প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি প্রথম কলকাতা। তবে, ওই ভিডিও ২০১৫ র স্মৃতি ফেরাচ্ছে। সেবার ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মহাকাল মন্দিরের গর্ভগৃহে জল ঢুকে গিয়েছিল।

    এর মধ্যেই মৌসম ভবন যা জানিয়েছে, তাতে মোটামুটি ঘুম উড়ে যাওয়ার জোগাড়। পূর্বাভাস, উজ্জয়িনী-সহ রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে। লিস্টে রয়েছে সীহোর, নর্মদাপুরম, বেতুল, হরদা,‌ খরগোন, ইনদোর, রতলাম, উজ্জয়িনী, গোয়ালিয়র, জবলপুর, আগর-মালওয়া। ভোপাল, রায়সেন, রাজগড়, ছিন্দওয়াড়াতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। ৩৯টি জেলায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন। উজ্জয়িনীতে ভারী বৃষ্টির কারণে স্কুল, কলেজ অলরেডি ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    আসলে, বঙ্গোপসাগর, উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ, দক্ষিণ ওড়িশায় মৌসুমী অক্ষরেখা অবস্থান করছে। যার প্রভাব মধ্যপ্রদেশেও পড়ছে। শুধু মধ্যপ্রদেশ? বর্ষার দাপট দেশজুড়ে। উত্তর, পশ্চিম, মধ্য এবং পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যেই প্রবল বর্ষণ চলছে। যমুনা নদীর জলস্তর বেড়ে বন্যায় ভাসছে দিল্লি। মহারাষ্ট্রে নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে বন্ধ করা হয়েছে একাধিক এলাকার স্কুল, জারি হয়েছে লাল এবং কমলা সতর্কতা। তুমুল বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস গুজরাটেও, জারি লাল সতর্কতা। উত্তরাখণ্ডে ধসের আশঙ্কায় কমলা সতর্কতা জারি। হিমালচল প্রদেশ, লাদাখ, জম্মু ও শ্রীনগরেও ধসের আশঙ্কা রয়েছে। বাদ নেই উড়িষ্যাও। এমনকি অসম মেঘালয়েও ভারী বৃষ্টির ইঙ্গিত দিয়েছে মৌসম ভবন।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • ভারতে প্রতিবছর বন্যা কেন হয়? কোন পাপে এমন শাস্তি? আসল গলদটা কোথায়?

    ভারতে প্রতিবছর বন্যা কেন হয়? কোন পাপে এমন শাস্তি? আসল গলদটা কোথায়?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    ডুবছে ভারত। থৈ থৈ করছে বন্যার জল। জলবন্দি বড় বড় শহর। বিপর্যস্ত মানুষের জীবন। চারিদিকে শুধুই হাহাকার। কোন ভুলে ভারতের এত বড় সর্বনাশ? প্রতিবছর ভারতে কেন বন্যা হয়? ভারত এত আধুনিক হওয়ার সত্বেও কেন রুখতে পারছে না বন্যাকে? কোন পাপের মাশুল গুনতে হচ্ছে?

    বিগত ৪০ বছর তুলনায় দিল্লিতে এই বছর বেশি বৃষ্টি হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ রাতারাতি ঘর ছেড়ে ঠাঁই নিচ্ছে আশ্রয় কেন্দ্রে। পাশাপাশি হিমাচল, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হরিয়ানা আর উত্তরপ্রদেশের বহু জায়গায় বন্যায় বেহাল অবস্থা। ভারতে প্রতি বছর বর্ষা আসতেই কোনো না কোনো জায়গায় বন্যায় হবেই । ক্ষতি হয় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার। হিমাচলে একের পর এক ল্যান্ড স্লাইড। ধুয়ে মুছে সাফ রাস্তা। জারি রেড অ্যালার্ট। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। বন্ধ ৭০০ এর বেশি রাস্তা। উত্তরাখণ্ডেও একই অবস্থা। প্রায় ১৫৫ টি রাস্তা বন্ধ। দেরাদুনে জল পৌঁছে গিয়েছে মানুষের ঘরে। পুরো উত্তর ভারত এখন বিপর্যয়ের মুখে। দায়ী করা হচ্ছে অত্যাধিক বৃষ্টিকে। কিন্তু এটা কি পুরোপুরি সত্যি? না। কারণ পাহাড়ি এলাকায় বিপর্যয় নামে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অত্যধিক বৃষ্টি আর হিমবাহের গলন বেড়ে গেলে। আসাম আর বিহারের কথা বললে, প্রতিবছরই কম বেশি বন্যা হয়। কিন্তু কোন ইম্প্রুভ নেই। নেপথ্যে মূল কারণ অবহেলা। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের তথ্য বলছে, ভারতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে ক্ষতি হয় তার ৫০ শতাংশের বেশি হয় শুধুমাত্র বন্যার কারণে। আর সমতল এলাকায় বন্যার জন্য দায়ী মানুষ।

    ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বন্যার কারণে ভারতের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৬৪.৬৩ বিলিয়ন ডলার। ২০১৮ তে কেরালার বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ ৪.২৫ বিলিয়ন ডলার, ২০১৫ তে তামিলনাড়ুর বন্যায় ৫০ হাজার কোটি থেকে ১ লক্ষ কোটি টাকা, ২০২০ তে হায়দ্রাবাদের বন্যায় ক্ষতি হয়েছে ৬৭০ কোটি টাকা। এই তালিকাটা অনেকটা লম্বা। বন্যায় মানুষের ঘর ভেসে যায়, ছড়িয়ে পড়ে একাধিক রোগ। কমে উৎপাদন। ক্ষতির মুখে পড়ে দেশের অর্থনীতি। জলবায়ু পরিবর্তন দেশের জিডিপি পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে কিন্তু বৃষ্টি আরও অনিয়মিত হবে। বৃষ্টি হবে অল্প দিনের জন্য কিন্তু প্রচুর পরিমাণে। একদিকে দেখা দেবে খরা, অপরদিকে বন্যা।

    বন্যা কিন্তু একেবারে নতুন নয়, গঙ্গা কিংবা ব্রহ্মপুত্রের মতো নদীতে বন্যা স্বাভাবিক ব্যাপার। আসলে মূল কালপ্রিট অপরিকল্পিত উন্নয়ন। ভিয়েতনামেও ভারতের মতো বৃষ্টি হয়, বন্যা হয় না। দেশটায় জল জমার জায়গায় নেই। ভারতের শহর নামেই চাকচিক্য কিন্তু জল নিকাশির ব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ। অত্যাধিক জনসংখ্যার কারণে নদীর ধারে জমা হচ্ছে বর্জ্য, ভরাট হচ্ছে নদীর তলদেশ। বৃষ্টি হতেই বাড়ছে নদীর জল। মানুষ যা চাইছে সঙ্গে সঙ্গে তাই করছে, কিন্তু ভবিষ্যতের কথা ভাবছে না। নির্বিচারে কাটছে গাছ। অপরদিকে মাটিও জল শুষে নেয়, কিন্তু এখন মাটি কোথায়? বন্যার জল মাটিতে প্রবেশের মতো শহরাঞ্চলে কোন সারফেস নেই। চারিদিকে শুধুই কংক্রিটের জঙ্গল। বিগত ৩০ সালের মধ্যে মুম্বাই ৪২ শতাংশ সবুজ হারিয়ে ফেলেছে। একটা সময় বেঙ্গালুরু আর হায়দ্রাবাদে প্রচুর হ্রদ ছিল, কিন্তু এখন পরিণত হয়েছে মানুষের বাসস্থানে। উপকূলীয় অঞ্চলকে বন্যা থেকে বাঁচায় ম্যানগ্রোভ বা ওয়েট ল্যান্ড। মুম্বাই থেকে গত ৪৪ বছরে গায়েব হয়ে গিয়েছে ৭১ শতাংশ ওয়েট ল্যান্ড।

    এখন একটাই উপায়, বৃষ্টির জল ফিরিয়ে দিতে হবে মাটিতেই। করতে হবে রেন ওয়াটার হারভেস্টিং। বানাতে হবে রেইন গার্ডেন। যেখান থেকে বৃষ্টির জল শুষে নেবে মাটি। বাঁচতে এখনই বাড়িতে বৃষ্টির জল সঞ্চয়ের ব্যবস্থা করুন। গাছ কাটা বন্ধ করুন। পরিবেশ বাঁচলে তবেই আমরা বাঁচব।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Himachal Pradesh Flood: হিমাচলের রুদ্ররুপ, অচেনা উত্তরাখণ্ড ! উত্তর ভারতে বৃষ্টির লেটেস্ট আপডেট, বাড়ি থেকে বেরোলেই বড় বিপদ

    Himachal Pradesh Flood: হিমাচলের রুদ্ররুপ, অচেনা উত্তরাখণ্ড ! উত্তর ভারতে বৃষ্টির লেটেস্ট আপডেট, বাড়ি থেকে বেরোলেই বড় বিপদ

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    Himachal Pradesh Flood: বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত। প্রকৃতির এমন ভয়ংকর রূপ আগে দেখেনি হিমাচল। লাগাতার বৃষ্টি, বন্যায়, ধসে অচেনা, ভারতের এই পাহাড়ি রাজ্য। হড়পা বানের তেজ, নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে গ্রাম। বাড়িঘর, দোকানপাট তো কোন ছাড়।লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যু। আরও বাড়বে বৃষ্টি, বাড়বে নদীর জলস্তর। কমলা সর্তকতা জারি। উত্তরাখণ্ডেও শোচনীয় পরিস্থিতি। ফুঁসছে গঙ্গা। বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে অলকানন্দাও। বাঁচার জন্য হাহুতাশ করছে মানুষগুলো। এর শেষ কোথায়?

    বিপর্যয় যেন হিমাচল প্রদেশের পিছু ছাড়ছে না। হিমাচলের কুলুতে মেঘভাঙ্গা বৃষ্টির জেরে ফের বন্যা পরিস্থিতি। গেছে প্রাণ, আহত একাধিক। প্রকৃতির রোষানলে তছনছ হয়ে যাচ্ছে গোটা একটা রাজ্য। গত কয়েকদিনে শুধু হিমাচল প্রদেশেই বর্ষার কারণে ১২০ জনের ও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জলের তোড়ে অনেকে নিখোঁজ। হিমাচলে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিপাসা নদী। পাহাড়ে মুহুর্মুহু ধস, মেঘভাঙা বৃষ্টি আর হড়পা বান বহু মানুষের প্রাণ কেড়েছে! রাজ্যের নানা প্রান্তে রাস্তাঘাট, সেতু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়ি ঘর, দোকান পাট ভেসে গেছে। পর্যটকদের গাড়ির কোনো হদিস নেই। ধস নেমে রাস্তা বন্ধ। বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা। সেনা নামানো হয়েছে রাজ্যে, জলমগ্ন বাসিন্দাদের উদ্ধার করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।

    উনা জেলার অবস্থা ভয়াবহ। চন্দ্রতাল, পাগল নাল্লা, লাহুল-স্পিতি ভেসে গেছে। একের পর এক ভূমিধসে সব লন্ডভন্ড। লাহুল, স্পিতিতে আটকে বহু পর্যটক। তাঁদের উদ্ধার করার জন্য সব রকম চেষ্টা চলছে। পর্যটকরা কী অবস্থায় আছেন, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য হেলিকপ্টারে করে ওই অঞ্চল পরিদর্শন করা হচ্ছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। দুর্যোগ না থামা পর্যন্ত বাড়ির বাইরে বেরোতে নিষেধ মুখ্যমন্ত্রীর। গত ২৪ জুন হিমাচল প্রদেশে আনুষ্ঠানিক ভাবে বর্ষা প্রবেশ করেছিল। তার পর থেকে এখনও পর্যন্ত যা পরিসংখ্যান, তাতে রাজ্যে মোট ৪,৬৩৬ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে হিমাচল প্রদেশ আরৎউত্তরাখণ্ডের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। পরিস্থিতি শোচনীয়। টানা বৃষ্টিতে উত্তরাখণ্ডে গঙ্গার জল বেড়ে গিয়েছে। বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে পাহাড়ি নদীগুলো। দেবপ্রয়াগ, হরিদ্বারে গঙ্গার পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছে প্রশাসন। প্লাবিত হয়েছে সঙ্গম ঘাট, রামকুণ্ড, ফুলাদি ঘাটের মতো এলাকা। এক নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে উত্তরাখণ্ডের একাধিক রাস্তায় ধস নামতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতেও মৌসম ভবন বলছে, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডে এখনই বৃষ্টি থামার সম্ভাবনা নেই। বরং আগামী কয়েক দিন ভারী থেতে অতি ভারী বৃষ্টি হবে দুই রাজ্যেই। ফলে নদীর জল আরও বাড়তে পারে। রয়েছে ধস, হড়পা বানের সতর্কতাও।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • ভারতকে ধ্বংস করে দিতে যমুনাই যথেষ্ট, বড় এফেক্ট বাংলাদেশে! বন্যার আসল কারণটা কী?

    ভারতকে ধ্বংস করে দিতে যমুনাই যথেষ্ট, বড় এফেক্ট বাংলাদেশে! বন্যার আসল কারণটা কী?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    বন্যার কারণে লকডাউনে গোটা দিল্লি, বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে যমুনার জল। তছনছ করে দিচ্ছে ভারতকে। ভেঙে দিয়েছে ৪৫ বছরের রেকর্ড। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে উত্তর ভারত। বাতাসে মানুষের হাহাকার। বাংলাদেশেও একই অবস্থা। ইতিমধ্যেই বহু জায়গায় বন্যা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে ভারত থেকে ঢুকছে প্রচুর জল। কোন পাপে এমন শাস্তি? মুক্তির কি কোনো উপায় আছে? বাংলাদেশ কেন ভারতকেই দোষারোপ করে? এটা আদৌ কি ঠিক?

    ভারতকে ধ্বংস করে দিতে যমুনা নদীই যথেষ্ট। মানুষ বহুদিন ধরে এই নদীর উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। অ্যামোনিয়া আর ফসফেটের আধিক্যে নদীর জল পরিণত হয়েছে সাদা ফেনায়। বর্তমানে যমুনার জল বইছে প্রায় ২০৮.৫৩ মিলিমিটার উপর দিয়ে। নেপথ্যে মানুষের পাপ। যমুনার দুই পাড় আবর্জনায় ভরিয়ে দিয়েছে মানুষ। নদীর তলদেশে বৃদ্ধি পেয়েছে পলি। নদীর গতিপথ অবরুদ্ধ করে গজিয়ে উঠেছে একাধিক ব্রিজ। নিকাশি ব্যবস্থারও ভয়ঙ্কর অবস্থা। জল এলাকায় ঢুকছে, কিন্তু বেরোনোর পথ পাচ্ছে না।

    একই ভাবে ভুগছে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। আচ্ছা, বাংলাদেশে বন্যা হলে কেন বারংবার আঙুল তোলা হয় ভারতের দিকে? এর কি সত্যি কোনো পোক্ত কারণ আছে? বাংলাদেশে বন্যা হয় দুটো ভাবে। একটা আন্তর্জাতিক আর একটা অভ্যন্তরীণ। অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে বেশিরভাগটাই মানবসৃষ্ট। নির্বিচারে গাছ কাটা, পাথর উত্তোলনের করায় মাটি নরম হয়ে যায়। অত্যাধিক পরিমাণে পলি জমা হয় নদী আর হাওরের তলদেশে। কমতে থাকে নাব্যতা। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বারংবার চলে আসে ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজের নাম। এটি রয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ভারতের মাত্র ১৮কিমি ভিতরে। এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছিল ১৯৭০ সালে। উদ্দেশ্য ছিল নিয়মিত যান্ত্রিক ড্রেজিং ছাড়া কলকাতা বন্দরের নাব্যতা ঠিক রাখা। যখনই ভারতে বন্যা হয় তখন অতিরিক্ত জলের চাপ সামলাতে ব্যারেজের গেট গুলো খুলে দেওয়া হয়। ভারতের আওতায় প্রচুর নদী রয়েছে। মেঘনা অববাহিকায় আছে প্রায় ১৬টি আন্তদেশীয় নদী। কিন্তু নদীর জল আর পলি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যৌথ পোক্ত চুক্তি নেই। বন্যা হলে ভোগে দুই দেশই । এর মাঝেই চলে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি। বাংলাদেশেও উন্নয়নের কাজে প্রচুর পরিমাণে বাঁধ দিয়ে জল প্রবাহ আটকে রাখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা মনে করছে, বাঁধ দিয়ে নয় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে জল প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সিলেটে জলের প্রবাহ কিভাবে আসছে, কিভাবে সেখান থেকে সাগরে মিশছে তা বাংলাদেশের হাতেই রয়েছে। তাই সচেতন ভাবে কাজ না করলে মুশকিল।

    বাংলাদেশের বন্যার পিছনে অন্যতম কারণ দেশটার অবস্থান। দেশটা মূলত গঙ্গা ব্রহ্মপুত্র আর মেঘনার পলি মাটি দিয়ে তৈরি। হিমালয়ের বরফ গলা জলের একটা বড় অংশ সমুদ্রে মিশে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের উপর দিয়েই বয়ে চলে। কিন্তু হিমালয় থেকে আসা জলপ্রবাহের পরিমাণ কখনো এক থাকে না। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বাড়তি চাপ পড়লেই ঘটে বিপত্তি, ধারণ ক্ষমতা হারায় নদী। সবথেকে বেশি বৃষ্টি হয় ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে, এখন থেকে বাংলাদেশের দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। পাহাড় থেকে জল বাংলাদেশের সমতলে অতিসহজেই বন্যা সৃষ্টি করে। বেশি ভোগে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, বগুড়া, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারি , সিলেট, সুনামগঞ্জ সহ বহু অঞ্চল।

    বিশ্ব জুড়ে ক্রমবর্ধমান উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বহু দেশ মুছে যাবে ম্যাপ থেকে। তার মধ্যে ভারতের বহু অঞ্চল সহ বাংলাদেশেও রয়েছে। এমনটাই আশঙ্কা করছেন বহু বিশেষজ্ঞরা। আসলে প্রকৃতিও চাইছে দূষণের বিষবাষ্প থেকে হাফ ছেড়ে বাঁচতে। এই বন্যাকে কিন্তু মানুষই আটকাতে পারে। তার জন্য হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে। আরো সচেতন হতে হবে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • উত্তর ভারতে শনির বক্রদৃষ্টি, জলের তলায় দিল্লি। হুড়মুড়িয়ে বাড়ছে মৃত্যু, এই দিনেই বড় রিস্ক

    উত্তর ভারতে শনির বক্রদৃষ্টি, জলের তলায় দিল্লি। হুড়মুড়িয়ে বাড়ছে মৃত্যু, এই দিনেই বড় রিস্ক

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    বন্যায় ধুঁকছে উত্তর ভারত। মৃত্যুমিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। ভাসছে হিমাচল, উত্তরাখণ্ড। বন্যার কবলে রাজধানী, যমুনা ভাবাচ্ছে দিল্লিকে। ভারী বর্ষণের কারণে এখনই কাটছে না দুর্ভোগ। বাতিল একাধিক ট্রেন। জায়গায় জায়গায় ভূমিধস। রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, জল সরবরাহ ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন। অঝোর ধারায় বৃষ্টির মাঝে বাঁচার জন্য শেষ চেষ্টা চলছে। এটা বন্যা কবলিত উত্তর ভারতের ছবি। বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দেশের এই অংশ। একদিকে প্লাবন, অন্যদিকে ধস। বৃষ্টির কারণে এখনও পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিম ভারতে মৃত্যু ১৪০ ছাড়িয়েছে। সব থেকে বেশি মৃত্যু হয়েছে হিমাচল প্রদেশে। তালিকায় রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পঞ্জাব, হরিয়ানা। যাকে বলে বাঁধভাঙা বৃষ্টি। ক্ষয়ক্ষতি বিশাল।

    হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ডে জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে সব কিছু। হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে বাড়ি ঘর, রাস্তা। তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ছে একের পর এক সেতু, কাদা গোলা জলের তেজে সবকিছু দুমড়ে মুচড়ে একাকার। তবে, বন্যার জলের দাপট সহ্য করেও বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে হিমাচলের পঞ্চবক্ত শিব মন্দির। আর দুর্যোগের মাঝে এই নিয়েই শুরু হয়েছে তোলপাড়। না, থামছে না। আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস আইএমডি-র। ১৭ জুলাই পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা উত্তরাখণ্ডে, জারি কমলা সতর্কতা। বৃষ্টির প্রভাব সব থেকে বেশি পড়তে পারে হরিদ্বার, পাউরি গাঢ়োয়ালে। ১৬ জুলাই রবিবার বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে, মানুষকে আরও সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।

    বেহাল অবস্থা রাজধানী দিল্লির ও। লালকেল্লা, রাজঘাট জলমগ্ন, জল ঢুকেছে সুপ্রিম কোর্টেও। ১৬ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ দিল্লির সব স্কুল। অলরেডি বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল সেনার সাহায্য চেয়েছেন। দিল্লির পাশাপাশি জলের নীচে মুম্বই শহরের অনেক এলাকাও। কয়েকদিন হয়ে গেল। গত ৮ জুলাই থেকে টানা বৃষ্টি শুরু হয়েছে উত্তরপূর্ব ভারতে। যার জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত। উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশে এখনই বৃষ্টি থামার চান্স নেই। আর এই বৃষ্টিতে মাটি এতটাই নরম হয়ে উঠেছে যে, জলধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। বন্যা আর ধসের সম্ভাবনা বাড়ছে, বিশেষত পাহাড়ি এলাকা রিস্ক ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াচ্ছে। হিমাচল, উত্তরাখণ্ড দুই রাজ্যেই আটকে বহু পর্যটক। দফায় দফায় পর্যটকদের উদ্ধার করার কাজ চলছে, হেলিকপ্টারে করেও তুলে আনা হচ্ছে। কিন্তু, দুর্ভোগ যে আরও বাড়বে সেটা স্পষ্ট।

    ১৭ জুলাই থেকে মধ্যপ্রদেশে বৃষ্টি বাড়তে পারে। ১৬ জুলাই উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে। সেই সঙ্গে নতুন করে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণে আগামী দিনে হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমান বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। এই পরিস্থিতিতে প্রবল বৃষ্টির জন্য উত্তর ভারতগামী কিছু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। পূর্ব রেলের তরফেও বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। দিল্লি সহ উত্তর রেলের একাধিক জায়গায় রেল চলাচল বিপর্যস্ত। যমুনা-সহ একাধিক নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জম্মু তাওয়াই এক্সপ্রেস বাতিল করা হয়েছে। কলকাতা অমৃতসর এক্সপ্রেস ও হাওড়া-দেরাদুন এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির ইয়ত্তা নেই, সেই সঙ্গে প্রাণহানিও অব্যাহত। প্রাকৃতিক এই দুর্ভোগের শেষ কোথায়? জানে না কেউ।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Flood: ভারত কি পারে না বাংলাদেশের বন্যা আটকাতে? বর্ষা নামতেই রিস্কে ওপার বাংলা

    Flood: ভারত কি পারে না বাংলাদেশের বন্যা আটকাতে? বর্ষা নামতেই রিস্কে ওপার বাংলা

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    Flood: বর্ষা নামতেই বাংলাদেশে বন্যার আশঙ্কা। গত বছরের মতো পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হবে না তো? বন্যা মানেই মানবিক বিপর্যয়। এবছর কতটা রিস্কে বাংলাদেশ? বন্ধু রাষ্ট্র হয়ে ভারত কি পারে না বাংলাদেশের বন্যা আটকাতে? এত আলোচনা পরিকল্পনা করেও কেন বন্যার সাথে পেরে উঠছে না দুই দেশ? গলদটা ঠিক কোথায়?

    ভারত আর বাংলাদেশের বন্যার প্রসঙ্গ এত ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে কেন? বাংলাদেশের বন্যার প্রসঙ্গে কেন ভারতের কথা উঠে আসে? আসলে ভারত আর বাংলাদেশ একে অপরের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করছে প্রায় চার হাজার কিলোমিটারের বেশি। যার মধ্যে বাংলাদেশ আসামের সঙ্গে ২৬২ কিলোমিটার, ত্রিপুরার সঙ্গে ৮৫৬ কিলোমিটার, মিজোরামের সঙ্গে ৩১৮ কিলোমিটার, মেঘালয়ের সঙ্গে ৪৪৩ কিলোমিটার এবং পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে ২১৭ কিলোমিটার সীমান্ত ভাগ করে। বর্ষায় আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরার জল বাংলাদেশের সিলেট সুনামগঞ্জ হয়ে নিম্ন অঞ্চলে প্রবাহিত হয়। প্রতিবছর বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয় বাংলাদেশে রংপুর কুড়িগ্রাম নীলফামারীসহ অন্তত ১৭টি জেলায়। ডুবে যায় রাস্তাঘাট, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে রেল যোগাযোগ। সবথেকে বেশি বৃষ্টি হয়ে থাকে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে। যার শুরুটা হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্ত থেকে। এই জল প্রথমে যায় বাংলাদেশের হাওরে, তারপর ভৈরব কিংবা মেঘনা হয়ে চলে যায় সাগরে। বাংলাদেশে প্রচুর নদী আছে কিন্তু অতিরিক্ত জল নেওয়ার ক্ষমতা নেই। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে জলবায়ুর বড়সড় পরিবর্তন ঘটেছে। বাঙলাদেশের নদী গুলোর নাব্যতাও কমেছে। প্রতি বছর উজান থেকে জলের সাথে নেমে আসে বলি আর পাথর, যা ভরাট করে ফেলে নদীর তলদেশ। পাশাপাশি সিলেট সুনামগঞ্জ কিশোরগঞ্জ কিংবা নেত্রকোনার হাওর এলাকার বেশিরভাগ জনপদে বাঁধ নেই।

    এছাড়াও বন্যার পিছনে তিনটি বিষয়কে দায়ী করা যেতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন, আন্তদেশীয় উদ্যোগের অভাব, আর অব্যবস্থাপনা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা হচ্ছে অবশ্যই ঠিক। কিন্তু মানুষের দায় এড়ানো যাবে না। সীমান্তের নদী গুলোর জল আর বলি ব্যবস্থাপনার জন্য দুই দেশের মধ্যে যৌথভাবে পোক্ত কোনো চুক্তি হয়নি। দুই দেশের রাস্তাঘাট, অবকাঠামো নির্মাণ আর বাঁধ বন্যাকে বেশি প্রভাবিত করে। যত দিন যাচ্ছে ততই ভরাট হচ্ছে হাওর আর নদীর তলদেশ গুলো। New age এর প্রতিবেদন বলছে, শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের বহু নদী প্রায় মৃত অবস্থায় পরিণত হয়। কিন্তু বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ভারত ব্যারেজের ফ্লাডগেট খুলে দিলে প্রচুর পরিমাণে জল প্রবেশ করে বাংলাদেশে। যার ভার সইতে পারে না মৃতপ্রায় নদী গুলো।

    ভারত সরকার যে বিষয়টিকে একেবারেই আমল দিচ্ছে না, তা কিন্তু একেবারেই নয়। কোন দেশই চায়না প্রতিবেশী দেশ বন্যায় ডুবে যাক। শুধু বাংলাদেশ নয় প্রতিবছর বন্যায় মারাত্মক ক্ষতি হয় ভারতেরও। সাম্প্রতিক সময় ভারত সরকার দেশের সমস্ত নদীকে একত্রে যুক্ত করার জন্য কাজ করছে। উদ্দেশ্যে, অতিরিক্ত বৃষ্টির পর বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা। যেসব রাজ্যে বৃষ্টিপাত কম সেখানে জল পৌঁছে যাবে নদীর মাধ্যমে। তাই উত্তর পূর্ব থেকে পশ্চিমে এবং দক্ষিণ থেকে উত্তর ভারতের নদীগুলোকে সংযুক্ত করার কাজ চলছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণে দুই দেশ বহুবার নিজেদের মধ্যে আলোচনাও করেছে। কিন্তু প্রকৃতির সাথে লড়াই করা অতটাও সহজ নয়।

    স্বাভাবিক ভাবে, প্রশ্ন উঠছে গতবছরের মতো এবছরেও কি বাংলাদেশে বন্যা হবে? বিবিসির রিপোর্ট বলছে, আগামী কয়েকদিন উত্তর পূর্বাঞ্চল এবং উজানে ভারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যার কারণে বাড়তে পারে সুরমা, যাদুকাটা, সারিগোয়াইন সোমেশ্বরী নদীর জল। স্বল্প মেয়াদে বন্যা দেখা দিতে পারে সিলেট সুনামগঞ্জ এবং নেত্রকোনার কিছু অংশে। গত বছরের মতো তীব্র বন্যার আশঙ্কা আপাতত নেই, তবে মাঝারি বন্যা হতে পারে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Ukraine dam: নতুন বিপর্যয় নোভা কাখভকা! রাশিয়া নাকি ইউক্রেন, কাদের চক্রান্তে তলিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম?

    Ukraine dam: নতুন বিপর্যয় নোভা কাখভকা! রাশিয়া নাকি ইউক্রেন, কাদের চক্রান্তে তলিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    Ukraine dam: এবার কি বন্যায় ভাসবে ইউক্রেন? ইউক্রেনের নোভা কাখভকা বাঁধটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আশপাশের বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গ্রামের পর গ্রাম জলে তলিয়ে যাচ্ছে। বাঁধ ভাঙা নিয়ে চারিদিকে তোলপাড় চলছে। রাশিয়া ইউক্রেন দুই পক্ষই একে অপরকে দুষছে। এই বন্যা সর্বনাশা রূপ নিলে কি হবে? নোভা কাখভকা বাঁধ ভেঙ্গে কারা লাভবান হচ্ছে? কেন হামলা চালানো হলো এই বাঁধে? ঠিক কি ঘটেছিল? ইউক্রেনের নোভা কাখভকা জলাধার এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে এ যেন গোদের উপর বিষফোঁড়া! কি বলছেন বিশ্লেষকরা?

    ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে রাশিয়ার দখলকৃত বিশাল এলাকা এখন বন্যায় প্লাবিত। জলাধারের আশপাশের এলাকার মানুষকে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই বন্যা সর্বনাশা রূপ নিতে পারে। এতে ১৬ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নোভা কাখোভকা শহর থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে, ভবনগুলোর চারপাশে বন্যার জল। স্থানীয় সরকারি দপ্তরের চারপাশে রাজহাঁস ভেসে বেড়াচ্ছে। জলাধারের কাছে খেরসন শহরের নিচু এলাকার বাসিন্দাদের যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলা হয়েছে‌। আটটা গ্রাম বন্যার জলে তলিয়ে গেছে, আরও এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    বড় সর্বনাশ হয়ে গেছে। কারণ, এই জলাধারটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই জলাধার বিপুল পরিমাণ জল ধরে রাখে, যা থেকে উজানে থাকা লোকজন উপকৃত হন। কৃষকরা চাষাবাদের জন্য এই জলের ওপরেই নির্ভরশীল। সেই জল এতো কমে গেলে মানুষ কি করবে? না, শুধু এটুকুই নয়। জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে শীতল রাখতেও এই জলাধারের জল ব্যবহার করা হয়। আর এরকম চলতে থাকলে নিপ্রো থেকে ক্রিমিয়ায় জল সরবরাহও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া নিজেদের দখলে নেওয়ার পর ইউক্রেন নোভা কাখোভকা থেকে জল যাওয়ার চ্যানেলটা বন্ধ করে দেয়।এতে জলসংকট দেখা দেয়, তবে গত বছর পুরোদমে ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর রুশ বাহিনী চ্যানেলটা খুলে দেয়। সেক্ষেত্রে বাঁধ না থাকলে জলাধারের জলস্তর কমে গিয়ে আবারও ক্রিমিয়া বিপদে পড়তে পারে। কিন্তু রাশিয়া নাকি ইউক্রেন বাঁধ ধ্বংসের সঙ্গে যুক্ত কারা?বাঁধটি কেন ধসে পড়েছে?

    না, কারণ স্পষ্ট নয়। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ চলছে। বাঁধটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধও বলছে তারা। আর রাশিয়া বলছে, পাল্টা হামলার ব্যর্থতা আড়াল করতে ইউক্রেন নাশকতা চালিয়ে ওই বাঁধ ধ্বংস করেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইউক্রেনের দাবি রাশিয়া উড়িয়ে দিলেও, ওই অভিযোগের যুক্তিসংগত কারণ আছে। এটা হতে পারে যে মস্কোর আশঙ্কা ছিল পাল্টা আক্রমণ চালাতে ইউক্রেন, বাঁধের ওপরের সড়ক ব্যবহার করে দক্ষিণাঞ্চলের রুশ বাহিনীর উপর হামলা চালাতে পারে। আর ঠিক সেই কারণেই বাঁধটিকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া।

    যদিও উল্টো ইউক্রেনকেই দায়ী করছে রাশিয়া। তাঁরা বলছে, ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে জল থেকে বঞ্চিত করতেই এই ‘নাশকতা’ চালিয়েছে ইউক্রেন। বলতেই হচ্ছে, যেভাবে দুই পক্ষ একে অপরকে বাঁধ ভাঙ্গার জন্য দায়ী করছে, তাতে গত বছরের অমীমাংসিত নর্ডস্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইন বিস্ফোরণের ঘটনার সাথে এর মিল পাওয়া যাচ্ছে। মনে করে দেখুন, ওই ক্ষেত্রেও পশ্চিমাদের সন্দেহ গিয়ে পড়েছিল রাশিয়ার ওপরে। কিন্তু দুবারেই রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া, “এটা তারা করেনি, কারণ এতে নাকি তাদেরই ক্ষতি” যদিও, লাভ ক্ষতির হিসেবটা সময় এলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Round up 2022: বিশ্বজুড়ে যে প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলি ডেকে এনেছিল ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, বছর ঘুরে ফিরে দেখা

    Round up 2022: বিশ্বজুড়ে যে প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলি ডেকে এনেছিল ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, বছর ঘুরে ফিরে দেখা

    ।। প্রথম কলকাতা ।‌।

    Round up 2022: প্রতি বছরই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আমাদের দেশে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বিপর্যয় মোকাবিলায় হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। মূলত ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় ক্ষতি হয় সবচেয়ে বেশি। ২০২২ সাল তা থেকে বাদ গেল না। ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে গুজরাতে। বন্যার কবলে পড়েছিল বেশ কয়েকটি রাজ্য।

    মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঘূর্ণিঝড় তওতে (Tauktae) আছড়ে পড়েছিল গুজরাত উপকূলে। ঝড়ের ধাক্কায় প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। প্রাণহানি হয়েছিল অনেকের। ভারতে আরও তিনটি ঘূর্ণিঝড় তাণ্ডব চালিয়েছে এ বছর। মে মাসের শেষের দিকে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূলে তাণ্ডব চালিয়েছিল ঘূর্ণিঝড় ইয়াস (Yaas)। গত সেপ্টেম্বরে ঘূর্ণিঝড় গুলাব অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়েছিল। এরপর ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ ডিসেম্বরের প্রথম দিকে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টি ডেকে এনেছিল।

    দেশে বন্যা ও ভূমিধসে কয়কশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে এ বছর। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকে। সবচেয়ে বিপর্যস্ত হয়েছিল মহারাষ্ট্রের রত্নগিরি, রায়গড় ও সাতারা জেলা। ঐ এলাকাগুলোতে ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে। ব্যাপক বন্যার কবলে পড়েছিল পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ওড়িশা। একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল আরেক রাজ্য মধ্য প্রদেশেও। বন্যা কবলিত হয়েছিলেন কয়েক লাখ মানুষ। ব্যাপক বন্যার কবলে পড়েছিল আসাম ও মেঘালয়ও। আসাম ও মেঘালয়ের ২৫ জেলার অন্তত ১১ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আসামে ১ হাজার ৫১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল।

    মুষলধারে বৃষ্টির জেরে ভারতের উত্তরাঞ্চলে দেখা দিয়েছিল ভয়াবহ বন্যা। এর মধ্যে আসাম ও মেঘালয় রাজ্যে বড় বড় নদ–নদীর জলে প্লাবিত হয়েছিল জনপদ। এ দুই রাজ্যে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের ফলে ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে। বন্যা ও ভূমিধসে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।ব্রহ্মপুত্র নদ ও গৌরাঙ্গ নদীর জলে প্লাবিত হয় অনেক জেলা। ভারী বৃষ্টিতে মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশেও জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছিল ব্যাপকভাবে।

    পাশাপাশি ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল, সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ভারী বৃষ্টি হয়েছিল। এ ছাড়া দিল্লি, গুজরাট, উত্তরাখন্ড, ঝাড়খন্ড, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশে, ছত্তিশগড়, ওডিশা ও গোয়ায় ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়।

    জুলাই মাসে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিলেন অমরনাথ যাত্রীরা। মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানের জেরে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আটকে পড়েছিলেন পুণ্যার্থীরা।হড়পা বানের জেরে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আটকে পড়েছিলেন বাংলার পুণ্যার্থীরাও। অমরনাথ যাত্রায় গিয়ে হড়পা বানে মৃত্যু হয়েছিল এ রাজ্যের এক ছাত্রীর।

    ২০২২ সালে ভারতে তাপপ্রবাহ  ও বজ্রপাতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। শুধু তাই নয় এই ঘটনা গুলি উত্তরোত্তর বাড়ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। ২০২২ সালে শুধুমাত্র বজ্রপাতে এ দেশে ৯০০৭ জন মৃত্যু হয়েছে বলে ভূবিজ্ঞান মন্ত্রণালয় জানা গিয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার জন্য বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ভারতে তাপপ্রবাহ আট গুণ বেশি ছিল। সব মিলিয়ে বছরে ২৭ বার তাপপ্রবাহ এবং ১১১ বার বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় বজ্রঝড় পাঁচ গুণের বেশি বেড়েছে এবং এই সংখ্যা ছিল ২৪০।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম