Tag: Bankura

  • Inspirational story: এমএ, বিএড পাশ করে লোকাল ট্রেনে শাড়ি-কুর্তি বিক্রি বৃষ্টির! চোখে জল আনবে এই লড়াকু মেয়ের গল্প

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Inspirational story: এমএ, বিএড কম্প্লিট করে ট্রেনে ট্রেনে শাড়ি-কুর্তি ফেরি করছেন বাঁকুড়ার বৃষ্টি পাল। সংসার চালাতে বেছে নিয়েছেন হকারির রাস্তা। এই তীব্র দাবদাহে বৃষ্টির লড়াইকে কুর্নিশ আট থেকে আশির। বাঁকুড়ার এই লড়াকু নারীর গল্প শুনলে অনুপ্রাণিত হবেন আপনিও। চোখ ভেজাবে বৃষ্টি পালের জীবনের এই গল্প। বৃষ্টির এই লড়াইকাহিনী ইতিমধ্যেই আলোড়ন ফেলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

     

    তিনি বাঁকুড়ার বাসিন্দা, নাম সুপ্রিয়া পাল। যদিও মানুষ তাকে চেনে বৃষ্টি নামেই। কারণ রোজ এই নামেই ট্রেনে ট্রেনে শাড়ি ফেরি করেন ভূগোলে মাস্টার্স, বি.এড করা এই মেয়েটা। শুরুর দিকটা কঠিন মনে হলেও আজকে এই লোকাল ট্রেনটাই হয়ে উঠেছে তার স্বর্গ। লড়াকু বৃষ্টির এই কঠিন সফর আপনার চোখে জল এনে দিতে বাধ্য।

     

    বাঁকুড়ার এই মেয়েটার অতীত ঘাঁটলে জানা যায়, ভূগোলে অনার্স করেছিলেন তিনি। তারপর মাস্টার্সও করেন। চাকরির আশায় ভর্তি হন বিএড কলেজে। সেখানেও ভালো নম্বর নিয়ে পাশ করেন সুপ্রিয়া পাল ওরফে বৃষ্টি। তবে চাকরি আর কোথায়? চাকরি তো মেলেইনি, উল্টে একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে চাকরি খুইয়ে বসেন তার স্বামী। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে সংসার চালাবেন সেই ভাবনায় রাতের ঘুম উড়ে যাওয়ার জোগাড়।

     

    তবে কথায় আছে না, যার কেউ নেই তাকে নিজেকেই ঘুরে দাঁড়াতে হয়। হ্যাঁ, বৃষ্টিও ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন। আর পাঁচজনের মত ভেঙে না পড়ে, বেছে নিয়েছেন হকারির রাস্তা। আজও রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে সংসারের কাজ সেরে তিনি পাড়ি দেন স্টেশনের দিকে। গ্রীষ্মের প্রখর দাবদাহকে মাথায় নিয়েই রওনা দেন তিনি। তবে দুই হাতের ভারী ব্যাগের বোঝাটা এখন আর অতটাও ভারী লাগেনা তার। ট্রেনে উঠেই চলে বেচাকেনা। কাউকে নাইটি দেখাচ্ছেন, তো কেউ আবার বৃষ্টির শাড়ির কালেকশন দেখতে উদগ্রীব। এভাবেই হাসিমুখে চলে ব্যবসা। বিক্রিবাটা শেষ হলে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরে আসেন।

     

    ভূগোলের শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্নটা অধরা থেকে গেলেও লোকাল ট্রেনের লড়াইটা কিন্তু আজও জারি রয়েছে তার। ঐ সামান্য উপার্জন থেকেই স্বামীর জন্য একটা দোকানও করে দিয়েছেন তিনি। কারণ বৃষ্টি বিশ্বাস করেন, সংসার চালানোর দায়িত্ব যতটা একটা ছেলের ঠিক ততটাই একটা মেয়েরও হওয়া উচিত। তাই তো স্বামীর কঠিন সময়ে এক মূহুর্তের জন্যেও ভেঙে পড়েননি তিনি। উল্টে সংসারের হাল ধরতে নিয়েছেন চরম পদক্ষেপ।

     

    একই সাথে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছেন সমাজের আর পাঁচটা মেয়েকেও। সাধারণ ঘরের মেয়েদের কাছে বৃষ্টি আজ এক নজিরবিহীন উদাহরণ। সমাজের পিছিয়ে পড়া মেয়েদের উদ্দেশ্যে বৃষ্টি বলেন, ‘আমি মেয়েদের বলতে চাই, জীবনে কোনও পরিস্থিতিতেই হাল ছাড়বে না। লড়াই চালিয়ে যাবে। সময়ও তোমার কাছে এসে মাথা নত করতে বাধ্য করবে।’

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Paddy Seeds In Bankura: পাকা ধানে মই, দুঃচিন্তায় রাতের ঘুম উড়েছে বাঁকুড়ার চাষীদের

    ।। প্রথম কলকাতা।।

    Paddy Seeds In Bankura: কথায় আছে পাকা ধানে মই । আর সেটাই যেন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন বাঁকুড়ার চাষীরা।  চিন্তায় রাতের ঘুম উড়েছে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর ব্লকের লায়েকবাঁধের বড় অংকের কৃষকদের। কারণটা কী? হঠাৎ করে কী হল চাষীদের ? পাকাধানে পোকার আক্রমন নাকি রোগ কিছুই বুঝতে পারছেন না কৃষকরা। এদিকে প্রতিদিন বিঘের পর বিঘে ধানজমির ধান শুকিয়ে পরিনত হচ্ছে আখড়ায়। এত বড় ক্ষতির পরে এখন ঋন ধার ও মহাজনদের টাকা পরিষোধ করবেন কিভাবে তা ভেবে পারছেন না কৃষকরা। এই পরিস্থিতিতে সরকারী সহযোগিতার দাবি তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা।

    গ্রামের প্রায় ৪০০০ একর ধান জমির মধ্যে ৮০ শতাংশ ধান জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন এলাকার কৃষকরা। পোকার আক্রমন না রোগ তা পরিষ্কার নয় কৃষকদের কাছে। তবে এমন সমস্যা আগে কখনও সম্মুখীন হয়নি কৃষকরা। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের দাবি, ধান কাটার সময় ধানের জমির ধান শুকিয়ে ধান পরিনত হচ্ছে আখড়ায়। ধান গাছও ঝলসে শুকিয়ে যাচ্ছে নিমেশে। । শুধু লায়েকবাঁধ এলাকা নয় আশেপাশের গ্রাম গুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যার মধ্যে অন্যতম অর্জুনপুর, কাউবাসা এলাকার একটা অংশের কৃষকরাও। কৃষকরা জানিয়েছেন, খবর পেয়ে এলাকা পরিদর্শনে যায় কৃষি দফতরের কর্মরত আধিকারিকরা। তাদের কাছেও পরিষ্কার নয় ধান জমিতে এই ক্ষতি পোকার কারনে না রোগের কারণে। এদিকে পাকা ধানে বড় ক্ষতির মুখে পড়ে আতংকিত এলাকার কৃষকরা। এখন সরকারী সুযোগ সুবিধার আশায় বসে ক্ষতিগ্রস্থ চাষীরা। এই বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি জেলা কৃষি দফতরের তরফে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • বাড়ির বউকে পুজো করা হয় কালীরূপে, নারীকে অবহেলা নয়! শক্তিরূপে সম্মান জানানো নিয়ম

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    সময় এগোলেও সমাজ পিছিয়ে রয়েছে বহু জায়গায়। পুরুষতন্ত্রের দাপটে এখনও অনেক বাড়ির। বউ অপমানিত হন প্রতিদিন, প্রতিটা মুহুর্তে সেখানে প্রত্যন্ত গ্রামের এই পরিবারের পুরুষরা বড় বউমাকেই পুজো করে কালীরূপে। গলায় লাল জবার মালা মানুষের মধ্যেই ঈশ্বর বিরাজমান নারীর আসন পায়ের তলায় নয়! সব থেকে উপরে সমাজের সাথে লড়াই করতে করতে ঘরের এক কোণে ঠাঁই হয় বহু মহিলার। তাই মহিলাদের কোণঠাসা নয় তারাই যে শক্তির প্রতীক। চোখে আঙুল দিয়ে দিচ্ছে সাঁতরা পরিবার। একদিনের প্রথা নয় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলছে এমন নিয়ম। বাড়ির বউ পূজিত হন মা মুন্ডমালিনী রূপে। জ্যান্ত রূপে কীভাবে কালীর পুজো হয়? এই কালীপুজো দেখলে সত্যিই গায়ে কাঁটা দেবে আপনার।

    বাঁকুড়ার ইন্দাসের মির্জাপুর গ্রামের সাঁতরা পরিবারে দেবী সাজে বউদের পুজো করে বাড়ির বাকিরা। সাঁতরা পরিবারের বড় বউমা হীরালালা সাঁতরাকে এই বাড়ির সদস্যরা মা কালী হিসেবে সাজিয়ে তোলেন। ১০০ বছরেরও বেশি আগে থেকে বাড়ির বড় বৌকে মা কালী হিসেবে পুজো করা হচ্ছে। বাড়িতেই রয়েছে স্থায়ী মন্দির। বাড়ির পূজোতে প্রতিমা তৈরী করা চলে না। ঠিক কি কারণে এমন নিয়ম তা ঠিক করে জানেন না পরিবারের বাকি সদস্যরা। গলায় লম্বা জবা, নীলকণ্ঠের মালা, সামনে ত্রিশূল রাখা পুজোর দিনে হীরালালা দেবীই যেন সাক্ষাৎ মা কালী হয়ে যান। শুধু তাই নয় বছরের অনান্য দিনেও এই মন্দিরে আসেন দূর দূরান্ত থেকে অনেকেই।

    ফলহারিনী কালী পূজার দিন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ শ্রীমা সারদাদেবীকে ষোড়শী জ্ঞানে পূজা করেছিলেন। পরিবারে মহিলাদের স্থান কোথায় তা চিনিয়েছিলেন স্বয়ং শ্রীরামকৃষ্ণদেব। তারপর সাঁতরা পরিবার সত্যই যেন উদাহরণ হয়ে রইল।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • লক্ষ্মীর বাহন এখানে হাতি! দুর্গাপুজোর মতোই থিমের চমক

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    দুর্গাপুজোর পরেই মেতে ওঠা আর এক পুজো হলো লক্ষীপুজো। ঐতিহ্য, উৎসব, আড়ম্বর, থিম— কোনও কিছুই বাদ পড়ে না লক্ষ্মীপুজোয়। একদিকে যেমন দেখা যাচ্ছে থিমের আড়ম্বর তেমনি অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী শতাধিক বছর পুরনো লক্ষ্মী পুজো। কোন কিছুতেই আয়োজনে খামতি নেই। লক্ষ্মী পূজার থিমের চমক দিচ্ছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের সদিয়ালের লক্ষ্মীপুজো। ধর্ম বৈষম্যকে তুচ্ছ করে, মথুরাপুরের ঐতিহ্যের লক্ষ্মীপূজো সব রেকর্ড ভাঙছে। শিলিগুড়ির কামাক্ষ্যা বিশালাক্ষী মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে পুজো মণ্ডপ। আর মা লক্ষ্মী তৈরি হচ্ছে কয়েক হাজার বিভিন্ন জাতের লঙ্কা দিয়ে।

    পাশাপাশি হোগলা পাতা, ফুল দিয়ে নির্মাণ হচ্ছে লক্ষ্মণের শক্তিশেল আর কয়েক হাজার রাখী দিয়ে তুলে ধরা হবে সীতার বনবাস। দেখানো হবে বালেশ্বরের ট্রেন দুর্ঘটনা।মথুরাপুরের সদিয়াল জনকল্যাণ সমিতির সহযোগিতায় আমরা সবাই ভাই ভাই সঙ্ঘের পরিচালনায় পুজো এবার ১৭ বছরে পা দিয়েছে। কৃষ্ণচন্দ্রপুর পঞ্চায়েতের সদিয়াল গ্রামে শ’তিনেক মানুষের বাস। তাঁরা কেউ মৎস্যজীবী, কেউ কৃষিজীবী। তাঁরা প্রতি বছর পুজো শেষে মূর্তি বিসর্জনের পরের দিন থেকেই পরবর্তী বছরের জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে একটু একটু করে টাকা জমাতে শুরু করেন। সারা বছরের জমানো টাকা তুলে দেওয়া হয় পুজো কর্তাদের হাতে।

    অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী পুজোতে মেতে উঠছে বাঁকুড়ার রামকানালি গ্রামের মানুষ। এই গ্রামে লক্ষ্মীদেবীর বাহন পেঁচা নয়, হাতি। পুজোতে লক্ষ্মীর পাশাপাশি আরাধনা করা হয় গজরাজকেও।কেন এই ব্যাতিক্রমী পুজো জানেন? আজ থেকে ১২৬ বছর আগে যখন রামকানালি গ্রামে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সূচনা হয় তখন ওই গ্রামের চারিদিকে থাকা জঙ্গল আরও বেশি ঘন ছিল। সেই জঙ্গল থেকে মাঝেমধ্যেই গ্রামে হানা দিত হাতির দল। হাতির দলের হানায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হত মাঠের ফসলের। আর তাই মাঠের ফসলকে নির্বিঘ্নে লক্ষ্মীরূপে নিজের খামারে তুলে আনতে গজরাজদের শান্ত করার প্রয়োজন ছিল। সে কারণেই আজ থেকে একশো ছাব্বিশ বছর আগে ধনদেবীর আরাধনার সঙ্গে গজরাজের পুজো শুরু হয়।

    দেবী এখানে হাতির পিঠে অধিষ্ঠাত্রী। কালক্রমে সেই লক্ষ্মীপুজোই গজলক্ষ্মী হিসাবে পরিচিতি পায়। হাতির হানা থেকে ফসল বাঁচাতে কোজাগরীতে গজলক্ষ্মীর পুজো করেন রামকানালি গ্রামের মানুষ। প্রাচীন রীতি মেনেই আজও কোজাগরী পূর্ণিমায় এখানে গজলক্ষ্মীর আরধনায় মেতে উঠেন গ্রামের আট থেকে আশি। পুজোর স্বাদ নিতে গ্রামে হাজির হয় ভিন গ্রামের প্রচুর মানুষ। সব মিলিয়ে দূর্গা পূজার পর লক্ষ্মী পুজোয় আবারও নতুন করে মেতেছে বাঙালি। চারিদিকে আবার নতুন করে উৎসবে আমেজ দেখা দিচ্ছে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • বাংলার প্রাচীনতম দুর্গাপুজো কোথায় হয় জানেন? এখানে জাগ্রত দেবী পূরণ করেন ভক্তের মনোবাঞ্ছা

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    এখন রাজ্য জুড়ে বায়োয়ারি দুর্গাপুজোর ছড়াছড়ি। আগে পুজো হতো শুধু বনেদি বাড়িতেই। বাবুদের বাড়ির সেই পুজোকেই আপন করে নিতেন বাসিন্দারা। বাংলার প্রাচীনতম পুজো কোনটি জানেন কি? জানেন এখানকার পুজোর রীতিনীতি? এই পুজোর সবকিছুই আলাদা। এখানে পুজো হয় মহামারীরও। কেন? চলুন বিস্তারিত দেখে নেওয়া যাক এই প্রতিবেদনে। বরাবরই শক্তি আরাধনার ক্ষেত্র এই বাংলা। এখানে মহাশক্তি দেবী কালী রূপে বিরাজমান। তবে স্থানভেদে দেবীর নাম বিভিন্ন। আবার এই বাংলাই দুর্গা আরাধনায় সবচেয়ে বেশি উদ্যোগী। বাঙালির সবচেয়ে প্রাচীন পুজোটি হয় বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরে। তা মৃন্ময়ী মন্দিরের পুজো নামেও পরিচিত।

    কথিত আছে, মল্লরাজ শ্রীমন্ত জগৎমল্লদেব বন বিষ্ণুপুরের গভীর অরণ্যে দেবী দুর্গার স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। সেই স্বপ্নাদেশমতোই তাঁর রাজধানী তিনি প্রদ্যুম্নপুর থেকে বন বিষ্ণুপুরে স্থানান্তরিত করেন। এরপর ৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে রাজবাড়ির কাছেই রাজা জগৎমল্লদেব প্রতিষ্ঠা করেন মৃন্ময়ী দুর্গা মন্দির। দেবীর মূল বিগ্রহের মুখ ও অবয়ব গঙ্গার মাটি দিয়ে তৈরি। পণ্ডিতরা এই পুজোকে বাংলার প্রথম দুর্গাপুজো বলে মনে করেন। এই পুজোর আচার-অনুষ্ঠান প্রচলিত দুর্গাপুজোর আচার-অনুষ্ঠান থেকে অনেকটাই আলাদা। পরবর্তী সময়ে ঘট স্থাপন করে এখানে পটে আঁকা দুর্গার পুজো শুরু হয়।

    জিতাষ্টমী তিথির পরদিন ঘট স্থাপন করা হয়। এরপর পাশের ঝাড়খণ্ডের ছোটনাগপুরের রাজমহল থেকে রুপোর পাত দিয়ে তৈরি মহিষাসুরমর্দিনীকে আনা হয়। সেই মূর্তিকে বলা হয় বড়ঠাকুরানি। এরপর বড়ঠাকুরানিকে কৃষ্ণবাঁধে নবপত্রিকা-সহ স্নান করিয়ে বোধনের মাধ্যমে দুর্গাপুজো শুরু হয়। মানচতুর্থীর পরের দিন আবার লালরঙের কাপড়-সহ দেবীঘট মেজঠাকুরানির জল গোপালসায়র থেকে ভরে আনা হয়।মহাষষ্ঠীর দিন বিষ্ণুপুরের রাজা ও রানিকে দেবীপট বা ছোটঠাকুরানির দর্শন করানো হয়। সেদিনই শ্যামকুণ্ডের জলে দেবীপটকে স্নান করিয়ে বেলপাতা-সহ বোধন করা হয়। জিতাষ্টমী থেকে মহাষষ্ঠী পর্যন্ত চলে খিচুড়িভোগ।

    মহাষষ্ঠী থেকে মহানবমী পর্যন্ত চলে বাদশাভোগ চালের ভাত ও নিরামিষ পদ দিয়ে ভোগ। আগে এখানে কামান দেগে সন্ধিপুজো ও পশুবলি হত। সন্ধিপুজো চব্বিশ মিনিটের মধ্যে শেষ করা হয়। মহানবমীর শেষ রাতে মহামারীর পুজো হয়। এককালে কলেরার মড়কে মল্লভূম রাজ্যের ও রাজপরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই মহামারীর পুজো চলছে। দু’জন পুরোহিত রাজপরিবারের একজন সদস্যের উপস্থিতিতে দেবীঘটের দিকে পিছন ফিরে খচ্চর বাহিনীর পুজো করেন। পাঁচ পোয়া করে বাদশাভোগ চাল, মুগ ডাল, ঘি, কাঁচকলা ও সৌন্ধব লবণ দিয়ে রান্না করা বিশেষ ভোগ সূর্যোদয়ের আগেই রাজপরিবারের সদস্যদের খেয়ে নিতে হয়।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • কামানের তোপধ্বনি দিয়ে শুরু হয় সন্ধিপুজো! বাঁকুড়ার মালিয়াড়া রাজবাড়ীর ঐতিহ্যময় দুর্গা পুজো

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    কামানের তোপধ্বনি দিয়ে শুরু হয় সন্ধিপুজো, রাজবাড়ীর আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ইতিহাস! এক অনন্য উৎসবে মেতে ওঠে গোটা গ্রাম। বাঁকুড়ার মালিয়াড়া রাজবাড়ীর ইতিহাস আজও কথা বলে। শ্যাওলা পড়া দেওয়াল, নোনা লেগে যাওয়া ইট, চারপাশে আগাছার জঙ্গলে ঘেরা বাড়ি। আর তারই মাঝে কয়েকটি থামবিশিষ্ট ঠাকুর দালান৷ ঠাকুরদালান জুড়ে যেন কথা বলে উঠছে অতীত। নোনা ধরে যাওয়া ইটের পরতে পরতে জড়িয়ে ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রায় ৫০০ বছর ধরে চলে আসা পুজোর গন্ধ।

    দেওধর চন্দ্রাধুর্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রাজবাড়ির ঠাকুর দালান৷ দিল্লির মসনদে তখন মোঘল সম্রাট আকবরের রাজত্ব। কথিত আছে আকবরের মন্ত্রী মানসিং এর আদেশ নিয়ে, উত্তরপ্রদেশের কনৌজ থেকে বাংলায় আসেন দেওধর চন্দ্রাধুর্য্য। তারপরই রাজত্ব শুরু করেন বাঁকুড়ার মালিয়াড়ার এই চন্দ্রাধুর্য পরিবার। পুজোও শুরু হয় তখন থেকে। বংশ পরম্পরায় একের পর এক রাজা রাজত্ব করেন৷ বাঁকুড়ার মালিয়াড়া গ্রামের রাজার রাজত্ব একসময় বিস্তৃত ছিল উত্তরে দামোদর নদ থেকে দক্ষিনে শালী নদী পর্যন্ত। বিস্তৃত এই এলাকা থেকে সংগৃহীত রাজস্বে উপচে পড়ত রাজকোষ। আভিজাত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজবাড়িতে ধুমধাম করে পুজো হত দেবী দুর্গার।

    এখন সেই রাজাও নেই, রাজত্বও নেই। সে সব এখন অতীত। তবু রীতিনীতি, শাস্ত্রবিধি মেনে এই রাজবাড়িতে পুজো অব্যাহত। রাজ ঐতিহ্য বজায় রেখে সন্ধিপুজোয় আজও হয় তোপধ্বনি। ৫০০ বছরেরও বেশি পুরনো বাঁকুড়ার মালিয়াড়া রাজবাড়ির পুজো যেন এক আশ্চর্য মিলনমেলা। প্রতিদিন আশেপাশের গ্রামের মানুষজন রাজবাড়িতে পাত পেড়ে খান অন্ন ভোগ।

    ঐতিহ্য আর পরম্পরা মেনে মহালয়ার পরদিন প্রতিপদ থেকেই শুরু হয় দেবীর আরাধনা। ওইদিন রাজবাড়ির মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে অষ্টধাতুর তৈরী সিংহবাহিনী দেবী দুর্গাকে নাট মন্দিরের সামনের মণ্ডপে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই টানা ৯ দিন মায়ের পূজার্চনা চলে। বৈষ্ণব মতে পুজো হওয়ার কারণে এখানে চাল কুমড়ো বলি দেওয়া হয়‌ একটা সময় কামানের তোপধ্বনি দিয়ে শুরু হত সন্ধিপুজো। এখনও সেই নিয়ম প্রচলিত আছে। সেই শব্দ কানে গেলে তবেই আশপাশের গ্রামে শুরু হয় সন্ধিপুজো।কালের নিয়মে হারিয়ে গেছে রাজত্ব। ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিভিন্ন জায়গায় রাজপরিবারের সদস্যরা।সেই বৈভব আর নেই ঠিকই, কিন্তু নিয়ম-নিষ্ঠা ভক্তি দিয়েই মায়ের পুজো করে চলেছেন তাঁরা।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • বাঁকুড়ায় জলের তোড়ে ভেসে যাচ্ছে সব! সবজির দাম যে কারণে লাফিয়ে বাড়ছে

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    বাঁকুড়ায় চিন্তা বাড়াচ্ছে দারকেশ্বর নদ। নদী ভেসে নিয়ে যাচ্ছে সব। ডিভিসি-এর জলে ভেসে গেল বাঁকুড়ার বিঘার পর বিঘা চাষের জমি। এই ক্ষতি কীভাবে সামলে উঠবেন তা বুঝতে পারছেন না কৃষকরা। বাজারে আনাজের দামে আগুন। আরেকটু বৃষ্টি হলে কোন সর্বনাশ হতে পারে বাঁকুড়াবাসীর? নদীতে সারাবছর হাঁটুজল থাকে, তাকে এখন চেনা দায়। জলের শব্দে দিশেহারা মানুষজন। এদিকে টানা বৃষ্টি চলছে। আর সেই বৃষ্টির কারণেই দারকেশ্বর নদ যেন ফুঁসছে। জলস্তর বেড়ে যাওয়ার কারণে ডুবে গেছে একাধিক সেতু।ডিভিসি আরও জল ছাড়লে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হবে?

    দ্বারকেশ্বর নদ রীতিমতো বিধ্বংসী চেহারা নিয়েছে নদীতে প্রায় পাঁচ ফুট উচ্চতা বেড়েছে জলের প্রশাসনের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ এই নদ। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে চাষ করেছিলেন কৃষকরা। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে বাঁধে জলের পরিমাণ বিপুলভাবে বেড়ে যাওয়ায় ডিভিসি গত কদিন ধরে লাগাতার জল ছেড়ে চলেছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে বাঁকুড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায়। কৃষকদের চাষের জমি জলের তলায় চলে যাওয়ায় সমস্ত ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিঘার পর বিঘা সবজি ও ধান জমি চলে গেছে জলের তলায়। বিপুল ক্ষতির মুখে এখানকার কৃষকরা। গরমে বাঁকুড়ায় চাষবাসের ক্ষেত্রে প্রবল সমস্যা দেখা দেয় তখনও ক্ষতির মুখ দেখতে হয় কৃষকদের। এবার পুজোর আগেই অসময়ের ভারী বর্ষণে আবার মাথায় হাত পড়ল।

    যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। বাঁকুড়া জেলার বাজারগুলিতে আগুন দাম বাজারে ১০০ টাকা কেজি শসা, ২০০ টাকা কেজি লঙ্কা, ৮০ টাকা কেজি ফুলকপি। পুজোর আগে যে লাভের আশা তারা করেছিলেন তা আর হলনা। কমপক্ষে ৩০টি গ্রামের মানুষ চূড়ান্ত সমস্যায় পড়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল থেকে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ছাড়া জলের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনায় জেলার সোনামুখী, ইন্দাস ও পাত্রসায়ের ব্লকের নিচু এলাকাগুলিতে বন্যার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সেই আশঙ্কা আপাতত কেটেছে বলে জানিয়েছে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। তবে বৃষ্টি আরো হলে কি পরিস্থিতি হবে সেই নিয়ে চিন্তা রয়ে যাচ্ছে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • ভয়ানক কান্ড! ডুবে থাকা সেতু গিয়ে জলে ভেসে গেল ট্রাক্টর! কি হল যাত্রীদের?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    কী ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখুন। কোনটা নদী আর কোনটা রাস্তা বোঝা দায়। জলস্রোত বইছে চারদিক ভাসিয়ে। সেই জলের তলায় ডুবে রয়েছে সেতু। ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছিল একটি ট্রাক্টর। অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল সেটি।কিন্তু শেষ রক্ষা হলো কই! জলের তোড়ে ভেসে গেল ট্রাক্টরটি। কি হলো যাত্রীদের! দেশ বিদেশের এমন অনেক ছবি আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখি। কিন্তু এবার আমাদের ঘরের পাশেই ঘটে গেল এমন দুর্ঘটনা। কোথায় ঘটলো এমন ঘটনা জানেন কি?

    ডুবে থাকা সেতু দিয়ে নদী পার হতে গিয়ে জলের তোড়ে ভেসে গেল ট্রাক্টর। ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার মেজিয়া ব্লকের রামচন্দ্রপুর গ্রাম লাগোয়া এলাকায়। তখন জল দেখতে নদীর ধারে দাঁড়িয়ে ছিলেন কিশোর যুবকদের অনেকেই। তাদের সামনে দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে অদৃশ্য সেতু পার হতে এগোচ্ছিল ট্রাক্টরটি। বিপদ আঁচ করেই মোবাইলে ভিডিও করছিল উপস্থিত শিশু কিশোররা। সেই ভিডিওয় ধরা পড়ল এই ভয়াবহ দৃশ্য। এমনিতে এবার তেমন অতিরিক্ত মাত্রায় বর্ষন হয়নি। সেভাবে জল ছাড়েনি জলাধারগুলি। তা সত্বেও টানা বৃষ্টিতে এমন ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে দামোদরের এই শাখা নদী। তার জেরেই ঘটলো এমন ভয়াবহ ঘটনা।

    বাসিন্দারা বলছেন, গত পনেরো কুড়ি বছর ধরেই এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁদের। নদীতে জল বাড়লেই ডুবে যায় সেতু। তখন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হয়।সেতুটি উঁচু হলে এই দুর্ঘটনা ঘটতো না। দুর্ঘটনার সময় ওই ট্রাক্টরে চালক সহ ৬ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ট্রাক্টর ছেড়ে সাঁতার কেটে পাড়ে উঠে আসেন চালক সহ যাত্রীরা। মেজিয়া ব্লকে রামচন্দ্রপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে দামোদরের শাখা নদী। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে এই নদীতে জলস্তর বেড়েছে অনেকটাই। নদীর ওপর থাকা নিচু সেতুর ওপর দিয়ে বেগে বইতে শুরু করে জল।

    জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই জল পেরিয়েই ট্রাক্টর নিয়ে রামচন্দ্রপুর থেকে মেজিয়ার দিকে যাচ্ছিলেন চালক।ইঞ্জিনের দুপাশের সিটে ও পিছনের ট্রলিতে বসে ছিলেন আরো পাঁচ জন শ্রমিক। সেতু দিয়ে পেরোনোর সময় আচমকাই জলের তোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারান চালক। যাত্রী সহ ট্রাক্টরটি সেতু থেকে নিচের দিকে নেমে যায়। চালক ও যাত্রীরা প্রত্যেকেই কোনোক্রমে সাঁতার কেটে পাড়ে ওঠেন।এলাকার মানুষের অভিযোগ, সেতু নীচু হওয়ার প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটে। অবিলম্বে ওই স্থানে উঁচু সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • নেই সেতু, প্রাণ হাতে নিয়ে নদী পার হচ্ছে মানুষ! ভয়ঙ্কর দৃশ্য বাঁকুড়ায়

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    নদীর দু’ধার সাদা কাশ ফুলে ঢাকা। নৌকার সাহায্যে নদীর এপার ওপার করছেন একদল মানুষ। কেউ এসেছেন সাইকেল নিয়ে, কেউ পায়ে হেঁটে আবার কেউ বা বাইকে করে। নদীর এপার থেকে ওপার যেতে গেলে একমাত্র ভরসা দাঁড় টানা নৌকা। চারিদিকে অসাধারণ প্রাকৃতিক পরিবেশ থাকলেও, বলছে বহু মানুষের যন্ত্রণার কথা। এটা কোন সিনেমার দৃশ্যপট নয়। যে মানুষগুলো নৌকা পারাপার করছেন তাদের মধ্যে কাজ করছে এক রাশ আতঙ্ক আর ভয়। এই বুঝি কোন দুর্ঘটনা ঘটে গেল। প্রায় এক যুগ পেরিয়ে গেছে। মানুষ আশ্বাসও পেয়েছে। কিন্তু নদীর এপার থেকে ওপারে যাওয়ার জন্য কোন ব্রিজ তৈরি হয়নি। তাই ভরসা বলতে কাঠের নৌকা। এই ছবি বাঁকুড়া জেলার ওন্দা ব্লকের গামিদ্যা এবং ওন্দা শহরের মাঝে।

    নদী ব্রিজের কাজ যে শুরু হয়নি এমনটাও নয়। আসলে কাজ শুরু হলেও শেষ হয়নি। গেলে দেখতে পাবেন, ব্রিজের থামগুলো জলের মাঝে দাঁড়িয়ে রয়েছে। পাশে পড়ে রয়েছে বহুদিন ধরে পড়ে থাকা জং ধরা লোহা। অসমাপ্ত ব্রিজের নিচে ছুটে চলেছে দারকেশ্বর নদীর জল। তাই সংযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠেছে নৌকা। অথচ এভাবে নদী পারাপার বেশ মুশকিল এবং ঝুঁকিপ্রবণ। বেশ কয়েকটা দুর্ঘটনাও ঘটেছে।

    এই সমস্যায় ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা দিপালী মুখার্জীর মতে, জীবনে ঝুঁকি নিয়ে তারা যাতায়াত করেন ।নৌকাও বেশিদিন চলে না। খুব জল থাকলে তবেই নৌকা চলে। কম জল থাকলে হেঁটে হেঁটে পার হতে হয় নদী । তখন কোথাও কোমর জল, আবার কোথাও গলা পর্যন্ত জল। একটু বেশি জল হলে যে কেউ ডুবে যেতে পারেন। এমনকি মারাও যায় মানুষ। আর এক স্থানীয়র মতে, এই এলাকায় চাষবাস থেকে শুরু করে শিক্ষার উন্নতি হবে যদি একটা ব্রিজ হয়। মাত্র ১০ মিনিটের রাস্তা যেতে সময় লেগে যায় দুই থেকে তিন ঘন্টা। নদীর একধারে যদি বড় কোনো অপরাধ বা দুর্ঘটনা ঘটে যায়, থানায় ফোন করলেও দ্রুত ঘটনাস্থলে কেউ আসতে পারবেন না। কারণ একটাই, যথাযথ যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। এলাকাবাসী চাইছে খুব দ্রুত নদী ব্রিজের কাজ শেষ হোক। তাহলেই তারা এই ভয়, আশঙ্কা আর ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবেন। নিরাপদে পারাপার করতে পারবেন নদী।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • ৩ কিলো ওজনের জাম্বো জিলিপি খাননি ? তবে তো বড় মিস করছেন! জানুন কোথায় পাবেন

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    এ জিলিপি যেমন তেমন জিলিপি নয় একেবারে জাম্বো সাইজ। একেকটি জিলিপি একজন মানুষ তো নয়ই পাঁচজন মিলে খেতে পারবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। ভাদ্রের শেষে বাঁকুড়ায় এক বিশেষ জায়গার মানুষ জিলিপি নিয়ে মাতামাতি শুরু করে দেন। এই শাহী মিষ্টির ইতিহাস জানেন? কেন বছর বছর জিলিপির উৎসব হয়ে আসছে? বিশ্বকর্মা পুজো মানেই কেঞ্জাকুড়ার মেগা জিলিপি। কার তৈরি জিলিপি কত বড় সে নিয়ে বিক্রেতাদের মধ্যে চলতে থাকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়া মেগা জিলিপি নিয়ে রেডি। একটা জিলিপির দামই তিনশো থেকে সাতশো টাকা। বিউলির বেসন, চাল গুঁড়ো, ময়দায় তৈরি বনস্পতিতে ভাজা। জিলিপির এক একটির ওজন কম করে তিন থেকে চার কেজি। অনেকেই আত্মীয়দের উপহারও দেন এই জিলিপি। এই জাম্বো সাইজের মিষ্টির বানানোর পিছনে কারণটা ঠিক কী?

    শোনা যায়,পঞ্চকোট রাজ নীলমনি সিংহ দেও-র তৃতীয়া কন্যা ভদ্রাবতীর অকালমৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতিতেই রাঢ়বাংলায় ভাদু পুজোর সূচনা করেছিল রাজ পরিবার। সেই সময় দ্বারকেশ্বর নদের তীরে থাকা বাঁকুড়ার প্রাচীন গ্রাম কেঞ্জাকুড়ায় রীতিমতো জাঁকজমকের সঙ্গে পুজো করা হত। সারা ভাদ্র জুড়ে ঘরে ঘরে লোকগানের মাধ্যমে ভাদু আরাধনার পাশাপাশি সংক্রান্তিতে হত ভাদুর জাগরণ। এই জাগরণে রাতভর বাড়িতে বাড়িতে চলত হুল্লোড়, নাচ গান আর দেদার খাওয়া দাওয়া আয়োজন। উপাচারে প্রতিবেশীর ভাদু পুজোকে টপকে যাওয়ার প্রতিযোগিতাও চলত। সেই প্রতিযোগিতাতে ভাদুর সামনে জিলিপি দেওয়া হত। জিলিপির আকারে অন্যের ভাদু পুজোকে টেক্কা দিতে সকলেই বড়, আরও বড় জিলিপির বরাত দিতে থাকেন। কেঞ্জাকুড়ার মিষ্টি ব্যবসায়ীদের এভাবেই ধীরে ধীরে কেঞ্জাকুড়ার জাম্বো জিলিপি আসে সময়ের সঙ্গে পুজোর জনপ্রিয়তায় এখন ভাঁটার টান এসেছে ঠিক কিন্তু জাম্বো জিলিপি নিয়ে মাতামাতি কমেনি একচুলও কমেনি।

    ভাদ্র সংক্রান্তি মানেই ভোরে স্নান সেরে পাত্রে ফুল নিয়ে বা গোবরের উপর ধান ছড়িয়ে ভাদুর রূপ কল্পনা করে তাঁর আরাধনা। মানভূম অঞ্চলে ঐতিহ্য মেনে এ  আরাধনায় সামিল হন মূলত কুমারীরাই। ভাদুকে নিয়ে বহু লোককথাও প্রচলিত রয়েছে এই এলাকায়। এই লোক উৎসবকে ঘিরেই বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়া মেতে ওঠে জিলিপির উৎসবে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Exit mobile version