Nepal Flash Flood: তিব্বত সীমান্ত লাগোয়া নেপালে বুধবার সকালে আচমকা ভয়াবহ হড়পা বান। ভুটে কোশি নদীর জল আচমকা ফুলে উঠে রসুয়া জেলার তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। নদীর স্রোতে ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি, যানবাহন, রাস্তা ও সেতুর একাধিক অংশ। নেপালের পর্যটন বোর্ডের প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, মোট ৩৮৪ জন পর্যটক ও যাত্রী নিখোঁজ, তাঁদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় রয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে অন্তত আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। নেপাল সেনা, সশস্ত্র পুলিশ ও নেপাল পুলিশ উদ্ধারকাজে নেমেছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং অতিরিক্ত জলস্তরের কারণে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলিও সব জায়গায় নামতে পারছে না।
আচমকা ফুলে উঠল ভুটে কোশি নদী
স্থানীয় সময় বুধবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে ভুটে কোশি নদীতে আচমকা জলস্তর বেড়ে যায়। নেপালের রসুয়া জেলার তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি এলাকায় তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। প্রবল স্রোতে বসতি, রাস্তা, সেতু এবং বিভিন্ন পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীর জল পরে নিম্নাঞ্চলের দিকে এগিয়ে যায়।
নেপাল কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেনি হড়পা বানটির সঠিক কারণ কী। প্রাথমিকভাবে তিব্বতের দিকে ভূমিধস বা বরফধসের কারণে নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে আটকে গিয়ে পরে আচমকা জল নেমে আসার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিছু বিশেষজ্ঞ হিমবাহ-হ্রদ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও পরীক্ষা করছেন।
১০৫ ভারতীয় নিখোঁজ, তালিকায় ৩৮৪ জন
এই বিপর্যয়ের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হল বিপুল সংখ্যক পর্যটক ও যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। নেপাল পর্যটন বোর্ডের প্রাথমিক তালিকায় ৩৮৪ জনের নাম রয়েছে, যার মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়ের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—১০৫ জন। আরও ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন।
কাঠমান্ডু পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া প্রায় ৩৯০ জন তীর্থযাত্রী বুধবার তিব্বতে যাওয়ার জন্য সীমান্ত পার হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৯৩ জন নেপালি ছিলেন। বাকি অধিকাংশই ভারতীয় বলে জানানো হয়েছে। তাঁদের অনেকের সঙ্গেই এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধারকাজে বাধা, বাড়ছে উদ্বেগ
নেপাল সেনা, সশস্ত্র পুলিশ এবং নেপাল পুলিশ উদ্ধার ও ত্রাণকাজে মোতায়েন হয়েছে। নেপাল সেনার পক্ষ থেকে ১৪টি হেলিকপ্টার উদ্ধার অভিযানে ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জলস্তর অত্যন্ত বেশি থাকায় বেশ কিছু জায়গায় হেলিকপ্টার নামানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
রসুয়া জেলায় বহু নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ২৬ জন পুলিশকর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে নেপাল সেনা ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও উদ্ধার অভিযানে নামানো হয়েছে।
নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলির বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ বন্যার জল নিচের দিকে আরও এগিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভেসে গেল রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎ প্রকল্প
হড়পা বানের ধাক্কায় শুধু বসতি নয়, নেপালের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তা ও সেতুর পাশাপাশি একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন পরিকাঠামো ক্ষতির মুখে পড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে নেপালের জ্বালানি মন্ত্রকের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এই বিপর্যয়ে ব্যাহত হয়েছে।
রসুয়া থেকে তিব্বতের দিকে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পথও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি বাণিজ্য ও যাতায়াত ব্যবস্থাতেও বড় প্রভাব পড়েছে।
এদিকে তিব্বতের গিরং কাউন্টিতেও ভূমিধস ও বন্যার কারণে ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে। যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা
উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে এবং দুর্গম এলাকাগুলিতে পুরোপুরি পৌঁছনো সম্ভব হয়নি। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। নেপাল কর্তৃপক্ষও সতর্ক করেছে যে ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ চিত্র সামনে আসতে সময় লাগবে।
এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নিখোঁজ ভারতীয় পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের নিয়ে। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। নেপাল ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে তাঁদের সন্ধান ও পরিচয় নিশ্চিত করার কাজও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রকৃতপক্ষে, এই বিপর্যয় শুধু নেপালের একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; তিব্বত সীমান্তের দুই পাশেই এর প্রভাব পড়েছে। পাহাড়ি নদীর আচমকা জলস্তর বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার করাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
#NepalFlashFlood #NepalFlood #IndianTouristsMissing #NepalTibetBorder #FlashFloodDisaster #NepalFloodNews #RescueOperation

