Bangladesh India Diesel Supply: একদিকে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দু’বছর পূর্তিতে তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে, সেই সময়েই জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য ভারতের দ্বারস্থ হয়েছে বাংলাদেশ। ডিজেলের বাড়তি সরবরাহ চেয়ে দিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা।
বৃহস্পতিবার ঢাকার সচিবালয়ে ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, বিশেষ করে জ্বালানি খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশের জ্বালানিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশের জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে সেই সরবরাহ আরও বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে ভারতের কাছে। তাঁর মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এছাড়া তিনি বাংলাদেশের গ্যাস পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। মন্ত্রীর দাবি, গ্যাসের ঘাটতির কারণে কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করায় সেই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলি ধাপে ধাপে আবার চালু করা হচ্ছে।
বিদ্যুতের বিল বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ এলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তদন্তে দেখা গেছে, বিদ্যুতের ব্যবহার অনুযায়ীই বিল এসেছে। একইসঙ্গে তিনি জানান, জুন মাস থেকে বিদ্যুতের নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।
এদিকে, সম্প্রতি ভারত থেকে আমদানি করা চালের একটি অংশের মান নিয়ে বাংলাদেশে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, চালের একটি অংশ মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়। সেই চাল ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতির খবর প্রকাশ্যে আসে। এর মধ্যেই আবার ভারতের কাছেই অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের আবেদন জানানো হয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতার গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর অনুরোধের বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে এখনও প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা কীভাবে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।
সামগ্রিকভাবে, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহের মধ্যেও জ্বালানি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বার্তাই উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এই বৈঠক থেকে। আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কোন পথে এগোয়, তা এখন কূটনৈতিক মহলের অন্যতম আলোচনার বিষয়।

