Adi Mahakali Pathshala Mid Day Meal: রাজ্যজুড়ে ইসকনের উদ্যোগে বিদ্যালয়গুলিতে পরিবেশিত নিরামিষ মধ্যাহ্নভোজন কতটা গ্রহণ করছেন পড়ুয়ারা, তা খতিয়ে দেখতে আদি মহাকালী পাঠশালায় পৌঁছেছিল প্রথম কলকাতার প্রতিনিধি। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণির পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে তাদের অভিজ্ঞতা, পছন্দ-অপছন্দ এবং একটি ছোট্ট আবদারও।
ষষ্ঠ শ্রেণির অম্বিকা রঞ্জিত, সপ্তম শ্রেণির সৃষ্টি ভদ্র, সপ্তম শ্রেণির শ্যামা ভৌমিক-সহ একাধিক পড়ুয়া জানায়, আগের তুলনায় এখনকার খাবারের স্বাদ অনেক বেশি ভালো লাগছে। একদিন ভাত-ডাল, অন্যদিন ভাত-সয়াবিন—এই খাবার তারা আনন্দের সঙ্গেই খাচ্ছে। নিরামিষ খাবার নিয়েও তাদের কোনও আপত্তি নেই। তবে পড়ুয়াদের একটাই অনুরোধ, ডালের সঙ্গে যদি একটু ভাজা বা আলুর কোনও পদ দেওয়া হয়, তাহলে খাবার আরও ভালো লাগবে।
পড়ুয়ারা আরও জানায়, ডিম খেতে তাদের ভালো লাগলেও নিরামিষ খাবার নিয়েও তারা সন্তুষ্ট। তাদের মতে, বর্তমানের খাবার সুস্বাদু এবং আগের তুলনায় অনেক বেশি উপভোগ করে খাচ্ছে তারা।
এই বিষয়ে আদি মহাকালী পাঠশালার প্রধান শিক্ষিকা পঞ্চতপা ভাদুড়ি প্রথম কলকাতাকে জানান, বিদ্যালয়ের অধিকাংশ পড়ুয়াই আগ্রহের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজন করছে। তাঁর কথায়, “বাচ্চাদের কাছে খাবারের স্বাদ খুব ভালো লাগছে। ডিমের চাহিদা অবশ্যই রয়েছে, কিন্তু নিরামিষ খাবার নিয়েও তারা খুশি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তারা আনন্দের সঙ্গে খাবার খাচ্ছে।”
তিনি জানান, পড়ুয়াদের তরফ থেকেও ডালের সঙ্গে একটি ভাজা বা আলুর কোনও প্রস্তুত পদ দেওয়ার দাবি এসেছে। তাঁর মতে, সামান্য একটি সাইড ডিশ থাকলে শিশুদের খাবার আরও পরিপূর্ণ হবে এবং তারা আরও আনন্দের সঙ্গে খেতে পারবে।
তবে শুধু খাবারের বিষয় নয়, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক একটি সমস্যার কথাও তুলে ধরেন প্রধান শিক্ষিকা। তিনি বলেন, আগে যারা মধ্যাহ্নভোজন সরবরাহ করতেন, তারাই ব্যবহৃত বাসনপত্র নিয়ে চলে যেতেন এবং পরিষ্কার করে পরদিন আবার সেই বাসনেই খাবার পরিবেশন করা হতো। কিন্তু বর্তমানে সেই ব্যবস্থা নেই। ফলে বিদ্যালয়কেই বাসন সংরক্ষণ ও পরিষ্কারের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষিকা পঞ্চতপা ভাদুড়ির বক্তব্য, অনেক সরকারি বিদ্যালয়ের মতো তাঁদের বিদ্যালয়েও গ্রুপ-ডি কর্মীর অভাব রয়েছে। ফলে বাসন পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো অতিরিক্ত কাজ সামলাতে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। তিনি জানান, যদি এই কাজে একজন বা দু’জন সহায়ক কর্মী নিয়োগ করা হয়, তাহলে বিদ্যালয়ের পক্ষে কাজ করা অনেক সহজ হবে।
তিনি স্পষ্ট করেন, এটি তাঁর ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ হলেও, রাজ্যের আরও বহু বিদ্যালয় একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বলে তাঁর ধারণা।
আদি মহাকালী পাঠশালায় ইসকনের পরিবেশিত নিরামিষ মধ্যাহ্নভোজন নিয়ে পড়ুয়াদের প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক। খাবারের স্বাদ নিয়ে তারা সন্তুষ্ট হলেও, ডালের সঙ্গে একটি ভাজা বা আলুর পদ এবং বিদ্যালয়ে সহায়ক কর্মী নিয়োগ—এই দুই দাবিই এখন প্রধান হয়ে উঠেছে।
আদি মহাকালী পাঠশালায় মধ্যাহ্নভোজন কর্মসূচি পরিদর্শনের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পঞ্চতপা ভাদুরী-র হাতে তুলে দেওয়া হয় সময়ের প্রথম কলকাতা সংবাদপত্রের একটি কপি। পত্রিকাটি হাতে নিয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং মনোযোগ দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও শিরোনাম পড়ে দেখেন।
পাঠের শেষে তিনি জানান, সময়ের প্রথম কলকাতা-র উপস্থাপনা, খবরের বিষয়বস্তু এবং বিশেষ করে শিরোনামগুলির বিন্যাস তাঁর কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় বলে মনে হয়েছে। প্রধান শিক্ষিকা পঞ্চতপা ভাদুড়ি সময়ের প্রথম কলকাতা-র আগামী দিনের সাফল্য কামনা করে সম্পাদকীয় টিমের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
#AdiMahakaliPathshala #MidDayMeal #ISKCON #GovernmentSchool #WestBengal #SchoolEducation #SchoolNutrition #StudentsVoice #EducationNews #HealthyMeals
