Abhishek Banerjee Foreign Treatment: চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবারও কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, আপাতত তাঁকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। আদালতের মতে, ভারতে উন্নতমানের চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ থাকলে এই মুহূর্তে বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা যাচ্ছে না।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ জানিয়েছে, চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যথাযথ চিকিৎসা পাওয়া—তা দেশে হোক বা বিদেশে। তাই আগে রাজ্যের সরকারি এসএসকেএম হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামত নেওয়া হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।
কেন বিদেশে যেতে চেয়েছিলেন অভিষেক?
তৃণমূলের দাবি, ২০১৬ সালে মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় ফেরার পথে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর দেশে প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি বিদেশেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা হয়। সেই চিকিৎসারই নিয়মিত ফলো-আপের জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন তিনি।
আদালত কেন অনুমতি দিল না?
কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে, বর্তমানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ভয়প্রদর্শনমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, তদন্ত চলাকালীন কোনও অভিযুক্তকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিচারপতি বলেন, ভারতে যদি একই মানের চিকিৎসা সম্ভব হয়, তাহলে বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা আদালত এই মুহূর্তে দেখছে না।
এর আগেও ২০ জুলাই একই আদালত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশে চিকিৎসার আবেদন খারিজ করেছিল। তখনও আদালত জানিয়েছিল, কলকাতাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় উন্নতমানের চক্ষু চিকিৎসা উপলব্ধ।
এসএসকেএম হাসপাতালে মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এসএসকেএম হাসপাতালে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে চক্ষু বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে।
এই বোর্ড পরীক্ষা করে দেখবে—
তাঁর চোখের বর্তমান অবস্থা কী।
ভারতে চিকিৎসা সম্ভব কি না।
বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা কতটা রয়েছে।
মেডিকেল বোর্ডকে শুক্রবার আদালতে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করার পরই আদালত সিদ্ধান্ত নেবে, অভিষেককে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়া হবে কি না।
সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছিলেন অভিষেক
কলকাতা হাইকোর্টের আগের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর দাবি ছিল, তিনি তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা করেছেন। তাই চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।
সোমবার সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টকে এক সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি শুনে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই বুধবার নতুন করে শুনানি হয়।
বিরোধীদের অভিযোগ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ সফরের আবেদন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে।
বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি হাসপাতালেই উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিদেশে যাওয়ার আবেদনের আড়ালে দেশ ছাড়ার কোনও পরিকল্পনা থাকতে পারে।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের আরও কিছু নেতা অভিযোগ করেন, সাংসদ হিসেবে কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশে গেলে ভবিষ্যতে আইনি প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। দলের নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুতর চক্ষু সমস্যায় ভুগছেন এবং সেই কারণেই নিয়মিত বিদেশে চিকিৎসা করাতে হয়। বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং না দেওয়ার আবেদনও জানান তিনি।
এখন নজর এসএসকেএম হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্টের দিকে। চিকিৎসকদের মতামতেই নির্ধারিত হবে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসা ভারতে সম্ভব কি না, নাকি বিদেশে যাওয়া চিকিৎসাগতভাবে অপরিহার্য। সেই রিপোর্ট পাওয়ার পরই কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর বিদেশযাত্রা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
#AbhishekBanerjee #KolkataHighCourt #ForeignTreatment #SSKMHospital #MedicalBoard #EyeTreatment #WestBengal #CourtUpdate #BreakingNews #Healthcare

