টিএন শেষনের ‘একক ক্ষমতা’র লড়াই হঠাই প্রাসঙ্গিক

Supreme Court of India emblem in context of the ECI internal power balance Supreme Court ruling on CEC powers.

Written by

in

ECI internal power balance Supreme Court ruling: নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্কের মধ্যেই সামনে এসেছে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) টিএন শেষনের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যের সেই ঐতিহাসিক সংঘাত এবং তার পরিণতিতে সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়। প্রায় তিন দশক আগে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছিল– বহু-সদস্যের নির্বাচন কমিশনে শুধু সিইসি হওয়ার কারণে কোনও সদস্যের একক সিদ্ধান্তের অধিকার নেই।
সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনে সিইসি-এর পাশাপাশি প্রয়োজনে অন্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। ১৯৫০ সালে নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় এটি ছিল এক সদস্যের প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন সেই কাঠামোই বজায় ছিল। ১৯৮৯ সালে প্রথমবার দুই নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হয়। তবে সেই ব্যবস্থা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৯০ সালে ফের কমিশন এক সদস্যের কাঠামোয় ফিরে যায়। সেই সময়ই টিএন শেষন সিইসি হন এবং নির্বাচন পরিচালনায় কঠোর অবস্থানের জন্য দ্রুত বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেন।
১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমা রাওয়ের সরকার এম এস গিল এবং জি ভি জি কৃষ্ণমূর্তিকে নির্বাচন কমিশনার হিসাবে নিয়োগ করে। ফলে নির্বাচন কমিশন আবার তিন সদস্যের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। কিন্তু শেষন এই ব্যবস্থাকে সহজভাবে মেনে নেননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, সিইসি-এর সাংবিধানিক অবস্থান অন্য নির্বাচন কমিশনারদের তুলনায় পৃথক এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সিইসি-এর বিশেষ কর্তৃত্ব থাকা উচিত। দুই নতুন কমিশনারের নিয়োগ এবং বহু-সদস্যের কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতিকে তিনি সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেন।
বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চে পৌঁছয়। পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ ১৯৯৫ সালের জুলাইয়ে সর্বসম্মতভাবে বহু-সদস্যের নির্বাচন কমিশনের বৈধতা বহাল রাখে। আদালতের বক্তব্যের মূল তাৎপর্য ছিল, কমিশনে একাধিক সদস্য থাকলে সিইসি শুধু চেয়ারম্যান হওয়ার কারণে অন্য কমিশনারদের উপর একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারেন না। সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংখ্যাগরিষ্ঠতার নীতি প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, দুই নির্বাচন কমিশনার যদি কোনও বিষয়ে সিইসি-এর বিপরীত মত পোষণ করেন এবং সেই মত সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়, তাহলে সেটিই কমিশনের সিদ্ধান্ত হতে পারে।
আদালত আরও স্পষ্ট করে দেয়, সংবিধান বহু-সদস্যের নির্বাচন কমিশনের সুযোগ রেখেছে। কমিশন বহু-সদস্যের হওয়ার অর্থ, তার কার্যক্রমে প্রত্যেক সদস্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শেষন অবশ্য রায় মেনে সেখানেই থেমে যাননি। তিনি রিভিউ পিটিশন দাখিল করেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তা খারিজ করে দেয় এবং রায় পুনর্বিবেচনার কোনও কারণ দেখেনি।